একদা হযরত মূসা (আঃ) কে লক্ষ্য করিয়া আল্লাহ পাক এরশাদ করিলেন, “হে মূসা! তুমি যদি ওয়াদা ভঙ্গকারী ও আমানতের খেয়ানতকারীর যাতনা ও অধঃমুখে টানিয়া জাহান্নামে ফেলিবার অবস্থা প্রত্যক্ষ করিতে তবে অনুধাবন করিতে পারিবে উহা কত বড় জঘন্য পাপ। আর দোযখীদের বাহুগুলি একস্থানে শিরাগুলি অন্যস্থানে ও অন্তরগুলি বিভিন্নস্থানে ছিটকাইয়া পড়িবে। আমানত-খেয়ানতকারী ও ওয়াদা ভঙ্গকারীর কষ্ট ও যাতনার সীমা থাকিবে না। যখন যাক্কুম গাছের ডালে তাহাদিগকে শুলি দেওয়া হইবে। তাহাদের বাহ্যরাস্তা দিয়া অগ্নি ঢুকিয়া নাক, মুখ, কান ও চক্ষু দিয়া বাহির হইবে, তাহাদিগকে শয়তানের সহিত একই জিঞ্জিরে ও তৌকে বাঁধিয়া রাখা হইবে। তৌক তাহাদের দন্তরাজিও মুখের উপর পড়িয়া থাকিবে। আযাবের যাতনার ফলে তাহাদের মগজ নাকের ভিতর দিয়া বাহির হইবে। এক দন্ডের জন্যও তাহাদের আযাব কম করা হইবে না। কাফেরগণ ওয়াদা ভঙ্গকারী ও আমানতে খেয়ানতকারীর আযাব হইতে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিবে। ওয়াদা ভঙ্গকারী ও আমানত খেয়ানতকারীগণ নামায তরককারী ও জ্বিনাকারীর আযাব হইতে মুক্তি কামনা করিবে। তাহাদিগকে হোকবার পর হোকবা আযাব দেওয়া হইবে। (আশি বৎসরে এক হোকবা হয়।) হুযুর করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলিয়াছেন, “যদি সমস্ত সাগরের পানি কালি হয়, যাবতীয় গাছ-পালা কলম হয়, মানুষ ও জ্বিন উহাদ্বারা দোযখে বসবাসের সময় নিরূপণ করিতে শুরু করে, তথাপি তাহাদের নির্ণেয় অংক শেষ হইবার অনেক আগেই সবকিছু শেষ হইয়া যাইবে। অনুরূপ সত্তর গুণ কালি কলম হইলেও শেষ করা যাইবে না; কিন্তু উপকরণ শেষ হইবার পূর্বেই মানুষ-জ্বিন সকলেই ধ্বংস হইয়া যাইবে।”
যেমন, আল্লাহ পাক ঘোষণা করিয়াছেন, “তাহারা দোযখে হোকবার পর হোকবা অবস্থান করিতে থাকিবে।” একদা হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) আসহাবদিগকে হোকবা সম্পর্কে প্রশ্ন করিলেন। তাহারা আরজ করিলেন- “হুযুর! হোকবা কি তাহা আমরা জানি না। হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলিলেন, “দোযখের এক হোকবা দুনিয়ার চারি হাজার বৎসরের সমান দীর্ঘ হইবে।” সাহাবারা জিজ্ঞাসা করিলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! কত মাসে এক বৎসর হইবে?” হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলিলেন, “চারি হাজার মাসে এক বৎসর এবং চারি হাজার দিনে একমাস হইবে এবং সত্তর হাজার ঘন্টায় একদিন হইবে আর প্রতিটি ঘন্টা দুনিয়ার এক বৎসরের সমান দীর্ঘ হইবে।”
হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করিয়াছেন যে, হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলিয়াছেন, “রোজ কিয়ামতে হোরায়েশ নামক একটি সাপ দোযখ হইতে বাহির হইবে, উহা বিচ্ছু প্রসব করিবে। উহার মস্তক সাত আকাশের উপরে এবং লেজ সাত যমিনের নীচে থাকিবে । উহা প্রতি বছর এক হাজারবার উদাত্ত কণ্ঠে সাবধান করিয়া বলে, “হে শরাবখোর ও আত্মীয়তার বিভেদকারী! তোমরা কোথায়?” হযরত জিব্রাইল (আঃ) তাহাকে প্রশ্ন করিবেন, “হে হোরায়েশ তুমি কি চাও?” সে উত্তর করিবে, “আমি পাঁচ প্রকার মানুষকে আযাব করিব- (১) যাহারা নামায পরিত্যাগ করিয়াছে, (২) যাহারা যাকাত প্রদান করে নাই, (৩) যাহারা শরাবখোর, (৪) যাহারা সুদখোর এবং (৫) যাহারা মসজিদে দুনিয়াদারীর কথা বলিয়াছে। আমি অবশ্যই তাহাদিগকে গ্রাস করিব এবং মুখে ভরিয়া দোযখে ফিরিয়া যাইব।”
আল্লাহ ! আমাদিগকে হোৱায়েশের আযাব হইতে বাঁচাইয়া রাখুন! আমিন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন