মঙ্গলবার, ১৭ জুন, ২০২৫

বিবাহ (৩২) পারস্পরিক জীবন যাপনের দ্বাদশ আদব তালাক সংক্রান্ত


বিবাহ (পর্ব – ৩২) 
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.) 

পারস্পরিক জীবন যাপনের দ্বাদশ আদব তালাক সংক্রান্ত —

 প্রথম, তালাক একটি বৈধ কাজ, কিন্তু বৈধ কাজসমূহের মধ্যে আল্লাহ তাআলার কাছে এর চেয়ে অধিক অপছন্দনীয় দ্বিতীয়টি নেই। এটা তখনই বৈধ হয়, যখন এর দ্বারা অন্যায় উৎপীড়ন উদ্দেশ্য না থাকে, অর্থাৎ, স্ত্রীকে তালাক দেয়া একটি উৎপীড়ন। অপরকে উৎপীড়ন করা জায়েয নয়; কিন্তু স্ত্রী দোষী হলে অথবা স্বামীর তালাক দেয়ার প্রয়োজন হলে জায়েয হবে। সেমতে আল্লাহ তাআলা বলেন, "স্ত্রীরা যদি তোমাদের অনুগত হয় তবে বিচ্ছিন্নতার পথ তালাশ করো না।" 

যদি স্বামীর পিতা পুত্র বধূকে মন্দ মনে করে, তবে তাকে তালাক দিয়ে দেয়া উচিত। হযরত ইবনে ওমর (র.) বলেনঃ আমি এক মহিলাকে বিয়ে করেছিলাম। হযরত ওমর (র.) তাকে অপছন্দ করতেন এবং আমাকে তালাক দিতে বলতেন। আমি এ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (স.)-এর অভিমত চাইলে তিনি বললেন: হে ইবনে ওমর, স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দাও। এ হাদীস থেকে জানা যায়, পিতার হক অগ্রে, কিন্তু এটা তখন, যখন পিতার অপছন্দ করাটা কুউদ্দেশ্যপ্রণোদিত না হয়। যেমন হযরত ওমরের মত পিতার হক নিঃসন্দেহে অগ্রে। স্ত্রী যদি স্বামীকে পীড়ন করে অথবা তার পরিবারকে খারাপ বলে, তবে স্ত্রী দোষী। তেমনি যদি দুশ্চরিত্র হয় ও দ্বীনদার না হয়, তা হলেও দোষী। কোরআনে আছে "মহিলারা বের হবে না; কিন্তু যদি কোন সুস্পষ্ট নির্লজ্জ কাজ করে।" এ আয়াতের তফসীরে হযরত ইবনে মসউদ (র.) বলেন:  স্ত্রী পরিবারের লোকজনকে মন্দচারী বললে এবং স্বামীকে কষ্ট দিলে এও তার নির্লজ্জ কাজ। যদিও এ বিষয়বস্তুটি ইদ্দত সম্পর্কিত; কিন্তু এর দ্বারা আসল উদ্দেশ্য বুঝা যায়। যদি উৎপীড়ন স্বামীর পক্ষ থেকে হয়, তবে স্ত্রীর উচিত কিছু অর্থসম্পদ দিয়ে স্বামীর কবল থেকে মুক্তি লাভ করা। স্ত্রীকে যে পরিমাণ অর্থসম্পদ দেয়া হয়েছে, তার চেয়ে বেশী নেয়া এক্ষেত্রে স্বামীর জন্যে মাকরুহ। স্ত্রীর পক্ষ থেকে অর্থসম্পদ দেয়ার কথা এ আয়াতে বর্ণিত হয়েছে: "স্ত্রী মুক্তিপণস্বরূপ যা দেয়, তাতে তাদের উভয়ের কোন গোনাহ নেই।" মোট কথা, স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে যতটুকু পায়, সে পরিমাণ অথবা তার চেয়ে কম মুক্তিপণ দেয়া উচিত। স্ত্রী অহেতুক তালাক প্রার্থনা করলে সে গোনাহগার হবে। রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, "যে স্ত্রী কোন ভয় ও প্রয়োজন ছাড়া স্বামীর কাছে তালাক প্রার্থনা করে, সে জান্নাতের ঘ্রাণ পর্যন্ত পাবে না।"  অন্য এক রেওয়ায়েতে "তার উপর জান্নাত হারাম" বলা হয়েছে।


তালাক দেয়ার ব্যাপারে স্বামীর উচিত চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা- 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...