আল্লাহ-পরিচয় (তত্ত্বদর্শন) পর্ব – ১৫
📚সৌভাগ্যের পরশমণি ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
📚সৌভাগ্যের পরশমণি ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
আল্লাহর মা'রিফাতের সমষ্টিরূপে চারিটি বাক্যের ব্যাখ্যা —
(১) ‘আল্লাহ্ পবিত্র’, (ছোবহানাল্লাহ্)
(২) ‘সমস্ত প্রশংসাই আল্লাহ্’র', (আলহামদুলিল্লাহ)
(৩) 'আল্লাহ্ ব্যতীত কেহই উপাস্য নাই' (লা ইলাহ্ ইল্লাল্লাহ্) এবং
(৪) 'আল্লাহ্ সর্বশ্রেষ্ঠ’ (আল্লাহুআকবার)।
এই বাক্যগুলির তাৎপর্য এখন তোমার বুঝিয়া লওয়া দরকার। এই চারিটি বাক্য নিতান্ত ক্ষুদ্র হইলেও আল্লাহ্’র মা'রিফাতের সমষ্টি। নিজের পবিত্রতা দৃষ্টে যখন আল্লাহ্’র পবিত্রতা তুমি বুঝিলে তখন ‘আল্লাহ্ পবিত্র' এই কলেমার তাৎপর্য বুঝিতে পারিলে। নিজের বাদশাহী চিনিয়া যখন আল্লাহ্’র বাদশাহী সংক্ষেপে চিনিতে পারিলে- যেমন কলম লেখকের হাতের অধীন তদ্রূপ সমস্ত উপাদান ও মধ্যবর্তী কারণ একই আল্লাহর আজ্ঞাধীন তখন ‘সমস্ত প্রশংসাই আল্লাহর' এই বাক্যের মর্ম উপলব্ধি করিলে। আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কেহ যখন নিয়ামতদাতা নাই তখন প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা একমাত্র আল্লাহ্’র জন্যই শোভন, তিনি ছাড়া অপর কেহই প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা পাইতে পারে না। যখন বুঝিতে পারিলে যে, তিনি ব্যতীত অপর কাহারও আজ্ঞা করিবার স্বাধীন ক্ষমতা নাই তখন ‘আল্লাহ্ ব্যতীত কেহই উপাস্য না' এই বাক্যের তাৎপর্য বুঝিলে।
'আল্লাহ্ সর্বশ্রেষ্ট' এই বাক্যের মর্ম এখন বুঝিয়া লও। জানিয়া রাখ, তুমি যত বড় জ্ঞানীই হও না কেন, মহান আল্লাহর হাকীকত তুমি কখনও বুঝিতে পারিবে না। কারণ, তিনি এত মহান ও শ্রেষ্ঠ যে, মানব কল্পনায় ইহা অনুধাবন করিতে পারেন না। সুতরাং তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ। নতুবা তাহার শ্রেষ্ঠত্বের কোন তুলনা নাই যদ্দ্বারা তুমি তাহার শ্রেষ্ঠত্বের পরিমাণ নির্ধারণ করিয়া লইতে পারিবে। বরং আল্লাহ্ ব্যতীত বিশ্বজগতে অপর কোন বস্তুর অস্তিত্বই নাই যাহার তুলনায় তাহাকে সর্বশ্রেষ্ঠ বলা যাইবে। বিশ্ব-সংসারে যাহা কিছু দেখা যায় সমস্তই আল্লাহর অস্তিত্বের নূর। সূর্যের আলো সূর্য হইতে পৃথক কোন বস্তু নহে। অতএব, আলো অপেক্ষা সূর্য শ্রেষ্ঠ, এরূপ বলা চলে না। তদ্রূপ জগতে যাহা কিছু আছে সবই আল্লাহর নূর। সুতরাং তাঁহাকে কোন কিছুর সহিতই তুলনা করা যাইতে পারে না। আল্লাহ্ সর্বশ্রেষ্ঠ হওয়া অর্থ এই যে, বুদ্ধি বা কল্পনা দ্বারা কেহই তাঁহাকে ধারণা করিতে পারে না। তিনি বুদ্ধি ও কল্পনার অতীত।
(১) ‘আল্লাহ্ পবিত্র’, (ছোবহানাল্লাহ্)
(২) ‘সমস্ত প্রশংসাই আল্লাহ্’র', (আলহামদুলিল্লাহ)
(৩) 'আল্লাহ্ ব্যতীত কেহই উপাস্য নাই' (লা ইলাহ্ ইল্লাল্লাহ্) এবং
(৪) 'আল্লাহ্ সর্বশ্রেষ্ঠ’ (আল্লাহুআকবার)।
এই বাক্যগুলির তাৎপর্য এখন তোমার বুঝিয়া লওয়া দরকার। এই চারিটি বাক্য নিতান্ত ক্ষুদ্র হইলেও আল্লাহ্’র মা'রিফাতের সমষ্টি। নিজের পবিত্রতা দৃষ্টে যখন আল্লাহ্’র পবিত্রতা তুমি বুঝিলে তখন ‘আল্লাহ্ পবিত্র' এই কলেমার তাৎপর্য বুঝিতে পারিলে। নিজের বাদশাহী চিনিয়া যখন আল্লাহ্’র বাদশাহী সংক্ষেপে চিনিতে পারিলে- যেমন কলম লেখকের হাতের অধীন তদ্রূপ সমস্ত উপাদান ও মধ্যবর্তী কারণ একই আল্লাহর আজ্ঞাধীন তখন ‘সমস্ত প্রশংসাই আল্লাহর' এই বাক্যের মর্ম উপলব্ধি করিলে। আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কেহ যখন নিয়ামতদাতা নাই তখন প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা একমাত্র আল্লাহ্’র জন্যই শোভন, তিনি ছাড়া অপর কেহই প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা পাইতে পারে না। যখন বুঝিতে পারিলে যে, তিনি ব্যতীত অপর কাহারও আজ্ঞা করিবার স্বাধীন ক্ষমতা নাই তখন ‘আল্লাহ্ ব্যতীত কেহই উপাস্য না' এই বাক্যের তাৎপর্য বুঝিলে।
'আল্লাহ্ সর্বশ্রেষ্ট' এই বাক্যের মর্ম এখন বুঝিয়া লও। জানিয়া রাখ, তুমি যত বড় জ্ঞানীই হও না কেন, মহান আল্লাহর হাকীকত তুমি কখনও বুঝিতে পারিবে না। কারণ, তিনি এত মহান ও শ্রেষ্ঠ যে, মানব কল্পনায় ইহা অনুধাবন করিতে পারেন না। সুতরাং তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ। নতুবা তাহার শ্রেষ্ঠত্বের কোন তুলনা নাই যদ্দ্বারা তুমি তাহার শ্রেষ্ঠত্বের পরিমাণ নির্ধারণ করিয়া লইতে পারিবে। বরং আল্লাহ্ ব্যতীত বিশ্বজগতে অপর কোন বস্তুর অস্তিত্বই নাই যাহার তুলনায় তাহাকে সর্বশ্রেষ্ঠ বলা যাইবে। বিশ্ব-সংসারে যাহা কিছু দেখা যায় সমস্তই আল্লাহর অস্তিত্বের নূর। সূর্যের আলো সূর্য হইতে পৃথক কোন বস্তু নহে। অতএব, আলো অপেক্ষা সূর্য শ্রেষ্ঠ, এরূপ বলা চলে না। তদ্রূপ জগতে যাহা কিছু আছে সবই আল্লাহর নূর। সুতরাং তাঁহাকে কোন কিছুর সহিতই তুলনা করা যাইতে পারে না। আল্লাহ্ সর্বশ্রেষ্ঠ হওয়া অর্থ এই যে, বুদ্ধি বা কল্পনা দ্বারা কেহই তাঁহাকে ধারণা করিতে পারে না। তিনি বুদ্ধি ও কল্পনার অতীত।
পরবর্তী পর্ব —
আল্লাহ্ সম্বন্ধে মানুষের ধারণা অসম্পূর্ণ
আল্লাহ্ সম্বন্ধে মানুষের ধারণা অসম্পূর্ণ

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন