আল্লাহ-পরিচয় (তত্ত্বদর্শন) পর্ব – ৩
📚সৌভাগ্যের পরশমণি ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
📚সৌভাগ্যের পরশমণি ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
আল্লাহর ক্ষমতা : মানুষ স্বীয় বাহ্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও আভ্যন্তরিক যন্ত্রাদির আশ্চর্য গঠনের প্রতি লক্ষ্য করিলে আল্লাহর ক্ষমতা বুঝিতে পারে এবং জানিতে পারে যে, তাঁহার ক্ষমতা অনন্ত। তিনি যাহা ইচ্ছা করেন, তাহাই করিয়া থাকেন। তিনি যেরূপ চাহেন সেইরূপই সৃষ্টি করেন। তিনি এমন পূর্ণ ক্ষমতাশালী যে, এক বিন্দু নিকৃষ্ট শুক্র হইতে কেমন পূর্ণ সৌন্দর্যসম্পন্ন ও কৌশলপূর্ণ বিস্ময়কর মানব-দেহ সৃষ্টি করিয়াছেন।
আল্লাহর অপরিসীম জ্ঞান : মানব যখন নিজের গুণাবলী ও স্বীয় অঙ্গ প্রত্যঙ্গাদির উপকারিতার প্রতি লক্ষ্য করিয়া বুঝিতে পারিবে যে, তাহার প্রত্যেকটি বাহ্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, যথা- হস্ত, পদ, চক্ষু, জিহ্বা, দন্ত ইত্যাদি এবং প্রত্যেকটি আভ্যন্তরিক যন্ত্র, যথা- হৃদপিণ্ড, যকৃত, প্লীহা প্রভৃতিকে আল্লাহ্ কি উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করিয়াছেন তখন সে স্বীয় সৃষ্টিকর্তার অপরিসীম জ্ঞানের সন্ধান লাভ করে; জানিতে পারে তাঁহার জ্ঞান কত পূর্ণ ও কত ব্যাপক। বিশ্বজগতের সকল বস্তুই তাঁহার জ্ঞানের অন্তর্গত, কোন পদার্থই তাঁহার জ্ঞানের বহির্ভূত নহে; বিশ্বের সমস্ত বৈজ্ঞানিক ও শিল্পীদিগকে যদি বলা হয় আল্লাহ্ যে প্রণালীতে মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গাদি সৃজন ও সংযোজন করিয়াছেন তোমরা তোমাদের সমস্ত জ্ঞান-বিজ্ঞান খাটাইয়া তদপেক্ষা কোন উৎকৃষ্টতর প্রণালী বাহির কর এবং এই কার্য সমাধা করিতে যদি তাহাদিগকে অসীম আয়ুও দেওয়া হয় তথাপি তাহারা তদপেক্ষা উৎকৃষ্টতর প্রণালী বাহির করিতে পারিবে না।
দেখ, আল্লাহ্ দন্তপাটিকে কেমন সুন্দররূপে সাজাইয়া রাখিয়াছেন। খাদ্য-দ্রব্য কর্তনের জন্য পার্শ্বের দাঁতগুলিকে চওড়া করিয়াছেন। দাঁতের নিকটেই জিহ্বা অবস্থিত থাকিয়া জাঁতার মধ্যে শস্য-নিক্ষেপকারী যন্ত্রের ন্যায় কার্য করে। জিহ্বার নিচের লালারস নির্গমনকারী শক্তি ছানা নির্মাণকারী এবং আটাতে পানি-সিঞ্চনকারীর ন্যায় কার্য করিয়া থাকে। এই শক্তি আবার চর্বিত দ্রব্যকে ভিজাইয়া সহজে গলধঃকরণের উপযুক্ত লালারস সরবরাহ করে। বিশ্বের সমস্ত জ্ঞানীব্যক্তি একত্রিত হইয়া গবেষণা করিলেও আল্লাহ্ যে প্রণালীতে দন্তপাটি ও জিহ্বাকে সাজাইয়া রাখিয়াছেন তাহা অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর কোন প্রণালী আবিষ্কার করিতে পারিবে না। তদ্রূপ, হাতে পাঁচটি আঙ্গুল আছে। তন্মধ্যে চারিটি এক প্রকার এবং এক অঙ্গুষ্ঠ একাকী উহাদের হইতে অনেক দূরে অবস্থিত ও দৈর্ঘ্যে ক্ষুদ্র। তথাপি ইহা সকল আঙ্গুলির সহিত কাজ করে ও সকলের উপর ঘুরিতে পারে । সকল আঙ্গুলেই তিনটি করিয়া গ্রন্থি আছে; কিন্তু অঙ্গুষ্ঠে মাত্র দুইটি অঙ্গুলিগুলি এই পদ্ধতিতে সৃষ্ট ও স্থাপিত বলিয়া ইহাদের সাহায্যে সহজেই কোন বস্তু ধারণ ও উত্তোলন করা চলে, কোষ বানাইয়া পানপ্রাত্ররূপে ব্যবহার করা চলে এবং হস্ত তালুকে সম্প্রসারণপূর্বক আরও বিভিন্ন কার্যে ব্যবহার করা যাইতে পারে। সমস্ত বিশ্বের জ্ঞানিগণ মিলিত হইয়া যদি আঙ্গুলগুলিকে অন্যরূপে সাজাইবার প্রস্তাব করত বলে যে, পাঁচটি আঙ্গুলই সমান করা হউক, কিংবা তিনটি এক দিকে ও দুইটি অপর দিকে থাকুক, অথবা পাঁচটির পরিবর্তে ছয়টি বা চারটি গ্রন্থি হউক - এইরূপ যে কোন পরিবর্তনই করা হউক না কেন, সর্বত্রই দেখা যাইবে ইহা ত্রুটিপূর্ণ ও অসুবিধাজনক এবং পরম করুণাময় আল্লাহ্ যে পদ্ধতিতে সৃজন করিয়াছেন তাহাই সর্বোৎকৃষ্ট।
এই বর্ণনা হইতে বুঝা যায় যে, আল্লাহর জ্ঞান জগতের সমস্ত বস্তুকে ঘিরিয়া আছে এবং তিনি সমস্ত অবগত আছেন। মানব দেহের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গেই ঐ প্রকার আশ্চর্য আশ্চর্য কৌশল রহিয়াছে। যে ব্যক্তি এই সমস্ত যত অধিক অবগত সে আল্লাহ’র জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব ও অসীমতা বুঝিতে পারিয়া ততই বিস্ময়াপন্ন হইবে।
পরবর্তী পর্ব —
আল্লাহর অনস্ত দয়া

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন