সোমবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৫

হজ্জ (১৮) মদীনা শরীফ যিয়ারত



হজ্জ (পর্ব – ১৮)

📚সৌভাগ্যের পরশমনি ✍🏻ইমাম গাজ্জালী(রহ.)


মদীনা শরীফ যিয়ারত 

মক্কা শরীফের কার্য শেষ করিয়া মদীনা শরীফ যাইবেকারণ রাসূলে মাকবুল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন-"আমার ওফাতের পর যে ব্যক্তি আমার (সমাধিযিয়ারত করিবেসে যেন জীবিতাবস্থায় আমার দর্শন করিল।” তিনি আরও বলেন- “যে ব্যক্তি মদীনা শরীফ আগমন করে এবং আমার (রওযাযিয়ারত ব্যতীত তাহার অন্য কোন উদ্দেশ্য না থাকে তবে আল্লাহর নিকট তাহার হক সাব্যস্ত হয়। আল্লাহ্ আমাকে তাহার শাফাআতকারী করিবেন।” 

মদীনা শরীফের পথে অধিক সংখ্যায় দরূদ পড়িবে এবং মদীনার প্রাচীরের উপর দৃষ্টি পড়িলে এইদু' পড়িবে-


اللَّهُمَّ هُذَا حَرَمَ رَسُوْلِكَ فَاجْعَلْهُ لِي وَقَايَةً مِّنْ النَّارِ وَآمَانًا مِنَ الْعَذَابِ وَسُوءِ الْعَذَابِ -


অর্থাৎ “হে আল্লাহ্ ইহা আপনার রসূলের হরম। সুতরাং ইহাকে আমার জন্য দোযখের শাস্তি হইতে রক্ষা পাওয়ার স্থান এবং সর্বপ্রকার শাস্তি  মন্দ হিসাব-নিকাশ হইতে নিরাপদে থাকার স্থান করুন।

প্রথমে গোসল করত পাকপবিত্র সাদা পোষাক পরিধান করিবে এবং দেহে  পরিধেয় বস্ত্রে সুগন্ধি লাগাইবে। তৎপর শহরে প্রবেশ করিবে। শহরে প্রবেশ করিয়া সর্বদীনতা  নম্রতার সহিত অবস্থান করিবে এবং এই দু' পড়িবে


اللَّهُمَّ ادْخِلْنِي مُدْخَلَ صِدْقٍ وَاخْرِجْنِي مُخْرَجَ صِدْقٍ وَاجْعَلْ لِي مِنْ


অর্থাৎ “হে আল্লাহ্আমাকে দাখিল করুন সত্য দাখিল করা এবং আমাকে বাহির করুন সত্য বাহিরকরা  আপনার নিকট হইতে আমার জন্য প্রবল সাহায্য পাঠান।” 

অতঃপর মসজিদে নববীতে প্রবেশ করত মিম্বরের নিচে দুই রাকআত নামায পড়িবে। এই নামায পড়িবার সময় এইরূপে দাঁড়াইবে যেন মিম্বরের স্তম্ভ ডান কাঁধের বরাবর থাকে। কারণইহাই রাসূলে মাকবূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর দাঁড়াইবার স্থান ছিল। নামাযান্তে রওযা মুবারক যিয়ারত মনোযোগ দিবে এবং সেদিকে মুখ ফিরাইবে। তখন কা'বা শরীফ পিছনদিকে থাকিবে। রওযা শরীফের প্রাচীরের উপর হাত স্পর্শ করিয়া চুম্বন করা সুন্নত নহেবরং দূরে থাকিলেই অধিক সম্মান প্রদর্শন করা হয়। রওযা শরীফের দিকে মুখ করিয়া এই দু' পাঠ করিবে-


السَّلامُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللهِ السَّلامُ عَلَيْكَ يَانَبِيُّ اللَّهِ السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا حَبِيبَ اللهِ السَّلَامُ عَلَيْكَ يَاصَفِيَّ اللهِ السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا سَيِّدَ وُلْدِ آدَمَ اَلسَّلامُ عَلَيْكَ يَا سَيِّدَ الْمُرْسَلِينَ وَخَاتِمَ النَّبِيِّينَ وَرَسُولَرَبِّ الْعَالَمِينَ السَّلَامُ عَلَيْكَ وَ عَلَى أَلِكَ وَ أَصْحَابِكَ الطَّاهِرِينَ وَ أَزْوَاجِكَ الطَّاهرات وَأُمَّهَاتِالْمُؤْمِنِينَ جَزَاكَ اللهُ عَنَّا أَفْضَلَ مَاجَزِى نَبِيًّا عَنْ أُمَّتِهِ وَ صَلَّى عَلَيْكَ كُلَّ مَا ذَكَرَكَ الذَّاكَرُونَ وَ غَفَلَعَنْكَ الْغَافِلُونَ - -


অর্থাৎ "ইয়া রাসূলাল্লাহআপনার উপর সালাম। হে আল্লাহ্ নবী আপনার উপর সালাম। হে আল্লাহর প্রিয়তমআপনার উপর সালাম। হে আল্লাহর মনোনীত আপনার উপর সালাম। হে আদম সন্তানেরএকচ্ছত্র নেতাআপনার উপর সালাম। হে নবীগণের সরদারশেষ নবী  বিশ্বপ্রভুর রাসূলআপনার উপর সালামআপনার সন্তানগণের উপর সালামআপনার পবিত্র সাহাবীগণ এবং বিশ্ব মুসলমানের জননী আপনার পবিত্র পত্নিগণের উপর সালাম। আল্লাহ্ অন্য কোন নবীকে তাঁহার উম্মতের পক্ষ হইতে যাহাকিছু পুরস্কার প্রদান করিয়াছেন আমাদের পক্ষ হইতে তদপেক্ষা অধিক পুরস্কারে আল্লাহ্ আপনাকে পুরস্কৃত করুন এবং যত স্মরণকারী আপনাকে স্মরণ করে  যত গাফিল লোক আপনাকে ভুলিয়া রহিয়াছে তাহাদের সংখ্যা পরিমাণ রহমত আল্লাহ্ আপনার উপর বর্ষণ করুন।


অপর কেহ রাসূলে মাকবুল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট সালাম পৌঁছাইবার ওসিয়ত করিয়া থাকিলে এইরূপ বলিবে-


السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا رَسُوْلَ اللهِ مِنْ فُلَانِ السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مِنْ فُلان -


(فلان শব্দের স্থলে সেই ব্যক্তির নাম বলিবে) যেমন "আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলুল্লাহ্ মিন Mohammed kaisar" অর্থাৎ (আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলুল্লাহ্ এই সালাম মুহম্মদ কায়সারের পক্ষ থেকে গ্রহণ করুন)


তৎপর সামান্য অগ্রসর হইয়া হযরত আবু বকর  হযরত উমর রাদিআল্লাহু আনহুমার প্রতি এইরূপে সালাম দিবে


السَّلامُ عَلَيْكَ يَا وَزِيْرَى رَسُولِ اللهِ وَ الْمُعَاوَنَيْنِ لَهُ عَلَى الْقِيَامِ بِالدِّيْنِ مَادَامَ حَيًّا وَالْقَئِمَيْنِ بَعْدَه فِيأُمَّتِهِ بِأُمُورِ الدِّيْنِ نَتَّبِعَانِ فِي ذَالِكَ اثَارَهُ تَعْمَلاَنِ بِسُنَّتِهِ فَجَزَاكُمَا اللَّهُ خَيْرَ مَازَى وُزْرَاءَ نَبِيٍّ عَلَى دينه-


অর্থাৎ “হে রাসূলে মাকবুল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর উযীরদ্বয়তাঁহার জীবিতকালে ধর্মপ্রতিষ্ঠায় তাঁহার সাহায্যকারীদ্বয় এবং তাঁহার ওফাতের পর তাঁহার উম্মতের মধ্যেধর্ম-কর্মের প্রতিষ্ঠাকারীদ্বয় আপনাদের উপর সালামআপনারা উভয়ে ধর্ম-কর্মে তাঁহার পদাঙ্কঅনুসরণ করিতেন এবং তাঁহার সুন্নত অনুযায়ী আমল করিতেন। সুতরাং আল্লাহ্ আপনাদিগকে যেকোন নবীর ধর্ম-উযীরকে প্রদত্ত পুরস্কার অপেক্ষা উত্তম পুরস্কারে পুরস্কৃত করুন। তৎপর তথায় দাঁড়াইয়া যথাসাধ্য দু' করিবে।


ইহার পর তথা হইতে বাহির হইয়া 'জান্নাতুল বাকী নামক কবরস্থানে গমন করত সাহাবী  তৎকালীন বুযর্গগণের পবিত্র কবরসমূহ যিয়ারত করিবে।(যদিও নজদী ওহাবীদের সংস্কারের পর বুযর্গগণেরপবিত্র কবরসমূহের কোন নিদর্শন নেই)


মদীনা শরীফ হইতে ফিরিবার কালে আবার রাসূলে মাকবূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর রওযা মুবাকর যিয়ারত করিয়া বিদায় হইবে।


পরবর্তী পর্ব —

হজ্জের নিগূঢ় তত্ত্ব 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...