শনিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৪

বিভ্রান্তি (পর্ব- ২) বিভ্রান্তির নিন্দা ও স্বরূপ



বিভ্রান্তি (পর্ব- ২)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

বিভ্রান্তির নিন্দা ও স্বরূপ- 
বিভ্রান্তির নিন্দার জন্যে নিম্নোক্ত দুটি আয়াতই যথেষ্ট-
>"পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে এবং বিভ্রান্ত না করে তোমাদেরকে আল্লাহ থেকে বিভ্রান্তকারী শয়তান"।(সুরা ফাতির - ৫)
>"কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্রস্ত করেছ, তোমরা, আমার অমঙ্গলের প্রতীক্ষা করেছ এবং সন্দেহ পোষণ করেছ। মোহ তোমাদেরকে আল্লাহর আদেশ (অর্থাৎ মৃত্যু) আসা পর্যন্ত বিভ্রান্ত করে রেখেছে এবং বিভ্রান্তকারী শয়তান তোমাদেরকে আল্লাহ থেকে বিভ্রান্ত করেছে"।(সুরা আল-হাদীদ - ১৪)
রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেন : “সাবধানী ব্যক্তিদের নিদ্রা কতই না চমৎকার”।
মোটকথা, শিক্ষার শ্রেষ্ঠত্ব ও মূর্খতার নিন্দায় কোরআন ও হাদীসে যা কিছু বর্ণিত আছে, সবই বিভ্রান্তির নিন্দার জন্যে দলীল। কেননা, বিভ্রান্তিও এক প্রকার মূর্খতা।
বিভ্রান্তির স্বরূপ হল শয়তানের ধোকার কারণে এমন কোন বিষয় সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করা, যা মনের খেয়ালখুশী ও খাহেশের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। 
সুতরাং যে ব্যক্তি কোন অসার ধারণার বশবর্তী হয়ে বর্তমান কিংবা ভবিষ্যতের কোন কল্যাণে বিশ্বাসী হয়, সে বিভ্রান্ত। অধিকাংশ মানুষই আপন কল্যাণের ধারণা রাখে। অথচ তাদের এ ধারণা ভুল। এ থেকে জানা গেল যে, অধিকাংশ মানুষই বিভ্রান্ত। তবে কোন কোন মানুষের বিভ্রান্তি অপরের তুলনায় স্পষ্টতর ও কঠোরতর হয়ে থাকে। 
কঠোরতর বিভ্রান্তি দু’প্রকার - (১) কাফেরদের বিভ্রান্তি ও (২) গোনাহগারদের বিভ্রান্তি। 
পরবর্তী পর্ব
কাফেরদের বিভ্রান্তি ও তার প্রতিকার

বিভ্রান্তি (পর্ব- ১) বিভ্রান্তি সকল দুর্ভাগ্যের মূল



বিভ্রান্তি (পর্ব- ১)
 📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

বিভ্রান্তি সকল দুর্ভাগ্যের মূল-
প্রকাশ থাকে যে, সাবধানতা ও সতর্কতা মানুষের সৌভাগ্যের চাবিকাঠি আর বিভ্রান্তি ও অসাবধানতা দুর্ভাগ্যের সেতুবন্ধ। মানুষের প্রতি ঈমান ও মাগফেরাতের চেয়ে আল্লাহ তা’আলার বড় কোন নেয়ামত নেই এবং বক্ষের উন্মুক্ততা ছাড়া ঈমান ও মাগফেরাত লাভের কোন উপায় নেই। এমনিভাবে কুফর ও গোনাহের চেয়ে বড় কোন অনিষ্ট নেই এবং আন্তরিক অন্ধত্ব ও মূর্খতা ছাড়া অন্য কিছু এই অনিষ্টের কারণ হয় না। চক্ষুষ্মন ব্যক্তিবর্গকে আল্লাহর পক্ষ থেকে যে অন্তর দান করা হয়েছে, তার শানে কোরআনুল করিমে বলা হয়েছে : 
>"কুলঙ্গির মত, যার মধ্যে আছে একটি প্রদীপ, প্রদীপটি একটি কাচের আবরণের মধ্যে রক্ষিত। কাচের আবরণটি একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র সদৃশ, যা প্রজ্বলিত হয় পবিত্র যায়তুন বৃক্ষের তৈল থেকে, যা পূর্বমুখীও নয় পশ্চিমমুখীও নয়, অগ্নিসংযোগ না করলেও মনে হয় তার তৈল আলো দিচ্ছে। নূরের উপর নূর"। (সুরা নূর - ২৪)
পক্ষান্তরে গাফেলদের অন্তরের অবস্থা এরূপ বর্ণিত হয়েছে- 
>"অতল সমুদ্রের মত, যাকে উদ্বেলিত করে তরঙ্গের পর তরঙ্গ, যার উপরে ঘনমেঘ, এক অন্ধকারের উপর আর এক অন্ধকার, যখন সে হাত বের করে, তখন তা দেখে না। আল্লাহ যাকে জ্যোতি দান করেন না, তার কোন জ্যোতি নেই"॥ (সুরা নূর - ৪০)
আল্লাহ তা'আলা সাবধানী লোকদের অন্তর ইসলামের জন্যে উন্মুক্ত করে দেন এবং গাফেল ও বিভ্রান্তদেরকে অন্তশ্চক্ষু দান করেন না। তারা খেয়াল-খুশীকেই নিজেদের পথপ্রদর্শক মনে করে।
মোটকথা, বিভ্রান্তি সকল দুর্ভাগ্যের মূল এবং সমস্ত বিনাশের উৎস বিধায় এর সেসব পথ বর্ণনা করা অত্যন্ত জরুরী, যেগুলো দিয়ে এই বিভ্রান্তি অধিক পরিমাণে আগমন করে।
গাফেল ও বিভ্রান্তদের শ্রেণী যদিও অনেক। কিন্তু চারটি শ্রেণীতে সবাই অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। 
(১) আলেম, (২) আবেদ, (৩) সূফী, (৪) ধনাঢ্য ব্যক্তি। 
এসব দলেরও অনেক উপদল রয়েছে এবং তাদের বিভ্রান্তির কারণসমূহও বিভিন্নরূপ। উদাহরণতঃ কোন কোন লোক শরীয়তের অস্বীকৃত কর্মকে সকর্ম বলে মনে করে। যেমন, অবৈধ ধন-সম্পদ দ্বারা মসজিদ নির্মাণ করে তাতে কারুকার্য করে এবং একে সওয়াবের কাজ মনে করে। কেউ এ ব্যাপারে পার্থক্য করে না যে, নিজের জন্যে চেষ্টা-চরিত্র করে, না আল্লাহর জন্যে করে। কেউ জরুরী কাজ বাদ দিয়ে অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যস্ত থাকে। আবার কেউ ফরয কাজ বর্জন করে নফল কাজে মশগুল থাকে।
নিম্নে আমরা বিভ্রান্তির নিন্দা ও স্বরূপ উদাহরণসহ বর্ণনা করার পর সর্বপ্রথম 'আলেম' তথা শিক্ষিত ব্যক্তিদের বিভ্রান্তি বর্ণনা করার প্রয়াস পাব।

পরবর্তী পর্ব

শনিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৪

নফল নামায (পর্ব - ২৩) সালাতুত্তাসবীহ



নফল নামায - (পর্ব - ২৩)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

সালাতুত্তাসবীহ্ 
এ নামাযটি রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) থেকে হুবহু বর্ণিত আছে। এটা কোন সময় ও কারণের সাথে সম্পৃক্ত নয়। এ নামায একবার পড়া থেকে কোন সপ্তাহ অথবা মাস খালি না থাকা মোস্তাহাব। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পিতৃব্য আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবকে বললেন : আমি আপনাকে একটি বস্তু দিচ্ছি, একটি বিষয় শেখাচ্ছি। আপনি যখন এটা করবেন, তখন আল্লাহ তাআলা আপনার ভূত-ভবিষ্যৎ, পুরাতন ও নতুন, জানা ও অজানা এবং প্রকাশ্য ও গোপন সকল গোনাহ্ মাফ করে দেবেন। বিষয়টি এই,
আপনি চার রাকআত নামায পড়বেন। প্রত্যেক রাকআতে আলহামদু ও একটি সূরা পাঠ করবেন। যখন প্রথম রাকআতের কেরাআত শেষ হয়, তখন দন্ডায়মান অবস্থায় সোবহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার পনর বার, এরপর রুকু করে রুকুতে দশ বার এই কলেমা পড়বেন, এর পর দাঁড়িয়ে এই কলেমা দশ বার, এর পর সেজদা করে সেজদায় দশ বার, মাথা তুলে বসা অবস্থায় দশ বার, এভাবে প্রতি রাকআতে মোট পঁচাত্তর বার এই কলেমা পাঠ করে চার রাকআত নামায সম্পন্ন করবেন। সম্ভব হলে এ নামায প্রত্যেক দিন পড়ুন, নতুবা প্রত্যেক জুমআর দিনে একবার, এটাও সম্ভব না হলে মাসে একবার পড়ুন।
এক রেওয়ায়েতে আছে, শুরুতে সানা পড়বেন, এর পর পনের বার উপরোক্ত তসবীহ্ কেরাআতের পূর্বে এবং দশ বার কেরাআতের পরে পাঠ করবেন; রাকআতের অবশিষ্টাংশে প্রথম রেওয়ায়েতের অনুরূপ পাঠ করবেন; কিন্তু দ্বিতীয় সেজদার পর কিছুই পাঠ করবেন না। এই রেওয়ায়েত উত্তম। উভয় রেওয়ায়েত অনুযায়ী চার রাকআত এক সালামে এবং রাতের বেলায় চার রাকআত দু'সালামে পড়বে। কেননা, হাদীসে আছে- (রাতের নফল নামায দু'রাকআত করে)। উপরোক্ত, কলেমার পরে  وَلَا حَولَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِيُّ الْعَظِيمِ কলেমা যোগ করা উত্তম। কতক রেওয়ায়েতে এ কলেমাও বর্ণিত হয়েছে।

উপরে বর্ণিত নফল নামাযসমূহের মধ্যে তাহিয়্যাতুল মসজিদ, গ্রহণের নামায ও বৃষ্টির নামায ছাড়া অন্য কোন নামায মাকরূহ ওয়াক্তে পড়া মোস্তাহাব নয়। ওযুর দু'রাকআত, সফরের দু'রাকআত, গৃহ থেকে বের হওয়ার নামায এবং এস্তেখারার নামায মাকরূহ ওয়াক্তে পড়া যাবে না। কেননা, এসবের কারণ দুর্বল এবং মাকরূহ ওয়াক্তে নামায পড়ার নিষেধাজ্ঞা জোরদার। অতএব এসব নামায প্রথমোক্ত তিন প্রকার নামাযের মর্তবায় পৌঁছে না। আমি কতক সূফীকে মাকরূহ ওয়াক্তে ওযুর দু'রাকআত নামায পড়তে দেখেছি। অথচ এটা নীতিবিরুদ্ধ। কেননা, ওযু নামাযের কারণ নয়; বরং নামায ওযুর কারণ হয়। কাজেই নামায পড়ার জন্যে ওযু করা উচিত। এটা নয় যে, নামায পড়বে ওযু করার জন্যে। যেব্যক্তি মাকরূহ ওয়াক্তে তার ওযু নামায থেকে খালি রাখতে চায় না, তার উচিত ওযুর পরে দু'রাকআত কাযার নিয়ত করা। কেননা, তার যিম্মায় কোন কাযা নামায থাকা সম্ভবপর। কাযা নামায মাকরূহ ওয়াক্তেও মাকরূহ নয়। কিন্তু মাকরূহ ওয়াক্তে নফলের নিয়ত করার কোন কারণ নেই। এসব ওয়াক্তে নফল নামায পড়তে নিষেধ করার পেছনে তিনটি বিষয় উদ্দেশ্য। 
প্রথম, সূর্যপূজারীদের সাথে সামঞ্জস্য থেকে আত্মরক্ষা করা।
দ্বিতীয়, শয়তান থেকে আত্মরক্ষা করা। হাদীস শরীফে রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: যখন সূর্যোদয় হয় তখন তার সাথে শয়তানের মস্তকের একটি প্রান্ত সংযুক্ত থাকে। সূর্য উপরে উঠে গেলে তা পৃথক হয়ে যায়। যখন ঠিক দ্বিপ্রহর হয় তখন আবার মিলিত হয়ে যায়। যখন ঢলে পড়ে তখন চলে যায়। এর পর যখন সূর্য অস্ত যেতে থাকে, তখন শয়তানের মাথা আবার সংযুক্ত হয় এবং অস্ত যাওয়ার পর আলাদা হয়ে যায়। রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এ তিন সময়ে পড়তে নিষেধ করে তার কারণ বলে দিয়েছেন। 
তৃতীয়, আধ্যাত্ম পথের পথিক সর্বদা নিয়মিত নামায পড়ে। এবাদত একই প্রকারে নিয়মিত করা পরিণামে বিষণ্ণতা সৃষ্টি করে। যদি এক ঘন্টা এবাদত বন্ধ রাখা হয় তবে প্রসন্নতা বৃদ্ধি পায় এবং ইচ্ছা নতুনতর হয়।
(সমাপ্ত)
************
প্রথম পর্বের লিংক


নফল নামায (পর্ব - ২২) হাজতের নামায



নফল নামায - (পর্ব - ২২)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

হাজতের নামায
যেব্যক্তি গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হয়, ইহকাল ও পরকালের কল্যাণের জন্যে তার উচিত হাজতের নামায পড়া। ওহায়ব ইবনুল ওরদ (রহঃ) বলেন: যেসব দোয়া অগ্রাহ্য হয় না, সেগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে, বান্দা বার রাকআত নামায পড়বে, প্রত্যেক রাকআতে আলহামদু, আয়াতুল কুরসী ও কুল হুওয়াল্লাহু পড়বে। এর পর সেজদা করতঃ এই দোয়া পড়বে-

سُبْحَنَ الَّذِي تَقَطَّفَ بِالْمَجْدِ وَتَكَرَمَ بِهِ سُبْحَنَ الَّذِي اخطى كُلَّ شَيْ بِعِلْمِهِ سُبْحَنَ الَّذِي لَا يَنْبَغِي التَّسْبِيحُ الَّا لَهُ سُبْحَنَ ذِي الْمَنِ وَالْفَضْلِ سُبْحَنَ ذِي الْعِزِ وَالْكَرِمِ سُبحن ذِي الطَّولِ اَسْئَلُكَ بِمَعَاقِدِ الْعِرْ مِن عَرشِكَ وَمُنْتَهَى الرَّحْمَةِ مِن كِتَابِكَ وباسمك الاعظم وَجَدَكَ الأعلى وكَلِمَاتِكَ التَّامَّاتِ الَّتِي لَا يُجَاوِزُهُنَّ بِر وَلَا فَاجِرُ أَنْ تُصَلَّى عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمد .

অর্থাৎ, পবিত্র সেই সত্তা, যিনি মাহাত্ম্যকে আপন চাদর করেছেন এবং তদ্দ্বারা মহৎ হয়েছেন। পবিত্র সেই সত্তা, যিনি আপন জ্ঞান দ্বারা প্রত্যেক বস্তুকে বেষ্টন করেছেন। পবিত্র সেই সত্তা, একমাত্র যাঁর জন্যে তসবীহ উপযুক্ত। পবিত্র, অনুগ্রহ ও কৃপাবিশিষ্ট সত্তা। পবিত্র ইযযত ও দানশীলতাবিশিষ্ট সত্তা। পবিত্র নেয়ামতবিশিষ্ট সত্তা। ইলাহী, আমি আপনার কাছে আপনার আরশের জন্যে উপযুক্ত ইযযতের মাধ্যমে এবং আপনার কিতাবের চূড়ান্ত রহমতের মাধ্যমে, আপনার উচ্চ শানের মাধ্যমে এবং আপনার পরিপূর্ণ কলেমাসমূহের মাধ্যমে, যা কোন সৎ ও অসৎ ব্যক্তি অতিক্রম করতে পারে না- এই প্রার্থনা করছি, মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর বংশধরের প্রতি রহমত নাযিল করুন।
এর পর আল্লাহ তাআলার কাছে নিজের প্রয়োজন প্রার্থনা করবে, যদি তা কোন গোনাহের বিষয় না হয়। ইনশাআল্লাহ এ প্রার্থনা কবুল হবে। ওহায়ব বলেন: প্রাচীন লোকগণ বলতেন, এ দোয়া বোকাদেরকে শিখিয়ো না। নতুবা তারা এর মাধ্যমে গোনাহের কাজে সাহায্য নেবে। হযরত ইবনে মসউদ (রাঃ) এ রেওয়ায়েতটি রসূলে করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।


পরবর্তী পর্ব

নফল নামায (পর্ব - ২১) এস্তেখারার নামায



নফল নামায - (পর্ব - ২১)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

এস্তেখারার নামায-
যেব্যক্তি কোন কাজ করার ইচ্ছা করে; কিন্তু কাজটি করা ভাল হবে কি না করা ভাল হবে, তা কিছুই জানে না, তাকে রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) দু'রাকআত নামায পড়তে বলেছেন। সে প্রথম রাকআতে আলহামদু ও সূরা কাফিরূন এবং দ্বিতীয় রাকআতে আলহামদু ও সূরা এখলাস পাঠ করবে। নামাযান্তে এই দোয়া পাঠ করবে:

‎اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَاسْتَقْدِرُكَ بِقُدَرَتِكَ وَاسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ ولَا أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ إِنَّ هَذَا الأمر خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَدُنْيَايَ وَعَاقِبَةِ أَمْرِي وَعَاجِلِهِ فِيهِ وَإِن كُنت يَسِرُهُ لِى ثُمَّ بَارِكْ لِي واجِلِهِ فَقَدِرْه لِى ثُمَّ يَسرُهُ تَعْلَمُ إِنَّ هَذَا الْأَمْرَ شَرَتِي فِي دِينِي وَدُنْيَايَ وَعَاقِبَةِ أَمْرِى وَعَاجِلِهِ وَاجِلِهِ فَاصْرِفْهُ عَنِّى وَاصْرِفْنِي عَنْهُ وَقَدِرْ لِي

‎الْخَيْرَ حَيْثُ مَا كَانَ إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ .

হে আল্লাহ, আমি আপনার জ্ঞানের মাধ্যমে আপনার কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করি, আপনার শক্তির মাধ্যমে আপনার কাছে শক্তি এবং আপনার মহান কৃপা প্রার্থনা করি। কেননা, আপনি শক্তিমান, আমার কোন শক্তি নেই। আপনি জানেন, আমি জানি না। আপনি অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে সবিশেষ জ্ঞাত। হে আল্লাহ, যদি আপনার জ্ঞানে এ কাজটি আমার ইহকাল, পরকাল, পরিণাম, দুনিয়া ও আখেরাতের জন্যে কল্যাণকর হয়, তবে এটি আমার জন্য অবধারিত করুন, অতঃপর একে আমার জন্যে সহজ করুন এবং এতে বরকত দিন। আর যদি আপনি জানেন, এ কাজটি আমার ইহকাল, পরকাল, পরিণাম, দুনিয়া ও আখেরাতের জন্যে ক্ষতিকর, তবে এ কাজ আমা থেকে এবং আমাকে এ কাজ থেকে দূরে রাখুন, আমার জন্যে কল্যাণ অবধারিত করুন, তা যেখানেই থাকুক না কেন। নিশ্চয়ই আপনি সর্ববিষয়োপরি ক্ষমতাবান।
হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে এস্তেখারার দোয়া কোরআনের আয়াতের ন্যায় গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা দিতেন। এক হাদীসে এরশাদ হয়েছে, যখন তোমাদের কেউ কোন কাজ করার ইচ্ছা করে, তখন দু'রাকআত নামায পড়বে এবং সে কাজের নাম উল্লেখপূর্বক উপরোক্ত দোয়া করবে। 
জনৈক দার্শনিক বলেন : যেব্যক্তি চারটি বিষয় প্রাপ্ত হয়, সে চারটি বিষয় থেকে বঞ্চিত হয় না। যে শোকর প্রাপ্ত হয় সে অতিরিক্ত নেয়ামত থেকে বঞ্চিত হয় না; যে তওবা প্রাপ্ত হয় সে কবুল থেকে বঞ্চিত হয় না; যে এস্তেখারা লাভ করে সে মঙ্গল ও কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয় না এবং যে পরামর্শ প্রাপ্ত হয়, সে সঠিক পথ থেকে বঞ্চিত হয় না।


পরবর্তী পর্ব

নফল নামায (পর্ব - ২০) গৃহে গমন ও নির্গমনের নামায



নফল নামায - (পর্ব - ২০)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

গৃহে গমন ও নির্গমনের নামায
হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ)-এর রেওয়ায়েতে রসূলে করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: তুমি যখন গৃহ থেকে বের হও, তখন দু'রাকআত নামায পড়ে নাও। এটা তোমার অশুভ নির্গমনের জন্যে বাধা হবে। আর যখন তুমি গৃহে গমন কর, তখন দু'রাকআত নামায পড়ে নাও। এটা তোমাকে অকল্যাণ থেকে রক্ষা করবে। প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজও এর অন্তর্ভুক্ত। অর্থ, গুরুত্বপূর্ণ কাজের শুরুতে দু'রাকআত নামায পড়ে নেয়া উচিত। এ কারণে এহরাম বাঁধার সময় দু'রাকআত, সফরের শুরুতে দু'রাকআত এবং সফর থেকে প্রত্যাবর্তনের পর গৃহে যাওয়ার পূর্বে মসজিদে দু'রাকআত নামায পড়ার কথা হাদীসে বর্ণিত আছে। এগুলো রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর কর্ম থেকে বর্ণিত। জনৈক সালেহ ব্যক্তি যখন কোন খাদ্য খেতেন অথবা পানি পান করতেন, তখন, দু'রাকআত নামায পড়ে নিতেন।

মানুষের কাজকর্ম তিন প্রকার- (১) কতক কাজ বার বার হয়ে থাকে, যেমন পানাহার। এ ধরনের কাজ বিসমিল্লাহ বলে শুরু করা উচিত। রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ "যেকোন গুরুত্বপূর্ণ কাজ 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম' বলে শুরু না করলে অসম্পূর্ণ থাকে।

(২) কতক কাজ বার বার হয় না; কিন্তু তাতে গুরুত্ব থাকে। যেমন- বিবাহ, উপদেশ, পরামর্শ ইত্যাদি। এ ধরনের কাজ আল্লাহর হামদ ও প্রশংসা সহকারে শুরু করা মোস্তাহাব। উদাহরণতঃ যে বিবাহ দেয় সে বলবে, আলহামদু লিল্লাহ ওয়াসসালাতু আলা রাসূলিল্লাহ- আমি আমার কন্যা তোমার বিবাহে দিলাম এবং যে বিবাহ করে সে বলবে, আলহামদু লিল্লাহ ওয়াসসালাতু আলা রাসূলিল্লাহ- আমি বিবাহ কবুল করলাম। সাহাবায়ে কেরাম উপদেশ দান ও পরামর্শ করার কাজে প্রথমে আল্লাহর হামদ করতেন। 

(৩) কতক কাজ বার বার হয় না; কিন্তু হওয়ার পর বেশী দিন স্থায়ী থাকে এবং তাতে গুরুত্ব পাওয়া যায়। যেমন সফর করা, নতুন গৃহ ক্রয় করা, এহরাম বাঁধা ইত্যাদি। এ ধরনের কাজ করার পূর্বে দু'রাকআত নামায পড়া মোস্তাহাব। গৃহে আগমন ও গৃহ থেকে নির্গমন এগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন কাজ। এটাও যেন এক ছোট্ট সফর।

পরবর্তী পর্ব

বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৪

নফল নামায - (পর্ব - ১৯) ওযুর নামায


নফল নামায - (পর্ব - ১৯)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
ওযুর নামায- 
ওযু করার পর দু'রাকআত নামায পড়া মোস্তাহাব। কারণ, ওযু একটি সওয়াবের কাজ। এর উদ্দেশ্য নামায পড়া। বে-ওযু হওয়ার আশংকা সব সময় লেগে থাকে। তাই নামাযের পূর্বেই ওযু ভঙ্গ হয়ে যাওয়ার এবং প্রথম ওযুর শ্রম নিষ্ফল হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সেমতে ওযু করার সাথে সাথে দু'রাকআত পড়ে নেয়া মোস্তাহাব, যাতে উদ্দেশ্য ফওত না হয়ে যায়। হযরত বেলাল (রাঃ) এর হাদীস থেকে এটা জানা গেছে। রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ আমি জান্নাতে প্রবেশ করে বেলালকে দেখে জিজ্ঞেস করলাম তুমি আমার আগে এখানে পৌঁছে গেলে কিরূপে। বেলাল বললেন: আমি কিছু জানি না। কেবল এতটুকু জানি, যখন আমি নতুন ওযু করি তখনই দু'রাকআত নামায পড়ে নেই।

পরবর্তী পর্ব

নফল নামায (পর্ব - ১৮) তাহিয়্যাতুল মসজিদের নামায



নফল নামায - (পর্ব - ১৮)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

তাহিয়্যাতুল মসজিদের নামায
তাহিয়্যাতুল মসজিদের নামায- 
এ দু'রাকআত নামায সুন্নত। জুমআর দিনে ইমাম খোতবা পাঠ করলেও এ নামায পড়া উচিত। যদি কেউ মসজিদে গিয়ে ফরয অথবা কাযা নামাযে ব্যাপৃত হয়, তবে তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় এবং সওয়াব অর্জিত হয়ে যায়। কেননা, এর উদ্দেশ্য হচ্ছে মসজিদে যাওয়ার প্রারম্ভ এমন এবাদত থেকে শূন্য না হওয়া, যা মসজিদের জন্যে নির্দিষ্ট, যাতে মসজিদের হক আদায় হয়। এজন্যই ওযুবিহীন অবস্থায় মসজিদে যাওয়া মাকরূহ। যদি মসজিদ হয়ে অন্য দিকে যাওয়ার জন্যে অথবা মসজিদে বসার জন্যে প্রবেশ করে, তবে চার বার 'সোবহানাল্লাহ ওয়ালহামদু লিল্লাহ ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার' বলে নেবে। কথিত আছে, এর সওয়াব দু'রাকআত নামাযের সমান। ইমাম শাফেয়ীর মাযহাবে মাকরূহ সমস্তগুলোতে অর্থাৎ, আসর ও ফজর নামাযের পর সূর্য ঢলে পড়ার সময় এবং সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় তাহিয়্যাতুল মসজিদের দুই রাকআত পড়া মাকরূহ নয়। কেননা, বর্ণিত আছে, রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) আসরের পর দু'রাকআত পড়লে কেউ আরজ করল : আপনি তো আমাদেরকে এ নামায পড়তে নিষেধ করেছেন? তিনি বললেন : এ দু'রাকআত নামায আমি যোহরের পরে পড়তাম, বাইরের লোক নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে আজ পড়তে পারিনি। এ হাদীস থেকে দুটি বিষয় জানা গেল- (১) এমন নামায পড়া এ সময়ে মাকরূহ, যার কোন কারণ নেই। নফল নামাযের কাযা একটি দুর্বল কারণ। কেননা, আলেমগণ এ সম্পর্কে একমত নন, নফলের কাযা পড়া উচিত কিনা এবং যে নফল কাযা হয়ে যায়, তার মত নামায পড়ে দিলে নফলের কাযা হয়ে যাবে কিনা। সুতরাং এই দুর্বল কারণের জন্যে যখন আসরের পর নফল মাকরূহ রইল না, তখন মসজিদে আসা, যা একটি পূর্ণাঙ্গ কারণ, তার জন্য আরও উত্তমরূপে মাকরূহ থাকবে না। এ কারণেই জানাযা এসে গেলে জানাযার নামায, গ্রহণের নামায ও বৃষ্টির নামায কোন সময়ই মাকরূহ নয়। কেননা, এসব নামাযের কারণ আছে। মাকরূহ সেই নামায হয়, যার কারণ নেই। (২) আরও জানা গেল, নফলের কাযা পড়া দুরস্ত। কেননা, রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) নফলের কাযা পড়েছেন। হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) নিদ্রার আধিক্য অথবা রোগের কারণে রাত্রি বেলায় উঠতে না পারলে দিনের বেলায় বার রাকআত পড়ে নিতেন। জনৈক আলেম বলেন যেব্যক্তি নামাযে থাকার কারণে মুয়াযযিনের আযানের জওয়াব দিতে পারে না, তার উচিত সালামের পর তা কাযা করে নেয়া, যদিও তখন মুয়াযযিন চুপ হয়ে যায়। যদি কারও কোন নির্দিষ্ট ওযিফা থাকে এবং ওযরবশতঃ তা আদায় করতে না পারে, তবে অন্য সময়ে তা আদায় করে নেবে, যাতে তার নফস আরামপ্রবণ না হয়ে উঠে। সুতরাং এ ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া একে তো নফসের মোজাহাদার জন্যে ভাল, দ্বিতীয়তঃ রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন : "আল্লাহ তাআলার কাছে অধিক পছন্দনীয় আমল তাই, যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা কম"। হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর রেওয়ায়েতে রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ যে আল্লাহর এবাদত করে, এরপর ক্লান্ত হয়ে ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তার প্রতি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হন।

পরবর্তী পর্ব

নফল নামায (পর্ব - ১৭) জানাযার নামায



নফল নামায - (পর্ব - ১৭)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

জানাযার নামায
এ নামাযের নিয়ম সুবিদিত। এক সহীহ্ রেওয়ায়েতে আওফ ইবনে মালেক (রাঃ) বর্ণিত দোয়াটি এ নামাযে অধিক ব্যাপক। তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-কে এক জানাযার নামায পড়তে দেখেছি এবং তাতে তিনি যে দোয়া করেন তা দোয়া মুখস্থ করে নিয়েছি। তিনি বলছিলেন-
“হে আল্লাহ, তাঁর মাগফেরাত করুন, তাঁর প্রতি রহম করুন, তাঁর প্রবেশ পথ (কবর) বিস্তৃত করুন, তাঁকে বরফ ও শিলার পানি দিয়ে গোসল দিন, তাঁকে গোনাহ থেকে পবিত্র করুন, যেমন আপনি সাদা বস্ত্রকে ময়লা থেকে পবিত্র করেছেন, তাঁকে তাঁর গৃহের বদলে উত্তম গৃহ দিন, তাঁর পরিবারের বদলে উত্তম পরিবার দিন, তাঁর স্ত্রীর বদলে উত্তম স্ত্রী দিন, তাঁকে জান্নাতে দাখিল করুন এবং কবর ও জাহান্নামের আযাব থেকে আশ্রয় দিন৷ 
”হযরত আওফ বলেনএ দোয়া শুনে আমার বাসনা হল, হায়, মৃত ব্যক্তি যদি আমি হতাম এবং রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর এ দোয়া যদি আমার জন্যে হত ! 
যেব্যক্তি দ্বিতীয় তকবীরে শরীক হয়, সে ইমামের সাথে অবশিষ্ট তকবীরগুলো বলবে এবং সালামের পর ছুটে যাওয়া তকবীরটি আদায় করে নেবে, যেমন মসবুক ব্যক্তি সালামের পর ছুটে যাওয়া রাকআত আদায় করে। তকবীরসমূহই জানাযার নামাযের বাহ্যিক আরকান। সেমতে অন্যান্য নামাযের রাকআতসমূহের স্থলাভিষিক্ত এ নামাযের তকবীরগুলো হওয়া উচিত। এটা আমার মতে অধিক যুক্তিসঙ্গত, যদিও আরও সম্ভাবনা আছে। জানাযার নামাযের সওয়াব এবং এর সাথে গমনের ফযীলত সম্পর্কে অনেক মশহুর হাদীস বর্ণিত আছে। সেগুলো উল্লেখ করে আমরা বিষয়বস্তু দীর্ঘ করতে চাই না। এর সওয়াব অনেক বেশী। কেননা, এটা ফরযে কেফায়া। নফল তার জন্যেই, যার উপর অন্য ব্যক্তির উপস্থিতির কারণে নির্দিষ্ট হয়ে যায় না। নির্দিষ্ট না হলেও সে ফরযে কেফায়ারই সওয়াব পায়। জানাযার নামাযে অধিক লোকের উপস্থিতি মোস্তাহাব। বেশী লোক হলে দোয়া বেশী হবে এবং তাদের মধ্যে কেউ হয়তো এমনও থাকবে, যার দোয়া কবুল হয়।
কুরায়ব বর্ণনা করেন, হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) -এর এক ছেলের ইন্তেকাল হয়ে গেলে তিনি আমাকে বললেন তার জানাযায় কত লোক উপস্থিত হয়েছে দেখ। আমি দেখার পর বললামঃ অনেক লোক হয়েছে। তিনি বললেন চল্লিশ জন হয়েছে? আমি বললাম হাঁ। তিনি বললেন : এখন জানাযা বের কর। আমি রসূলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি- "যদি কোন মুসলমান মারা যায় এবং তার জানাযায় এমন চল্লিশ ব্যক্তি দন্ডায়মান হয়, যারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করে না, আল্লাহ্ তাআলা তাদের সুপারিশ মৃত ব্যক্তির জন্য কবুল করেন। লোকজন যখন জানাযার সাথে কবরস্থানে পৌছে অথবা এমনিতেও কবরস্থানে যায়, তখন এই দোয়া করবে "গৃহবাসী মুমিন ও মুসলমানদের প্রতি সালাম। আমাদের অগ্রবর্তী ও পরবর্তীদের প্রতি আল্লাহ রহম করুন। আমরাও ইনশাআল্লাহ্ তোমাদের সাথে মিলিত হব।" 
দাফন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে প্রস্থান না করা উত্তম। দাফন সম্পন্ন হয়ে গেলে কবরের কাছে দাঁড়িয়ে (দোয়া করবে) বলবে- ইলাহী, আপনার বান্দা আপনার কাছে সমর্পিত হয়েছে। আপনি তার প্রতি রহম করুন। ইলাহী, তার উভয় পার্শ্ব থেকে মাটি সরিয়ে দিন। তার আত্মার জন্যে আকাশের দরজা খুলে দিন, তার আমল কবুল করুন। ইলাহী, সে সৎ হলে সওয়াব দ্বিগুণ করুন এবং গোনাহগার হলে তার গোনাহ্ ক্ষমা করুন। 

পরবর্তী পর্ব

নফল নামায (পর্ব - ১৬) বৃষ্টির নামায



নফল নামায - (পর্ব - ১৬)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

বৃষ্টির নামায
যখন নদীর পানি শুকিয়ে যায় এবং বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যায়, তখন মানুষকে তিন দিন রোযা রাখতে বলা ইমামের জন্য মোস্তাহাব। এ সময় ইমাম সকলকে সাধ্যানুয়ায়ী খয়রাত করা, কারও পাওনা থাকলে তা আদায় করা এবং গোনাহ থেকে তওবা করারও উপদেশ দেবে।
এর পর চতুর্থ দিন আবাল বৃদ্ধবনিতাসহ গোসল করে বের হবে। অনুনয় বিনয় প্রকাশ পায় এমন ছেঁড়া বস্ত্র পরিধান করবে এবং বিনয়ের ভঙ্গিমায় গমন করবে। কেউ কেউ বলেন : চতুষ্পদ জীব-জন্তুসমূহ সাথে নিয়ে যাওয়া মোস্তাহাব। হাদীসে বলা হয়েছে- “যদি দুগ্ধপোষ্য শিশু, এবাদতে লিপ্ত মাশায়েখ ও চারণকারী চতুষ্পদ জন্তু না থাকত, তবে তোমাদের উপর আযাব নাযিল করা হত”। 
বিস্তীর্ণ মাঠে একত্রিত হওয়ার পর ইমাম তাদেরকে ঈদের নামাযের ন্যায় দু'রাকআত নামায পড়াবেন ; কিন্তু তাতে অতিরিক্ত তকবীর থাকবে না। 
এর পর দুটি খোতবা পাঠ করবেন। উভয় খোতবার অধিকাংশ বিষয়বস্তু এস্তেগফার অর্থাৎ কৃত গোনাহখাতা থেকে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
দ্বিতীয় খোতবার মাঝখানে ইমাম মুসল্লীদের প্রতি পিঠ ফিরিয়ে কেবলামুখী হয়ে যাবে এবং নিজের চাদর এমনভাবে ওলটপালট করবে , যেন নীচের অংশ উপরে এবং ডানের অংশ বামে চলে যায়। মুসল্লীরাও তাদের চাদরের দিক এমনিভাবে পাল্টে নেবে। তখন আস্তে আস্তে দোয়া করবে। চাদর পাল্টানোর মধ্যে এই শুভ ইঙ্গিত রয়েছে, দুর্ভিক্ষ ও অনাবৃষ্টির স্থিতি এমনিভাবে পাল্টে যাক। রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) তাই করেছেন। এর পর ইমাম মুসল্লীদের দিকে মুখ করে খোতবা শেষ করবে এবং চাদর পাল্টানো অবস্থায়ই থাকতে দেবে। 
দোয়া এভাবে করবে ; "ইলাহী, আপনি আমাদেরকে দোয়া করার আদেশ এবং তা কবুল করার ওয়াদা দিয়েছেন। অতএব আমরা আপনার আদেশ অনুযায়ী দোয়া করছি। এখন আপনার ওয়াদা অনুযায়ী তা কবুল করুন। ইলাহী, আমরা যেসব গোনাহ্ করেছি, সেগুলো মার্জনা করে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন। আমাদের রিযিক বৃদ্ধি ও বৃষ্টির জন্যে আমাদের দোয়া কবুল করুন।"

পরবর্তী পর্ব

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...