আল্লাহ-পরিচয় (তত্ত্বদর্শন) পর্ব – ৪
📚সৌভাগ্যের পরশমণি ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
📚সৌভাগ্যের পরশমণি ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
মানুষ স্বীয় প্রয়োজন ও অভাবের দিকে লক্ষ্য করিলে সর্বপ্রথমেই বুঝিবে যে, সে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মুখাপেক্ষী। তৎপর সে পানাহার, বস্ত্র ও বাসগৃহের আবশ্যকতা অনুভব করিবে। ইহার পর দেখিবে খাদ্যদ্রব্য উৎপন্ন করিতে পানি, বায়ু, শীত-গ্রীষ্মের প্রয়োজন। আবার খাদ্যদ্রব্যসমূহ আহারের উপযোগী করিতে নানাবিধ শিল্প-কর্মের আবশ্যক। সে- সকল শিল্পের জন্য আবার লৌহ, তামা, পিতল, সীসার প্রয়োজন। পুনরায় দেখা যাইবে যে, এই সকল ধাতু হইতে কিরূপে যন্ত্রপাতি তৈয়ার করিতে হয় তাহাও শিক্ষা করা দরকার। আমাদের সর্বপ্রকার অভাব পূরণের উপাদান সামগ্রী আল্লাহ্ পূর্বেই প্রয়োজনমত প্রস্তুত করিয়া রাখিয়াছেন। তিনি উপাদান সামগ্রী পূর্বেই তৈয়ার করিয়া না রাখিলে বা ইহাতে গুণ ও উপযোগিতা অগ্রেই সংযোজন করিয়া না দিলে লোকে স্বীয় অভাব দূর করিবার যন্ত্রাদি তৈয়ার করিতে পারিত না ; এমন কি কিরূপে সেই অভাব দূর হইবে, তাহার কল্পনাও করিতে পারিত না। ইহাতে বুঝা যায় যে, এই সমস্তই মানুষের প্রতি পরম করুণাময় আল্লাহ্ তায়ালার অযাচিত দান। একমাত্র অনুগ্রহ ও মেহেরবানিপূর্বক এ সকল বস্তু আল্লাহ্ তায়ালা মানুষকে দান করিয়াছেন। আল্লাহর এই গুণের প্রতি লক্ষ্য করিলে বুঝা যাইবে যে, তাঁহার অনন্ত দয়া বিশ্বের সকল পদার্থের উপরই ব্যাপক এবং এই ব্যাপক দয়ার অপর একটি নিদর্শন হইল মানব জাতির মধ্যে ওলী ও নবীর আবির্ভাব। এই মর্মেই হাদীসে কুদ্সিতে আছে - “আমার (আল্লাহ’র) অনুগ্রহ আমার ক্রোধের উপর প্রাধান্য লাভ করিয়াছে”।
রসূলে মাকবূল (সল্লল্লাহু আলায়হে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) তিনিও এ সম্বন্ধে বলেনঃ “দুগ্ধপোষ্য শিশুর প্রতি জননীর স্নেহ অপেক্ষা বান্দার প্রতি করুণাময় আল্লাহ’র স্নেহ অধিক”। মোটকথা, নিজ অস্তিত্ব হইতে আল্লাহর অস্তিত্ব জানা গেল এবং মানবদহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেখিয়া আল্লাহর পূর্ণ ক্ষমতার পরিচয় পাওয়া গেল। আবার ঐ সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন-কার্যে আশ্চর্য কৌশল এবং উহাদের উপকারিতা দর্শনে তাঁহার অসীম জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া গেল যে সকল বস্তু আমাদের নিতান্ত আবশ্যক, যেগুলি আমাদের আরাম ও সুখদায়ক এবং যে সমস্ত দ্রব্য আমাদের শোভা-সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে, এই সমস্তই তিনি অযাচিতভাবে দান করিয়াছেন। এই সকল পর্যালোচনা করিলে আল্লাহর অপার স্নেহ অপরিসীম দয়া অবগত হওয়া যায়। এই প্রকার আত্মদর্শনই আল্লাহ্’র মারিফাত লাভের কুঞ্জী।
পরবর্তী পর্ব —
আল্লাহর পবিত্রতা

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন