আল্লাহ-পরিচয় (তত্ত্বদর্শন) পর্ব – ৮
📚সৌভাগ্যের পরশমণি ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
📚সৌভাগ্যের পরশমণি ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
আল্লাহ কল্পনা ও ধারণার বহির্ভূত —
উক্ত (পূর্বের) বর্ণনার উদ্দেশ্য এই যে, মানবাত্মা যেমন কল্পনা ও ধারণার বহির্ভূত, ইহা অনুভব করত আল্লাহ্ কল্পনা ও ধারণার ততোর্ধ্বে তাহা বুঝিয়া লইবে। আর ইহাও বুঝিয়া লইবে যে, আত্মা যেমন দেহের মধ্যে বাদশাহস্বরূপ বিরাজ করিতেছে এবং দেহ ও দেহস্থিত সমস্ত আকার বিশিষ্ট পদার্থ আত্মার আজ্ঞাধীনে চলিতেছে, অথচ আত্মা নিরাকার তদ্রূপ বিশ্বজগতের বাদশাহ্ আল্লাহ্ স্বয়ং নিরাকার হইয়াও এই জড়ময় বিশ্বজগত চালাইতেছেন। আল্লাহ্’র পবিত্রতার ব্যাখ্যা অন্য প্রকারেও হইতে পারে। আল্লাহ্ কোনও এক বিশেষ স্থানে আবদ্ধ নহেন। মানবাত্মাও কোন এক বিশেষ অঙ্গে আবদ্ধ নহে। আত্মা না হস্তের মধ্যে, না পদে, না মস্তকে না দেহের অন্য কোন বিশেষ অঙ্গে বিরাজমান আছে, বরং দেহের সকল অঙ্গেই আত্মা বিরাজমান রহিয়াছে । দেহের প্রত্যেক অঙ্গই বিভক্ত হইতে পারে; কিন্তু আত্মা বিভক্ত হইতে পারে না। আর অবিভাজ্য বস্তু বিভাজ্য বস্তুতে সমাবেশ হইতে পারে না। কারণ, যদি সমাবেশ হইতে পারিত তবে বিভাজ্য বস্তুর সহিত উহাও বিভক্ত হইয়া পড়িত। আত্মা কোন অঙ্গের সহিত আবদ্ধ না থাকিলেও দেহের কোন অঙ্গই আত্মার ক্ষমতা বহির্ভূত নহে। বরং সমস্ত অঙ্গ অভিপ্রায়ের প্রভাব প্রথমে আরশে উৎপন্ন হইয়া পড়ে কুর্সীতে বিস্তারিত হয় বলিয়া কুর্সী আরশের আজ্ঞাধীন। মানুষ যে কাজ করিতে ইচ্ছা করে তাহার ছবি পূর্ব হইতেই মস্তিষ্কের খেয়াল কুঠরিতে অঙ্কিত থাকে এবং পরে তদনুযায়ী কার্যসম্পন্ন হয়। যে ‘বিসমিল্লাহ' শব্দটি লেখা তোমার উদ্দেশ্য ছিল তাহার ছবি পূর্ব হইতেই তোমার মস্তিষ্কে অঙ্কিত ছিল। লেখা হইয়া গেলে দেখা যায় যে, লিখন মস্তিষ্কে অঙ্কিত ছবির ন্যায়ই হইয়া থাকে। এই প্রকার যাহা কিছু এ জগতে প্রকাশ পায় উহার ছবিও পূর্ব হইতেই লওহে মাহফুজে অঙ্কিত থাকে। যে সূক্ষ্ম শক্তি তোমার মস্তিষ্কে থাকিয়া স্নায়ু সকলকে আলোড়িত করে এবং তদ্সাহায্যে হাতের অঙ্গুলী ও অবশেষে কলম পরিচালিত করে তদ্রূপ এক প্রকার শক্তি আরশ ও কুর্সীতে অবস্থিত থাকিয়া আকাশ ও গ্রহ-নক্ষত্রদিগকে পরিচালিত করে এবং ইহাদের প্রভাব নিম্নজগত পৃথিবী ও পৃথিবীস্থ প্রকৃতিকে আলোড়িত করে। শেষোক্ত শক্তিকে ফেরেশতা বলে ৷
উক্ত (পূর্বের) বর্ণনার উদ্দেশ্য এই যে, মানবাত্মা যেমন কল্পনা ও ধারণার বহির্ভূত, ইহা অনুভব করত আল্লাহ্ কল্পনা ও ধারণার ততোর্ধ্বে তাহা বুঝিয়া লইবে। আর ইহাও বুঝিয়া লইবে যে, আত্মা যেমন দেহের মধ্যে বাদশাহস্বরূপ বিরাজ করিতেছে এবং দেহ ও দেহস্থিত সমস্ত আকার বিশিষ্ট পদার্থ আত্মার আজ্ঞাধীনে চলিতেছে, অথচ আত্মা নিরাকার তদ্রূপ বিশ্বজগতের বাদশাহ্ আল্লাহ্ স্বয়ং নিরাকার হইয়াও এই জড়ময় বিশ্বজগত চালাইতেছেন। আল্লাহ্’র পবিত্রতার ব্যাখ্যা অন্য প্রকারেও হইতে পারে। আল্লাহ্ কোনও এক বিশেষ স্থানে আবদ্ধ নহেন। মানবাত্মাও কোন এক বিশেষ অঙ্গে আবদ্ধ নহে। আত্মা না হস্তের মধ্যে, না পদে, না মস্তকে না দেহের অন্য কোন বিশেষ অঙ্গে বিরাজমান আছে, বরং দেহের সকল অঙ্গেই আত্মা বিরাজমান রহিয়াছে । দেহের প্রত্যেক অঙ্গই বিভক্ত হইতে পারে; কিন্তু আত্মা বিভক্ত হইতে পারে না। আর অবিভাজ্য বস্তু বিভাজ্য বস্তুতে সমাবেশ হইতে পারে না। কারণ, যদি সমাবেশ হইতে পারিত তবে বিভাজ্য বস্তুর সহিত উহাও বিভক্ত হইয়া পড়িত। আত্মা কোন অঙ্গের সহিত আবদ্ধ না থাকিলেও দেহের কোন অঙ্গই আত্মার ক্ষমতা বহির্ভূত নহে। বরং সমস্ত অঙ্গ অভিপ্রায়ের প্রভাব প্রথমে আরশে উৎপন্ন হইয়া পড়ে কুর্সীতে বিস্তারিত হয় বলিয়া কুর্সী আরশের আজ্ঞাধীন। মানুষ যে কাজ করিতে ইচ্ছা করে তাহার ছবি পূর্ব হইতেই মস্তিষ্কের খেয়াল কুঠরিতে অঙ্কিত থাকে এবং পরে তদনুযায়ী কার্যসম্পন্ন হয়। যে ‘বিসমিল্লাহ' শব্দটি লেখা তোমার উদ্দেশ্য ছিল তাহার ছবি পূর্ব হইতেই তোমার মস্তিষ্কে অঙ্কিত ছিল। লেখা হইয়া গেলে দেখা যায় যে, লিখন মস্তিষ্কে অঙ্কিত ছবির ন্যায়ই হইয়া থাকে। এই প্রকার যাহা কিছু এ জগতে প্রকাশ পায় উহার ছবিও পূর্ব হইতেই লওহে মাহফুজে অঙ্কিত থাকে। যে সূক্ষ্ম শক্তি তোমার মস্তিষ্কে থাকিয়া স্নায়ু সকলকে আলোড়িত করে এবং তদ্সাহায্যে হাতের অঙ্গুলী ও অবশেষে কলম পরিচালিত করে তদ্রূপ এক প্রকার শক্তি আরশ ও কুর্সীতে অবস্থিত থাকিয়া আকাশ ও গ্রহ-নক্ষত্রদিগকে পরিচালিত করে এবং ইহাদের প্রভাব নিম্নজগত পৃথিবী ও পৃথিবীস্থ প্রকৃতিকে আলোড়িত করে। শেষোক্ত শক্তিকে ফেরেশতা বলে ৷
পরবর্তী পর্ব —
পার্থিব প্রকৃতির প্রকারভেধ
পার্থিব প্রকৃতির প্রকারভেধ

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন