আল্লাহ-পরিচয় (তত্ত্বদর্শন) পর্ব – ১১
📚সৌভাগ্যের পরশমণি ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
📚সৌভাগ্যের পরশমণি ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
জড়জগতের মূল নির্ণয়ে প্রকৃতিবাদী ও জ্যোতির্বিদগণের ভুল —
প্রকৃতিবাদী ও জ্যোতির্বিদগণের দুর্ভাগ্যের কারণ এই যে, তাহারা প্রকৃতি ও গ্রহ-নক্ষত্রদিগকেই যাবতীয় কার্য ও ঘটনার মূল বলিয়া মনে করে। তাহাদের দৃষ্টান্ত এইরূপ যেমন কোন এক পিপীলিকা কাগজের উপর দিয়া চলিবার সময় দেখিতে পাইল, কাগজের উপর কালির দাগ পড়িয়া এক প্রকার চিত্র অঙ্কিত হইতেছে। তত্পর সেই পিপীলিকা কলমের অগ্রভাগের প্রতি মনোযোগের সহিত লক্ষ্য করত প্রফুল্লচিত্তে বলিতে লাগিল : আমি চিত্র অঙ্কনের মূল তত্ত্ব অবগত হইয়াছি। কলমই কাগজের উপর চিত্র অঙ্কন করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হইয়া পিপীলিকাটি নিশ্চিত হইল প্রকৃতিবাদিগণের অবস্থাও ঠি এইরূপ । সর্বশেষে কাজটি কাহার দ্বারা সম্পন্ন হইল, ইহা ছাড়া তাহারা আর কিছুই দেখে না। অবশেষে ঐ পিপীলিকার পার্শ্বে আর একটি পিপীলিকা আসিল। সে প্রথমে পিপীলিকা হইতে দূরদর্শী এবং ইহার দৃষ্টিশক্তিও তদপেক্ষা তীক্ষ্ণতর। সে প্রথম পিপীলিকাকে বলিল তুমি ভুল করিয়াছ। আমি কলমকে আজ্ঞাধীন দেখিতেছি। আমি দেখিতে পাইতেছি যে কলম ভিন্ন এক পদার্থ কলমকে চালাইয়া চিত্র অঙ্কন করিতেছে। এই সিদ্ধান্তে উপনীত হইয়া সে আনন্দের সহিত বলিয়া উঠিল, আমি যাহা জানিয়াছি তাহাই ঠিক। অঙ্গুলী চিত্র অঙ্কন করে, কলম করে না। কারণ, কলম অঙ্গুলীর অধীনে চলিতেছে। জ্যোতির্বিদগণ এই পিপীলিকা সদৃশ। তাহাদের দৃষ্টি প্রকৃতিবাদীদের অপেক্ষা অধিক দূরে পৌঁছিয়াছে। তাহারা প্রাকৃতিক উপাদানসমূহকে গ্রহ-নক্ষত্রাদির অধীন দেখিতেছে বটে, কিন্তু গ্রহ-নক্ষত্রাদি যে ফেরেশতাগণের অধীন, তাহা বুঝিতে পারে নাই এবং ফলে তাহারা জ্ঞানের তদপেক্ষা উপরের স্তরসমূহে পৌঁছিতে পারে নাই। জ্ঞানের তারতম্যানুসারে জ্ঞানীগণের মধ্যে প্রভেদ
জড়জগতের কার্যাবলীর মূল কারণ সম্বন্ধে প্রকৃতিবাদী বৈজ্ঞানিক ও জ্যোতির্বিদদের মধ্যে যেমন প্রভেদ ঘটিয়াছে এবং এইজন্যই তাহাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়াছে তদ্রূপ আধ্যাত্মিক জগতে যাহারা উন্নতি করেন তাহাদের মধ্যেও মতভেদ দেখা দিয়া থাকে। তাহাদের অধিকাংশ লোকই জড়জগত ছাড়াইয়া আধ্যাত্মিক জগতের দিকে উন্নতি করিতে পারেন নাই। জড়জগতের বাহিরের কোন জিনিসই তাহারা দেখে নাই। তাহারা আধ্যাত্মিকতার প্রথম সোপানেই রহিয়া গিয়াছেন এবং এইদিকে তাহাদের উন্নতির পথ বন্ধ রহিয়াছে। আধ্যাত্মিক জগত অতি দুর্গম ও বহু বাধা-বিপত্তি পরিপূর্ণ। এই জগতে উন্নতির স্তর অনুসারে কাহারও অবস্থা তারকাতুল্য কাহারও অবস্থা চন্দ্রসদৃশ, কাহারও মর্যাদা সূর্যতুল্য। আল্লাহ্ তা'আলা ঊর্ধ্ব জগতের যাঁহাকে যত অধিক দেখাইয়াছেন তদনুসারেই তাঁহাদের গৌরবের শ্রেণীবিভাগ হইয়াছে; যেমন হযরত ইবরাহীম আলায়হিস সালাম সম্বন্ধে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন : “এইরূপে আমি ইবরাহীমকে আকাশ ও পৃথিবীর রাজ্যসমূহ দেখাইয়াছি।” এই সমস্ত দেখিয়াই হযরত ইবরাহীম আলায়হিস্ সালাম বলিয়াছিলেনঃ - “নিশ্চয়ই আমি আমার মুখ তাঁহার দিকে ফিরাইলাম যিনি আকাশসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করিয়াছেন।” আর এই কারণেই রাসূলে মাকবূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন : “নিশ্চয়ই সত্তর হাজার নূরের পর্দা আছে। এই সমস্ত দূর করা হইলে তাঁহার মুখমণ্ডলের জ্যোতি দর্শকগণকে দগ্ধ করিয়া ফেলিবে।” ইহার বিশদ ব্যাখ্যা ‘মিশকাতুল আনওয়ার’ ও ‘মিসবাহুল আসরার' কিতাবদ্বয়ে দেওয়া হইয়াছে। তথায় দেখিয়া লওয়া উচিত।
জড়জগতের মূল নির্ণয়ে মতভেদ সম্বন্ধে সত্যাসত্যের বিচার উপরে যাহা বলা হইয়াছে ইহার উদ্দেশ্য হইল, জড়বাদীগণ কোন বস্তুর সৃষ্টির কারণরূপে যে উষ্ণতা, আর্দ্রতা ইত্যাদি প্রাকৃতিক উপাদানের উল্লেখ করিয়াছেন তাহা এক হিসাবে সত্য, উহা জানাইয়া দেওয়া। কারণ, জড়জগতের ক্রিয়া-কলাপে আল্লাহ্ যে সমস্ত উপকরণ রাখিয়াছেন উহাতে এই সকল না থাকিলে চিকিৎসাশাস্ত্র অকর্মণ্য হইয়া পড়িত। কিন্তু তাঁহারা এইজন্য ভুল করিয়াছেন যে, তাঁহাদের দৃষ্টিশক্তি নিতান্ত কম ও সংকীর্ণ। ফলে ইহা তাঁহাদিগকে অধিক দূরে লইয়া যাইতে পারে নাই এবং তাঁহারা প্রথম সোপানেই রহিয়া গেলেন। তাঁহারা উষ্ণতা, আর্দ্রতা প্রভৃতি উপাদানগুলিকে মূল কারণ বলিয়া নির্ধারণ করিলেন, এই সমস্তকে অপরের অধীন বলিয়া বুঝিতে পারিলেন না, উহাদিগকে ভৃত্য না বুঝিয়া কৰ্তা বলিয়া বুঝিয়া লইলেন। অথচ উষ্ণতা, আর্দ্রতা, ইত্যাদি উপাদান প্রকৃত কর্তার ভৃত্যগণের মধ্যে সর্বনিম্ন শ্রেণীর ভৃত্যস্বরূপ ।
জ্যোতির্বিদগণ গ্রহ-নক্ষত্রাদিকে আল্লাহর জাগতিক কার্যাবলী ও ঘটনাসমূহের উপকরণ বলিয়া ঠিকই করিয়াছেন। কারণ, উহারা আল্লাহ্ জাগতিক কার্যাবলীর উপকরণ না হইলে দিবা-রাত্রের প্রভেদ থাকিত না - শীত-গ্রীষ্ম সমান হইত। কেননা, সূর্য একটি গ্রহ; ইহা হইতেই পৃথিবীতে আলো ও উত্তাপ আসিয়া থাকে। গ্রীষ্মকালে সূর্য মধ্যগগনের নিকটে থাকে বলিয়া গ্রীষ্ম হয় এবং শীতকালে দূরে থাকে বলিয়া শীত হয়। যে-আল্লাহর এই শক্তি রহিয়াছে যে, তিনি সূর্যকে উষ্ণ ও উজ্জ্বল করিয়া সৃষ্টি করিয়াছেন, তিনি যে শনিগ্রহকে শীতল ও শুষ্ক এবং শুক্রগ্রহকে উষ্ণ ও আর্দ্র করিয়া সৃষ্টি করিয়াছেন ইহাতে বিস্ময়ের কি আছে? এরূপ বিশ্বাসে ঈমানের কোন ক্ষতি হয় না। কিন্তু জ্যোতির্বিদগণ গ্রহ-নক্ষত্রাদিকে জাগতিক ঘটনাবলীর মূল কর্তা সাব্যস্ত করিয়া মহা ভ্রমে পতিত হইয়াছেন। গ্রহ-নক্ষত্রাদিকে অন্য এক শক্তির অধীন বলিয়া তাঁহারা বুঝিতে পারে নাই; অথচ এই সম্বন্ধে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন : “সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নির্দেশমত নিয়ম কানুনের অধীনে চলিতেছে।” তিনি আরও বলেন : “সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজি তাঁহারই অনুগত!” প্রকৃতিবাদী ও জ্যোতির্বিদগণ এই সকল কথা বুঝিতে পারেন নাই। অনুগত তাহাকেই বলে যে অপরের অধীনে কাজ করে। অতএব গ্রহ-নক্ষত্রাদির কোন স্বাধীন ক্ষমতা নাই, বরং ইহারা ফেরেশেতাগণের পরিচালনাধীনে থাকিয়া কাজ করে। স্নায়ুসূত্র দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আলোড়িত করিলে যেমন মস্তিষ্কের শক্তি কার্যনির্বাহে অগ্রসর হয় তদ্রূপ আল্লাহর নিয়োজিত ফেরেশতাগণ দ্বারা পরিচালিত হইয়া গ্রহ-নক্ষত্রাদি কার্যে ব্যাপৃত থাকে। আল্লাহর ভৃত্যদের মধ্যে গ্রহ-নক্ষত্রাদি নীচ শ্রেণীর ভৃত্য বটে; কিন্তু চারি প্রকৃতি যেমন লেখকের হস্তস্থিত সর্বনিম্ন শ্রেণীর আজ্ঞাবহ কলমের ন্যায় ভৃত্য তদ্রূপ উহারা একেবারে নিম্নতম শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত নহে।
প্রকৃতিবাদী ও জ্যোতির্বিদগণের দুর্ভাগ্যের কারণ এই যে, তাহারা প্রকৃতি ও গ্রহ-নক্ষত্রদিগকেই যাবতীয় কার্য ও ঘটনার মূল বলিয়া মনে করে। তাহাদের দৃষ্টান্ত এইরূপ যেমন কোন এক পিপীলিকা কাগজের উপর দিয়া চলিবার সময় দেখিতে পাইল, কাগজের উপর কালির দাগ পড়িয়া এক প্রকার চিত্র অঙ্কিত হইতেছে। তত্পর সেই পিপীলিকা কলমের অগ্রভাগের প্রতি মনোযোগের সহিত লক্ষ্য করত প্রফুল্লচিত্তে বলিতে লাগিল : আমি চিত্র অঙ্কনের মূল তত্ত্ব অবগত হইয়াছি। কলমই কাগজের উপর চিত্র অঙ্কন করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হইয়া পিপীলিকাটি নিশ্চিত হইল প্রকৃতিবাদিগণের অবস্থাও ঠি এইরূপ । সর্বশেষে কাজটি কাহার দ্বারা সম্পন্ন হইল, ইহা ছাড়া তাহারা আর কিছুই দেখে না। অবশেষে ঐ পিপীলিকার পার্শ্বে আর একটি পিপীলিকা আসিল। সে প্রথমে পিপীলিকা হইতে দূরদর্শী এবং ইহার দৃষ্টিশক্তিও তদপেক্ষা তীক্ষ্ণতর। সে প্রথম পিপীলিকাকে বলিল তুমি ভুল করিয়াছ। আমি কলমকে আজ্ঞাধীন দেখিতেছি। আমি দেখিতে পাইতেছি যে কলম ভিন্ন এক পদার্থ কলমকে চালাইয়া চিত্র অঙ্কন করিতেছে। এই সিদ্ধান্তে উপনীত হইয়া সে আনন্দের সহিত বলিয়া উঠিল, আমি যাহা জানিয়াছি তাহাই ঠিক। অঙ্গুলী চিত্র অঙ্কন করে, কলম করে না। কারণ, কলম অঙ্গুলীর অধীনে চলিতেছে। জ্যোতির্বিদগণ এই পিপীলিকা সদৃশ। তাহাদের দৃষ্টি প্রকৃতিবাদীদের অপেক্ষা অধিক দূরে পৌঁছিয়াছে। তাহারা প্রাকৃতিক উপাদানসমূহকে গ্রহ-নক্ষত্রাদির অধীন দেখিতেছে বটে, কিন্তু গ্রহ-নক্ষত্রাদি যে ফেরেশতাগণের অধীন, তাহা বুঝিতে পারে নাই এবং ফলে তাহারা জ্ঞানের তদপেক্ষা উপরের স্তরসমূহে পৌঁছিতে পারে নাই। জ্ঞানের তারতম্যানুসারে জ্ঞানীগণের মধ্যে প্রভেদ
জড়জগতের কার্যাবলীর মূল কারণ সম্বন্ধে প্রকৃতিবাদী বৈজ্ঞানিক ও জ্যোতির্বিদদের মধ্যে যেমন প্রভেদ ঘটিয়াছে এবং এইজন্যই তাহাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়াছে তদ্রূপ আধ্যাত্মিক জগতে যাহারা উন্নতি করেন তাহাদের মধ্যেও মতভেদ দেখা দিয়া থাকে। তাহাদের অধিকাংশ লোকই জড়জগত ছাড়াইয়া আধ্যাত্মিক জগতের দিকে উন্নতি করিতে পারেন নাই। জড়জগতের বাহিরের কোন জিনিসই তাহারা দেখে নাই। তাহারা আধ্যাত্মিকতার প্রথম সোপানেই রহিয়া গিয়াছেন এবং এইদিকে তাহাদের উন্নতির পথ বন্ধ রহিয়াছে। আধ্যাত্মিক জগত অতি দুর্গম ও বহু বাধা-বিপত্তি পরিপূর্ণ। এই জগতে উন্নতির স্তর অনুসারে কাহারও অবস্থা তারকাতুল্য কাহারও অবস্থা চন্দ্রসদৃশ, কাহারও মর্যাদা সূর্যতুল্য। আল্লাহ্ তা'আলা ঊর্ধ্ব জগতের যাঁহাকে যত অধিক দেখাইয়াছেন তদনুসারেই তাঁহাদের গৌরবের শ্রেণীবিভাগ হইয়াছে; যেমন হযরত ইবরাহীম আলায়হিস সালাম সম্বন্ধে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন : “এইরূপে আমি ইবরাহীমকে আকাশ ও পৃথিবীর রাজ্যসমূহ দেখাইয়াছি।” এই সমস্ত দেখিয়াই হযরত ইবরাহীম আলায়হিস্ সালাম বলিয়াছিলেনঃ - “নিশ্চয়ই আমি আমার মুখ তাঁহার দিকে ফিরাইলাম যিনি আকাশসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করিয়াছেন।” আর এই কারণেই রাসূলে মাকবূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন : “নিশ্চয়ই সত্তর হাজার নূরের পর্দা আছে। এই সমস্ত দূর করা হইলে তাঁহার মুখমণ্ডলের জ্যোতি দর্শকগণকে দগ্ধ করিয়া ফেলিবে।” ইহার বিশদ ব্যাখ্যা ‘মিশকাতুল আনওয়ার’ ও ‘মিসবাহুল আসরার' কিতাবদ্বয়ে দেওয়া হইয়াছে। তথায় দেখিয়া লওয়া উচিত।
জড়জগতের মূল নির্ণয়ে মতভেদ সম্বন্ধে সত্যাসত্যের বিচার উপরে যাহা বলা হইয়াছে ইহার উদ্দেশ্য হইল, জড়বাদীগণ কোন বস্তুর সৃষ্টির কারণরূপে যে উষ্ণতা, আর্দ্রতা ইত্যাদি প্রাকৃতিক উপাদানের উল্লেখ করিয়াছেন তাহা এক হিসাবে সত্য, উহা জানাইয়া দেওয়া। কারণ, জড়জগতের ক্রিয়া-কলাপে আল্লাহ্ যে সমস্ত উপকরণ রাখিয়াছেন উহাতে এই সকল না থাকিলে চিকিৎসাশাস্ত্র অকর্মণ্য হইয়া পড়িত। কিন্তু তাঁহারা এইজন্য ভুল করিয়াছেন যে, তাঁহাদের দৃষ্টিশক্তি নিতান্ত কম ও সংকীর্ণ। ফলে ইহা তাঁহাদিগকে অধিক দূরে লইয়া যাইতে পারে নাই এবং তাঁহারা প্রথম সোপানেই রহিয়া গেলেন। তাঁহারা উষ্ণতা, আর্দ্রতা প্রভৃতি উপাদানগুলিকে মূল কারণ বলিয়া নির্ধারণ করিলেন, এই সমস্তকে অপরের অধীন বলিয়া বুঝিতে পারিলেন না, উহাদিগকে ভৃত্য না বুঝিয়া কৰ্তা বলিয়া বুঝিয়া লইলেন। অথচ উষ্ণতা, আর্দ্রতা, ইত্যাদি উপাদান প্রকৃত কর্তার ভৃত্যগণের মধ্যে সর্বনিম্ন শ্রেণীর ভৃত্যস্বরূপ ।
জ্যোতির্বিদগণ গ্রহ-নক্ষত্রাদিকে আল্লাহর জাগতিক কার্যাবলী ও ঘটনাসমূহের উপকরণ বলিয়া ঠিকই করিয়াছেন। কারণ, উহারা আল্লাহ্ জাগতিক কার্যাবলীর উপকরণ না হইলে দিবা-রাত্রের প্রভেদ থাকিত না - শীত-গ্রীষ্ম সমান হইত। কেননা, সূর্য একটি গ্রহ; ইহা হইতেই পৃথিবীতে আলো ও উত্তাপ আসিয়া থাকে। গ্রীষ্মকালে সূর্য মধ্যগগনের নিকটে থাকে বলিয়া গ্রীষ্ম হয় এবং শীতকালে দূরে থাকে বলিয়া শীত হয়। যে-আল্লাহর এই শক্তি রহিয়াছে যে, তিনি সূর্যকে উষ্ণ ও উজ্জ্বল করিয়া সৃষ্টি করিয়াছেন, তিনি যে শনিগ্রহকে শীতল ও শুষ্ক এবং শুক্রগ্রহকে উষ্ণ ও আর্দ্র করিয়া সৃষ্টি করিয়াছেন ইহাতে বিস্ময়ের কি আছে? এরূপ বিশ্বাসে ঈমানের কোন ক্ষতি হয় না। কিন্তু জ্যোতির্বিদগণ গ্রহ-নক্ষত্রাদিকে জাগতিক ঘটনাবলীর মূল কর্তা সাব্যস্ত করিয়া মহা ভ্রমে পতিত হইয়াছেন। গ্রহ-নক্ষত্রাদিকে অন্য এক শক্তির অধীন বলিয়া তাঁহারা বুঝিতে পারে নাই; অথচ এই সম্বন্ধে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন : “সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নির্দেশমত নিয়ম কানুনের অধীনে চলিতেছে।” তিনি আরও বলেন : “সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজি তাঁহারই অনুগত!” প্রকৃতিবাদী ও জ্যোতির্বিদগণ এই সকল কথা বুঝিতে পারেন নাই। অনুগত তাহাকেই বলে যে অপরের অধীনে কাজ করে। অতএব গ্রহ-নক্ষত্রাদির কোন স্বাধীন ক্ষমতা নাই, বরং ইহারা ফেরেশেতাগণের পরিচালনাধীনে থাকিয়া কাজ করে। স্নায়ুসূত্র দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আলোড়িত করিলে যেমন মস্তিষ্কের শক্তি কার্যনির্বাহে অগ্রসর হয় তদ্রূপ আল্লাহর নিয়োজিত ফেরেশতাগণ দ্বারা পরিচালিত হইয়া গ্রহ-নক্ষত্রাদি কার্যে ব্যাপৃত থাকে। আল্লাহর ভৃত্যদের মধ্যে গ্রহ-নক্ষত্রাদি নীচ শ্রেণীর ভৃত্য বটে; কিন্তু চারি প্রকৃতি যেমন লেখকের হস্তস্থিত সর্বনিম্ন শ্রেণীর আজ্ঞাবহ কলমের ন্যায় ভৃত্য তদ্রূপ উহারা একেবারে নিম্নতম শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত নহে।
পরবর্তী পর্ব —
মানুষের মধ্যে মতভেদের কারণ

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন