শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৪

মারেফতের মর্মকথা (৬) জ্ঞানার্জন করা ফরজ



📚কাশফুল মাহজুব (পর্ব- ৬)  ✍🏻দাতা গঞ্জেবকশ হাজবেরী (রহ.)

জ্ঞানার্জন করা ফরজ—
দীন হোক কিংবা দুনিয়া, বিদ্যা ছাড়া মানুষ কিছুই লাভ করতে পারে না। তাই হুজুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেছেন- "সকল মুসলিম নর-নারীর জন্য জ্ঞানার্জন করা ফরজ”। আরও বলেন: "চীন দেশে হলেও সেখানে গিয়ে জ্ঞানার্জন কর।” 

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন, - "আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানী ব্যক্তিরাই আল্লাহকে ভয় করেন"। (সূরা: আল-ফাতির- ২৮)

আরও এরশাদ করেন,– “যে ব্যক্তি স্বীয় প্রভুর সমীপে হাজির হতে ভয় পায় তার জন্য দুটি জান্নাত।” (সূরা: আর-রহমান- ৪৬)

যেন আল্লাহভীতি জান্নাতের চাবি। আর এই ভীতি এলম বা জ্ঞান হতেই সৃষ্টি হয়। কিন্তু ধর্মে যেই জ্ঞানার্জনকে ফরয বলা হয়েছে তা দ্বারা পার্থিব সকল বিদ্যাকে বুঝায় না। কেননা পৃথিবীতে নানা প্রকার বিদ্যা রয়েছে। আর একজনের পক্ষে সর্বপ্রকার বিদ্যা শিক্ষা করা যেমন সম্ভব নয় তেমন ফরজও নয়। যেই জ্ঞানার্জনকে ফরজ বলা হয়েছে তা হলো শরীয়ত এবং ফরজ ওয়াজিব সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জন করা। এটা ব্যতীত শরীয়ত বুঝার জন্য যা কিছু শিক্ষার দরকার তা শিক্ষা করা এমনিভাবেই প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায়। যেমন অঙ্ক, ভূগোল, রাজনীতি আইন, শিল্প, ব্যবসা ইত্যাদি। কারণ, এসব জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা করা ব্যতীত মানুষের ব্যক্তিগত, সমাজগত এবং ধর্মীয় জীবন পূর্ণতা প্রাপ্ত হয় না। এটা ছাড়া অন্যান্য প্রকার জ্ঞানার্জন করা ভালো কিন্তু ফরজ নয়। যে বিদ্যার্জন মানুষের জন্য অহিতকর তা অর্জন করা আল্লাহ ফরজ করেন নি। বরং আল্লাহ তায়ালা বলেন-
"তারা এমন কিছু শিক্ষা করে যা তাদের পক্ষে ক্ষতিকারক; উপকারী নয়।” (সূরা: আল-বাকারা- ১০২)
হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন- "হে আল্লাহ! যেই জ্ঞানার্জন অহিতকর আমি আপনার নিকট তা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি।” কাজেই এই জাতীয় বিদ্যা শিক্ষা করা হতে দূরে থাকাই উচিত।

পরবর্তী পর্ব—
এলম ও আমল পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...