মঙ্গলবার, ১৭ জুন, ২০২৫

বিবাহ (৩৩) তালাক দেয়ার ব্যাপারে স্বামীর উচিত চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা



বিবাহ (পর্ব – ৩৩) 
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.) 

তালাক দেয়ার ব্যাপারে স্বামীর উচিত চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা- 

(১) যে তোহ্র তথা হায়েষ থেকে পাক থাকার সময়ে স্ত্রীর সাথে সহবাস করেনি, সেই তোহরে তালাক দেয়া। কেননা, যে তোহরে সহবাস হয়ে গেছে, সে তোহরে তালাক দেয়া বেদআত ও হারাম। যদিও তালাক হয়ে যায়। কেননা, এমতাবস্থায় স্ত্রীর ইদ্দত দীর্ঘ হয়ে যায়। সুতরাং কেউ এরূপ তালাক দিলে তার উচিত রুজু করা। হযরত ইবনে ওমর (র.) তার স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দিলে রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) হযরত ওমরকে বললেন: তাকে রুজু করতে বল। এর পর যখন তার স্ত্রী হায়েষ থেকে পাক হবে, এর পর আবার যখন হায়েয হবে ও আবার পাক হবে, তখন ইচ্ছা করলে তালাক দেবে। নতুবা থাকতে দেবে। এখানে হযরত ইবনে ওমরকে দু'তোহর অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে, যাতে রুজু করার উদ্দেশ্য কেবল তালাক দেয়া না হয়ে যায়। 


(২) তালাক দেবে, দুই অথবা তিন তালাক এক সাথে দেবে না। কেননা, ইদ্দতের পর এক তালাক দ্বারাও সেই উপকার হয়, যা তিন তালাক দ্বারা হয়; অর্থাৎ, স্ত্রী বিবাহ বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যায়, কিন্তু এক তালাক দেয়ার মধ্যে আরও দু'টি উপকার আছে। এক, যদি তালাক দেয়ার পর স্বামী অনুতপ্ত হয়, তবে ইদ্দতের দিনগুলোতে রুজু করতে পারে। দুই, ইদ্দতের পর আবার এই স্ত্রীকে নতুনভাবে বিবাহ করতে পারে। যদি তিন তালাক দেয়ার পর অনুতপ্ত হয়, তবে হালাল করার প্রয়োজন হবে এবং দীর্ঘ দিন অপেক্ষা করতে হবে।

হালাল একটি নিন্দনীয় কাজ। এতে অপরের স্ত্রীর মধ্যে নিয়ত লেগে থাকে এবং তার তালাকের অপেক্ষা করা হয়। তিন তালাকই এসব অনিষ্টের কারণ। এক তালাক দিলে উদ্দেশ্যও সাধিত হয়ে যায় এবং অনিষ্টও হয় না। তবে তিন তালাক একত্রে দেয়া হারাম নয়; বরং এসব অনিষ্টের কারণে মাকরূহ। 

(৩) সম্প্রীতির পরিবেশে তালাক দেবে এবং নির্মমতা ও ঘৃণা সহকারে তালাক দেবে না। আকস্মিক বিরহের কারণে স্ত্রীর যে কষ্ট হবে, তা দূর করার জন্যে হাদিয়াস্বরূপ স্ত্রীকে কিছু দিয়ে তার মন খুশী করবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন :   "যে স্ত্রীর বিবাহে মোহরানা উল্লেখ করা হয়নি তাকে 'মুতআ' দেয়া ওয়াজিব।"

(৪) বিবাহ ও তালাক উভয় ক্ষেত্রে স্ত্রীর গোপনীয়তা প্রকাশ করবে না। এ সম্পর্কে হাদীসে শাস্তিবাণী উচ্চারিত হয়েছে। জনৈক বুযুর্গ থেকে বর্ণিত আছে, তিনি স্ত্রীকে তালাক দিতে চাইলে লোকেরা তাকে জিজ্ঞেস করল- স্ত্রীর প্রতি আপনার সন্দেহ কি? তিনি বললেন: বুদ্ধিমান ব্যক্তি আপন স্ত্রীর গোপন রহস্য ফাঁস করে না। এর পর যখন তিনি তালাক দিয়ে দিলেন, তখন জিজ্ঞেস করা হল, আপনি তাকে কেন তালাক দিলেন? তিনি বললেন : আমি বেগানা স্ত্রীর গোপন তথ্য কেন প্রকাশ করব? মোট কথা, স্বামীর উপর স্ত্রীর যেসকল হক রয়েছে, এ পর্যন্ত সেগুলো বর্ণিত হল।


পরবর্তী পর্ব —

স্ত্রীর উপর স্বামীর হক: 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...