আল্লাহ-পরিচয় (তত্ত্বদর্শন) পর্ব – ১২
📚সৌভাগ্যের পরশমণি ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
📚সৌভাগ্যের পরশমণি ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
মানুষের মধ্যে মতভেদের কারণ —
লোকের মধ্যে এমন বহু মতভেদ আছে বিভিন্ন কারণে যাহাদের প্রত্যেকের কথাই সত্য। এরূপ মতভেদের কারণ এই যে, তাহাদের কেহ বা কোন বিষয়ের কিয়দংশ দেখিয়া বুঝিয়াছে, অপর অংশ দেখে নাই; আবার অপর লোক অন্য অংশ দেখিয়াছে, সম্পূর্ণটা দেখে নাই; অথচ তাহারা সকলেই সম্পূর্ণটা দেখিয়াছে বলিয়া মনে করে। এমন লোকের অবস্থাকে ‘অন্ধের হস্তী দর্শনে’র সহিত তুলনা করা যাইতে পারে। অন্ধগণ তাহাদের শহরে হাতী আসিয়াছে শুনিয়া ইহা কেমন জানিবার জন্য রওয়ানা হইল এবং মনে করিল যে , হাতীর শরীরে হাত বুলাইয়া উহার যথার্থ পরিচয় লাভ করা যাইবে। সকলেই হাতীর শরীরে হাতড়াইতে লাগিল। কাহারও হাত হাতীর কানের উপর পড়িল ; কাহারও হাত ইহার পায়ের উপর পড়িল; আবার কেহ ইহার দাঁত স্পর্শ করিল। এই অন্ধগণ অপর অন্ধদের নিকট গেলে তাহারা ইহাদিগকে হাতীর পরিচয় জিজ্ঞাসা করিলে ইহাদের মধ্যে যে ব্যক্তির হাত হাতীর পায়ের উপর পড়িয়াছিল সে বলিল হাতী থামের মত; যে ব্যক্তির হাত হাতীর দাঁত স্পর্শ করিয়াছিল সে বলিল হাতি মূলার মত; যে-ব্যক্তি হাতির কান স্পর্শ করিয়াছিল সে বলিল; হাতী কুলার মত। পৃথক পৃথক কারণে তাহাদের প্রত্যেকের মতই কিছুটা সত্য বটে। কিন্তু তাহারা সকলেই এই কারণে ভ্রমে পতিত হইয়াছিল যে, তাহাদের প্রত্যেকেই হাতীর সমস্ত শরীরের পরিচয় না পাইয়াই বলিয়াছে -“আমি হাতীকে সম্পূর্ণ রূপে চিনিয়াছি”; অথচ গোটা হাতীর পরিচয় তাহাদের কেহই লাভ করে নাই। : এইরূপে জ্যোতির্বিদ ও প্রকৃতিবাদীদের দৃষ্টি আল্লাহর এক এক বান্দার উপর পড়িয়াছে এবং ইহাদের প্রভুত্ব ও ক্ষমতা দর্শনে অবাক হইয়া বলিয়াছে : অর্থাৎ “ইহাই আমার প্রভু।” কিন্তু যাহাদিগকে আল্লাহ্ হিদায়েত করিলেন তিনি এ সমস্ত গ্রহ-নক্ষত্র ও প্রাকৃতিক শক্তির অসম্পূর্ণতা ও অক্ষমতা বুঝিতে পারিয়া সিদ্ধান্তে উপনীত হইলেনঃ যাহাকে আমি আল্লাহ্ বলিয়া ধারণা করিয়াছিলাম তাহাতে অন্যের আজ্ঞাধীন এবং যাহা অন্যের আজ্ঞাধীন তাহা কখনই আল্লাহ্ হওয়ার উপযুক্ত নহে; তৎক্ষণাৎ তিনি বলিয়া উঠিলেন- “আমি অস্তগামীদিগকে পছন্দ করি না।”
লোকের মধ্যে এমন বহু মতভেদ আছে বিভিন্ন কারণে যাহাদের প্রত্যেকের কথাই সত্য। এরূপ মতভেদের কারণ এই যে, তাহাদের কেহ বা কোন বিষয়ের কিয়দংশ দেখিয়া বুঝিয়াছে, অপর অংশ দেখে নাই; আবার অপর লোক অন্য অংশ দেখিয়াছে, সম্পূর্ণটা দেখে নাই; অথচ তাহারা সকলেই সম্পূর্ণটা দেখিয়াছে বলিয়া মনে করে। এমন লোকের অবস্থাকে ‘অন্ধের হস্তী দর্শনে’র সহিত তুলনা করা যাইতে পারে। অন্ধগণ তাহাদের শহরে হাতী আসিয়াছে শুনিয়া ইহা কেমন জানিবার জন্য রওয়ানা হইল এবং মনে করিল যে , হাতীর শরীরে হাত বুলাইয়া উহার যথার্থ পরিচয় লাভ করা যাইবে। সকলেই হাতীর শরীরে হাতড়াইতে লাগিল। কাহারও হাত হাতীর কানের উপর পড়িল ; কাহারও হাত ইহার পায়ের উপর পড়িল; আবার কেহ ইহার দাঁত স্পর্শ করিল। এই অন্ধগণ অপর অন্ধদের নিকট গেলে তাহারা ইহাদিগকে হাতীর পরিচয় জিজ্ঞাসা করিলে ইহাদের মধ্যে যে ব্যক্তির হাত হাতীর পায়ের উপর পড়িয়াছিল সে বলিল হাতী থামের মত; যে ব্যক্তির হাত হাতীর দাঁত স্পর্শ করিয়াছিল সে বলিল হাতি মূলার মত; যে-ব্যক্তি হাতির কান স্পর্শ করিয়াছিল সে বলিল; হাতী কুলার মত। পৃথক পৃথক কারণে তাহাদের প্রত্যেকের মতই কিছুটা সত্য বটে। কিন্তু তাহারা সকলেই এই কারণে ভ্রমে পতিত হইয়াছিল যে, তাহাদের প্রত্যেকেই হাতীর সমস্ত শরীরের পরিচয় না পাইয়াই বলিয়াছে -“আমি হাতীকে সম্পূর্ণ রূপে চিনিয়াছি”; অথচ গোটা হাতীর পরিচয় তাহাদের কেহই লাভ করে নাই। : এইরূপে জ্যোতির্বিদ ও প্রকৃতিবাদীদের দৃষ্টি আল্লাহর এক এক বান্দার উপর পড়িয়াছে এবং ইহাদের প্রভুত্ব ও ক্ষমতা দর্শনে অবাক হইয়া বলিয়াছে : অর্থাৎ “ইহাই আমার প্রভু।” কিন্তু যাহাদিগকে আল্লাহ্ হিদায়েত করিলেন তিনি এ সমস্ত গ্রহ-নক্ষত্র ও প্রাকৃতিক শক্তির অসম্পূর্ণতা ও অক্ষমতা বুঝিতে পারিয়া সিদ্ধান্তে উপনীত হইলেনঃ যাহাকে আমি আল্লাহ্ বলিয়া ধারণা করিয়াছিলাম তাহাতে অন্যের আজ্ঞাধীন এবং যাহা অন্যের আজ্ঞাধীন তাহা কখনই আল্লাহ্ হওয়ার উপযুক্ত নহে; তৎক্ষণাৎ তিনি বলিয়া উঠিলেন- “আমি অস্তগামীদিগকে পছন্দ করি না।”
পরবর্তী পর্ব —
বিশ্বপ্রকৃতির কার্যনির্বাহের ধারা

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন