তাসাউফের আবশ্যকতা—
তাসাওউফের প্রমাণের আলোচনার সমাপনান্তে হজরত আলী হাজাবিরী (রহঃ) প্রথমে তাসাউফ অস্বীকারকারীদের উত্তরে আবুল হাসান আবু শাহ্নার উক্তি উদ্ধৃত করেন যে-
“আজকাল তো তাসাউফ একটি কথার কথা মাত্র, তার পক্ষে কোন যথার্থ যুক্তি নেই। কিন্তু সাহাবাকেরাম, তাবেয়ীন এবং তাবে তাবেয়ীনদের আমলে তার যথার্থতা ছিল। নিঃসন্দেহে ঐ যুগে তাসাউফ নামে কিছু ছিল না কিন্তু আসল বিষয়বস্তু ঠিকই ছিল।” এই উদ্ধৃতি লিপিবদ্ধ করার পর হজরত আলী হাজবিরী (রহঃ) বলেন: তাসাউফ সম্পর্কে তোমরা যা বল তা যদি বর্তমান অবস্থা দেখে বল তাহলে আমরাও তার সমর্থক। তাসাউফকে অস্বীকার করার ব্যাপারে তোমাদের অভিমত যদি নাম নিয়ে হয় তবে তা দূষণীয় নয়। কারণ তার মূল বিষয়বস্তু যদি বিদ্যমান থাকে তাহলে নাম নিয়ে কোন ঝগড়া বিবাদ বা একগুয়েমী নেই।
আর যদি তার আসল বিষয়বস্তু সম্পর্কে অস্বীকার কর তাহলে স্মরণ রেখো তা দ্বারা শরীয়তকে অস্বীকারই করা হয় না বরং মহানবি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রশংসনীয় ফজিলত এবং সাহাবায়ে কেরামের প্রশংসনীয় গুণাবলিকেও অস্বীকার করা হবে। কারণ এই জাতীয় অস্বীকার করার পর ধর্মের সব কিছুতেই রিয়াকারী দেখায়। ধর্মের মূল বিষয়বস্তু তো আল্লাহর প্রতি আন্তরিকতা ও ভালবাসার সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। একে অস্বীকার করলে ধর্ম আর কোথায় থাকল? হাঁ; এখন যদি তোমরা তাকে স্বীকার কর এবং তা যদি বিদ্যমান থাকে তাহলে আমরা তাকেই তাসাউফ বলবো
হজরত আবুল হাসান (র.) বলেন:
“তাসাউফ কোন নির্দিষ্ট আচার-আচরণ বা বিদ্যার সনদপত্রের নাম নয়। বরং সচ্চরিত্র ও সদ গুণাবলির নামই তাসাউফ।”
আবুল হাসান নূরী (র.) বলেন :
“কুপ্রবৃত্তি, লোভ-লালসার দাসত্ব থেকে মুক্ত থাকা; অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান এবং পার্থিব লৌকিকতা থেকে দূরে থাকার নামই তাসাউফ।
নিজের ধনসম্পদ অসহায়দের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া এবং দুনিয়াকে অন্যের হাতে ছেড়ে দেওয়ার নামই তাসাউফ।”
হজরত আবু হাস হাদ্দাদ নিশাপুরী (রহ.) বলেন :
“শরীয়তের নির্দেশ পালন করা এবং পূর্ণ শিষ্টতা রক্ষা করার নামই তাসাউফ। যে ব্যক্তি প্রতিটি মুহূর্তের আদব বা শিষ্টতা মান্য করে চলে সে মানুষের কাঙ্ক্ষিত স্থান লাভ করতে সমর্থ হয়। আর যে তা মেনে চলে না সে তার কাঙ্ক্ষিত স্থানে পৌঁছতে সক্ষম হয় না।
পরবর্তী পর্ব
সুফিদের পোশাক-পরিচ্ছদ
তাসাওউফের প্রমাণের আলোচনার সমাপনান্তে হজরত আলী হাজাবিরী (রহঃ) প্রথমে তাসাউফ অস্বীকারকারীদের উত্তরে আবুল হাসান আবু শাহ্নার উক্তি উদ্ধৃত করেন যে-
“আজকাল তো তাসাউফ একটি কথার কথা মাত্র, তার পক্ষে কোন যথার্থ যুক্তি নেই। কিন্তু সাহাবাকেরাম, তাবেয়ীন এবং তাবে তাবেয়ীনদের আমলে তার যথার্থতা ছিল। নিঃসন্দেহে ঐ যুগে তাসাউফ নামে কিছু ছিল না কিন্তু আসল বিষয়বস্তু ঠিকই ছিল।” এই উদ্ধৃতি লিপিবদ্ধ করার পর হজরত আলী হাজবিরী (রহঃ) বলেন: তাসাউফ সম্পর্কে তোমরা যা বল তা যদি বর্তমান অবস্থা দেখে বল তাহলে আমরাও তার সমর্থক। তাসাউফকে অস্বীকার করার ব্যাপারে তোমাদের অভিমত যদি নাম নিয়ে হয় তবে তা দূষণীয় নয়। কারণ তার মূল বিষয়বস্তু যদি বিদ্যমান থাকে তাহলে নাম নিয়ে কোন ঝগড়া বিবাদ বা একগুয়েমী নেই।
আর যদি তার আসল বিষয়বস্তু সম্পর্কে অস্বীকার কর তাহলে স্মরণ রেখো তা দ্বারা শরীয়তকে অস্বীকারই করা হয় না বরং মহানবি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রশংসনীয় ফজিলত এবং সাহাবায়ে কেরামের প্রশংসনীয় গুণাবলিকেও অস্বীকার করা হবে। কারণ এই জাতীয় অস্বীকার করার পর ধর্মের সব কিছুতেই রিয়াকারী দেখায়। ধর্মের মূল বিষয়বস্তু তো আল্লাহর প্রতি আন্তরিকতা ও ভালবাসার সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। একে অস্বীকার করলে ধর্ম আর কোথায় থাকল? হাঁ; এখন যদি তোমরা তাকে স্বীকার কর এবং তা যদি বিদ্যমান থাকে তাহলে আমরা তাকেই তাসাউফ বলবো
হজরত আবুল হাসান (র.) বলেন:
“তাসাউফ কোন নির্দিষ্ট আচার-আচরণ বা বিদ্যার সনদপত্রের নাম নয়। বরং সচ্চরিত্র ও সদ গুণাবলির নামই তাসাউফ।”
আবুল হাসান নূরী (র.) বলেন :
“কুপ্রবৃত্তি, লোভ-লালসার দাসত্ব থেকে মুক্ত থাকা; অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান এবং পার্থিব লৌকিকতা থেকে দূরে থাকার নামই তাসাউফ।
নিজের ধনসম্পদ অসহায়দের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া এবং দুনিয়াকে অন্যের হাতে ছেড়ে দেওয়ার নামই তাসাউফ।”
হজরত আবু হাস হাদ্দাদ নিশাপুরী (রহ.) বলেন :
“শরীয়তের নির্দেশ পালন করা এবং পূর্ণ শিষ্টতা রক্ষা করার নামই তাসাউফ। যে ব্যক্তি প্রতিটি মুহূর্তের আদব বা শিষ্টতা মান্য করে চলে সে মানুষের কাঙ্ক্ষিত স্থান লাভ করতে সমর্থ হয়। আর যে তা মেনে চলে না সে তার কাঙ্ক্ষিত স্থানে পৌঁছতে সক্ষম হয় না।
পরবর্তী পর্ব
সুফিদের পোশাক-পরিচ্ছদ

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন