শনিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৪

দাকায়েকুল আখবার- (৪৯) বেহেশতের বিবরণ



📚দাকায়েকুল আখবার- (পর্ব- ৪৯)
✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

বেহেশতের বিবরণ
হযরত ওয়াহাব (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ তা'য়ালা স্বীয় কামনা অনুসারে যথা বেহেশত নির্মাণ করিয়াছেন। আর আকাশমন্ডল ও ভূ-মণ্ডলের বিস্তৃতি অনুযায়ী উহার প্রস্থ নির্ধারণ করিয়াছেন। উহার দৈর্ঘ্য সম্পর্কে কাহাকেও পরিজ্ঞাত করেন নাই। কিয়ামতের দিন যখন যাবতীয় আকাশ ও ভু-মণ্ডল বিলয় হইয়া যাইবে, তখন আল্লাহ তা'য়ালা উহার বিস্তৃতি আরও পরিবর্ধিত করিবেন, যাহাতে সমস্ত বেহেশতবাসী পরম আনন্দে উহাতে বসবাস করিতে সক্ষম হয়।
বেহেশত রাজ্যে মোট একশত দরওয়াজা থাকিবে। এক দরওয়াজা হইতে অন্য দরওয়াজার দূরত্ব হইবে পাঁচশত বৎসরের রাস্তা। উহাতে পবিত্র প্রস্রবণ কুলকুল রবে প্রবাহিত হইতে থাকিবে। বেহেশতী ফলগুলি স্বীয় বৃক্ষের অগ্র-পশ্চাতে অধঃমুখী ঝুলিয়া থাকিবে যেন বেহেশতীগণ স্বীয় ইচ্ছা ও কামনা অনুযায়ী ভক্ষণ করিতে সক্ষম হয়।

বেহেশতে ‘হুরেঈন' নামক বড় চক্ষু বিশিষ্টা পবিত্রা রমণী থাকিবে। আল্লাহ পাক তাহাদিগকে স্বীয় নূর দ্বারা পয়দা করিয়াছেন। তাহারা ইয়াকুত ও মারজানতুল্য লাবণ্যময়ী ও সুন্দরী হইবে। তাহারা সর্বদা আনত নয়না হইয়া থাকিবে। তাহারা সর্বদা নিজ নিজ স্বামী ব্যতীত অন্য কাহারও প্রতি দৃষ্টিপাত করিবে না। তাহারা স্বীয় স্বামী লাভ করিবার পূর্বে কোন মানব-দানব কর্তৃক স্পর্শিতা হইবে না। আর তাহাদের সহিত যতই সঙ্গম করা হইবে, তাহাদিগকে ততই নবতর কুমারীর মত অনুভব হইবে। তাহাদের শরীরে বিভিন্ন রংয়ের মোট সত্তরটি অলংকার পরিশোভিত হইবে। কিন্তু সেগুলি একটি পশমের সমতুল্যও ভারী বোধ হইবে না। তাহাদের হাড়ের মগজ, হাড়, মাংস ও অলঙ্কারের ভিতর দিয়া পরিদৃষ্ট হইবে। যেমন শুভ্র কাচ পাত্রের ভিতর দিয়া লোহিত পানীয় পরিদৃষ্ট হয়। তাহাদের কেশগুচ্ছ ইয়াকুত, মুক্তা খচিত হইবে। 

দোয়া - হে আল্লাহ! আমাদিগকেও এমন উত্তম রিযিক প্রদান করুন। আমিন।

পরবর্তী পর্ব-

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...