মখলূক— (পর্ব – ৮)
📚মিনহাজুল আবেদীন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
শরিয়তে নির্জনতার অবস্থান—
এবার আসল আলোচনায় আসা যাক। উদ্দেশ্য ছিল নির্জনতা ও নিঃসঙ্গ জীবন অবলম্বন সম্পর্কে আলোচনা করা। কিন্তু আলোচনা প্রসঙ্গে আমরা অনেক দূরে এসে পড়েছি। যা হোক যদি কেউ প্রশ্ন তোলেন যে, রসূলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লাম) তো বলেছেনঃ আমার উম্মতের বৈরাগ্য হলো মসজিদে অবস্থান করা। এর দ্বারা সংসার ত্যাগ ও নিঃসঙ্গ জীবন অবলম্বনকে তো নিষিদ্ধই করা হয়েছে।
এর জবাবে আমি বলবো যে, হুযূর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লাম)-এর এ নির্দেশটি ফিতনার যুগের জন্য নয়। তাছাড়া, মসজিদে অবস্থান করলেও যদি মানুষের সাথে সাক্ষাতকার এবং অন্য কোন ব্যাপারে জড়িত না হয়, তাহলে বাহ্যিক দিক দিয়ে মানুষের মধ্যে থাকলেও অন্তরের দিক দিয়ে তো সংসার থেকে আলাদাই রয়ে যায়। সংসার ত্যাগ ও নিঃসঙ্গ জীবন অবলম্বনের প্রকৃত উদ্দেশ্যও তাই। জাহেরী ও বাতেনী — একই সাথে উভয় দিক থেকে সংসার ত্যাগ ও নিঃসঙ্গ জীবন অবলম্বন আমার উদ্দেশ্যও নয়। ইব্রাহীম বিন আদহাম (রঃ) এ দিকে ইঙ্গিত করেই বলেছেনঃ একাকী অথচ সমষ্টিগতভাবে অবস্থান করতে হবে এমতাবস্থায় যে, আল্লাহর প্রতি থাকবে বন্ধুত্ব আর মানুষের প্রতি থাকবে ভীতি।
প্রশ্ন উঠতে পারে যে, উলামায়ে কিরামের দরসগাহ এবং সূফীদের খানকায় অবস্থান করা সম্পর্কে উলামায়ে কিরামের অভিমত কি? উলামায়ে কিরামের নিকট এ পদ্ধতিটি অত্যন্ত উত্তম ও একক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। কেননা, এতে উভয় উদ্দেশ্যই সফল হতে পারে। প্রথমত, এ পদ্ধতি গ্রহণের ফলে একদিকে যেমন
মানুষ থেকে দূরে থাকার উদ্দেশ্যটিও হাসিল হয় অপরপক্ষে তেমনি মানুষের সাথে মেলামেশা করা -অথচ তাদের দ্বারা সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা (আল্লাহর ইবাদতের পথে মানুষ সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা) থেকে আত্মরক্ষা পাওয়াও সম্ভব হয়। দ্বিতীয়ত, এ পদ্ধতি অবলম্বনের ফলে জুম'আ, জামা'আত প্রভৃতিতেও অংশ গ্রহণের সুযোগ লাভ করা যায় এবং ইসলামী নির্দেশাদি বৃদ্ধিতে সাহায্য করা সম্ভব হয়।
সুতরাং এ পদ্ধতি অবলম্বনের ফলে সংসার ত্যাগের পন্থা অবলম্বনকারীরা যে নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন, তা লাভ করা সম্ভব হয় এবং সাধারণ মানুষের জন্য যেসব কল্যাণ সংশ্লিষ্ট এ অবস্থায় তাও বিদ্যমান থাকে। কেননা, এতে করে সাধারণ মানুষের সাথে থাকার ফলে শক্তি, বরকত এবং নসীহত হাসিল হয়। সুতরাং উলামায়ে কিরামের দরগাহ ও সূফীদের খানকাহ্ এতদুভয় স্থানে অবস্থান করার পন্থাটি সবদিক থেকেই সামঞ্জস্যপূর্ণ ও উত্তম। এ পন্থাটিই সর্বাপেক্ষা নিরাপদও। এ সকল দিক বিবেচনা করেই অধিকাংশ আবেদীন এ পন্থাটি অবলম্বন করেছেন। ফলে তাঁরা মানুষের মধ্যে অবস্থান করে আল্লাহ্ বান্দাদের দীনের ব্যাপারে সাহায্য এবং তাদের মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখার সুযোগ লাভ করেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁরা মানুষের মধ্যে অবস্থান করার ফলে মানুষও তাঁদের শিষ্ট-রীতিনীতি প্রত্যক্ষ এবং তাঁদের আদর্শ-চালচলন লক্ষ্য করে তাঁদের অনুসরণ করার সুযোগ লাভ করেছে। কেননা মুখে বক্তৃতা করার চাইতে পরিবেশ সৃষ্টি করে শিক্ষাদানই অধিক উপকারী। সুতরাং ধর্মীয় জ্ঞান ও ইবাদত সম্পর্কিত বিষয়ে শিক্ষাদানের জন্য এ পদ্ধতির অনুসরণই অধিকতর উত্তম, ফলপ্রসূ ও সঠিক বলে বিবেচনা করা হয় । :
অতঃপর প্রশ্ন উঠতে পারে যে, পীর সাহেবদের সাথে মুরীদদের অবস্থান উচিত— না নিঃসঙ্গ ও আলাদা জীবন অবলম্বন করা উচিত।
যদি সূফীগণ (পীর সাহেবগণ) প্রথম শ্রেণীর ও সলফে সালেহীনের আদর্শের দৃঢ় অনুসারী হন, তবে তাঁকে উত্তম ধর্মীয় ভ্রাতা, উৎকৃষ্ট সাথী এবং আল্লাহর বান্দাদের উৎকৃষ্ট সাহায্যকারী বিবেচনা করা যায়। সুতরাং তাঁর থেকে আলাদা জীবন অবলম্বন সঙ্গত নয়। আসলে তাঁরা হচ্ছেন প্রকৃত যাহেদ-পন্থী। শোনা যায়, এ শ্রেণীর লোক মানুষকে পরহেজগার হওয়ার ব্যাপারে সাহায্য করেন এবং সত্য অবলম্বন ও সবর ইখতিয়ার করার উপদেশ দিয়ে থাকেন।
আর যদি সূফীগণ সলফে সালেহীন থেকে বর্ণিত মত ও পথ পরিত্যাগ করেন তাহলে সে মুরীদের পক্ষে তার পীবের ব্যাপারে সেই হুকুমই বর্তাবে, যে হুকুম তার জন্য অন্যান্য মানুষের ব্যাপারে বর্তে থাকে। এমতাবস্থায় মুরীদ যদি পীরের নির্ধারিত সীমার মধ্যে সর্বদা অবস্থান করে, নিজের জিহ্বাকে সংযত রাখে এবং পরের উত্তম কার্যে অংশগ্রহণ ও সমস্ত জঞ্জাল থেকে দূরে অবস্থান করে- - তাহলে সে দুনিয়া ত্যাগী ছাড়াও নিঃসঙ্গ ও একাকী জীবন অবলম্বনকারী হিসেবে পরিগণিত হবে এবং পলায়নী মনোবৃত্তি অবলম্বনকারীদের থেকে দূরে অবস্থান করা ও তার পক্ষে সম্ভব হবে।
অতঃপর যদি মুরীদ নিজেকে পীরের নির্ধারিত সীমা থেকে বহির্গত করে নিজের সংশোধন ও সুষ্ঠুতা বিধানের ইচ্ছা করে এবং তার সাহচর্যে যে আপদ আসতে পারে, তা থেকে মাহ্ফুজ হয়ে যায় তথাপি মনে রাখা উচিত যে, এ সব দরসগাহ্ ও খানকাহ্ প্রকৃতপক্ষে শক্তিশালী কেল্লার মতোই। যে ব্যক্তি চেষ্টা করে, সে চোর-ডাকাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এ স্থানে আশ্রয় নিতে পারে। অপরপক্ষে বাইরে অবস্থানকারীর অবস্থা ঠিক উন্মুক্ত ময়দান ও প্রান্তরে বিচরণকারীর মতো, যেখানে শয়তানের অশ্বারোহী সৈন্য সর্বদা প্রদক্ষিণ করে থাকে। তারা সে অসহায় বিচরণকারীর মাল-মাত্তা লুট করে নেয় অথবা তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যেতে পারে। এভাবে প্রান্তরে বিচরণ করা যে কতখানি ঝুঁকির ব্যাপার, তা সহজেই অনুমান করা যায়। সেখানে চতুর্দিকেই বিপদের আশঙ্কা – চারদিকেই বিক্ষিপ্ত মহাশত্রুদল। তারা যে কোন মুহূর্তে আক্রমণ করে যা খুশী তা-ই করবার সুযোগ পায়। এমতাবস্থায় দুর্বল মানুষের জন্য মজবুত কিল্লায় আশ্রয় গ্রহণ ব্যতীত অন্য কোন গত্যন্তর নেই। তবে শক্তিশালী ও সচেতন মানুষের কথা আলাদা। তাদের কাছে কিল্লা এবং প্রান্তর একই সমান। সুতরাং তার জন্য পীর নির্ধারিত সীমারেখা ত্যাগে কোন ভয় বা আশঙ্কার কারণই নেই। তথাপি সকল অবস্থায়ই সীমারেখা ও কিল্লায় অবস্থানই নিরাপদ ও নির্ঝঞ্ঝাট। কেননা, এর ব্যতিক্রমে সাহসী হলেও সর্বদাই তাকে বিব্রত ও পেরেশান অবস্থার সাথে সংগ্রামে লিপ্ত থাকতে হয়।
এ সকল অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মুরীদ এবং কল্যাণকামী ব্যক্তির পক্ষে আল্লাহর কোন বান্দার হাত ধরা এবং তাঁর সাথে দুঃখ-কষ্ট সহ্য করাই সবচাইতে উত্তম ও ভাল। শক্তিমান বয়স্ক মানুষের জন্যও এ সব বুযুর্গ ব্যক্তিকে উপেক্ষা বা তাদের সংস্রব থেকে দূরে থাকার ব্যাপারে কোন বাধা নেই।
তবে এসব ব্যাপারে গভীর চিন্তা-ভাবনার পর অত্যন্ত সতর্কতার সাথেই অগ্রসর হওয়া দরকার।
যা হোক, এবার ধর্মীয় ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎ ও পত্রাদি বিনিময় প্রভৃতি সম্পর্কে আলোচনা করা যাক ।
ধর্মীয় ভ্রাতার সাথে সাক্ষাৎ করা আল্লাহ্ তা'আলার বান্দাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য এবং অন্তঃকরণের সংশোধন সহ আল্লাহ্ তা'আলা পর্যন্ত পৌঁছার উৎকৃষ্ট একটি পন্থা। তবে এ ব্যাপারেও দু'টি শর্তের প্রতি দৃষ্টি রাখা কর্তব্য। প্রথমত, এ ব্যাপারে কিছুতেই বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়। নবীয়ে আকরাম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম) হযরত আবূ হুরায়রা (রা)-কে বলেছিলেনঃ তিন দিন পরপর সাক্ষাৎ করবে – এ ধরনের সাক্ষাতই অতিরিক্ত বন্ধুত্বের কারণ হয়ে থাকে। দ্বিতীয়ত, রিয়া প্রদর্শনী মনোভাব, গীবত ও বাজে বিষয় থেকে বিরত থাকতে হবে। তেমনি তাঁর (যার সাথে সাক্ষাৎ বা পত্র বিনিময় করা হয়) অধিকারসমূহও রক্ষা করতে হবে – যাতে করে তোমার উপর এবং তোমার ভ্রাতার উপর কোন প্রকারের বিপদাপদ নেমে না আসে।
বর্ণিত আছেঃ একদা ফুযায়েল (র) ও সুফিয়ান (র) পরস্পর আলাপ-আলোচনা করলেন। অতঃপর উভয়েই খুব কাঁদতে লাগলেন। সুফিয়ান (র) বললেন, `আয় আবূ আলী (ফুযায়েলের ডাক নাম), আমি এমন কোন বৈঠকেই যোগদান করিনি, যার সওয়াব এ বৈঠকের সওয়াবের চাইতে অধিক বলে আশা করতে পারি।' অপরপক্ষে ফুযায়েল (র) বললেন, 'আমি এ বৈঠকের চাইতে অপর কোন বৈঠকের জন্য আমার অধিক ভয়ের কারণ মনে করছি না।'
তখন সুফিয়ান (র) জিজ্ঞেস করলেন, 'একথা আপনি কেন বলছেন?' ফুযায়েল (র) জবাব দিলেন, 'কেন, আপনি কি খুব ভাল ও উত্তম কথা আমার নিকট বর্ণনা করেননি এবং আমিও কি আপনার সামনে তালাশ করে খুব ভাল ও উত্তম কথা পেশ করিনি?' এ ব্যাপারটিই আপনার ও আমার জন্য গরিমার কারণ হয়ে গেছে'। ফুযায়েলের এ কথা শুনে সুফিয়ান (র) খুবই কাঁদতে লাগলেন ।
সুতরাং তোমার সাথীর সাথে তোমার বসা ও সাক্ষাতকার সতর্ক ও সতর্ক দৃষ্টির সীমারেখা যেন অতিক্রম করে না যায়। এভাবে সব কিছু প্রতি পালন করতে সক্ষম হলে তোমার সংসার ত্যাগ এবং মানুষের সংস্রব থেকে দূরে থাকার মধ্যেও কোন ত্রুটি এবং খারাপ কিছু থাকবে না। এমতাবস্থায় তোমার এবং তোমার সাথীর উপর কোন আপদ এবং দুর্ভোগ আপতিত হবে না। বরং এতে লাভ হবে বিরাট উপকার এবং মহৎ কল্যাণ ।
এখন প্রশ্ন হলোঃ নিঃসঙ্গ জীবন অবলম্বন ও মানুষের সংস্রব থেকে দূরে থাকার জন্য সহজে শক্তি অর্জনের ব্যাপারে কোন্ বিষয় উৎসাহ ও প্রেরণা দান করতে সক্ষম?
সহজ ও বিনাক্লেশে এ শক্তি অর্জনের জন্য তিনটি মৌলিক পন্থা অনুসরণ করাই যথেষ্ট হতে পারে। প্রথমত, ইবাদতে ইলাহীতে সমস্ত সময় ব্যয়িত করতে হবে। কেননা ইবাদতে ইলাহীই অধিকতর উৎকৃষ্ট ও নিরাপদ বৃত্তি। অপরপক্ষে মানুষের সাথে মোলাকাত, দীনতা ও চিত্তবিনোদনের নিদর্শন সুতরাং যখন তুমি দেখবে যে, তোমার নফস প্রয়োজন ও আবশ্যকতা ছাড়াও মানুষের সাথে সাক্ষাৎ ও কথাবার্তা বলার জন্য আগ্রহান্বিত এবং উদগ্রীব হয়ে উঠছে, তখন বুঝবে যে, এটা একটা বেহুদা ব্যাপার মাত্র। এর পরিণতি চিত্তবিনোদন ও অবাধ্যতায় পর্যবসিত হতে বাধ্য। জনৈক ব্যক্তি কি সুন্দরভাবেই না বিষয়টি অভিব্যক্ত করেছেনঃ
'তোমার অবসর আমাকে নিরাপত্তার দিকে টেনে এনেছে। অনেক সময়ই অবসর লোক বেহুদা কার্যে লিপ্ত হয়। সুতরাং যখন তুমি পূর্ণভাবে ইবাদতে ইলাহী আদায় করা শুরু করবে, তখন মুনাজাতে ইলাহীর মধুরতা ও মিষ্টতা তোমার অনুভূত হতে থাকবে। আর আল্লাহর সান্নিধ্য-পিপাসা মানুষের সাহচর্য থেকে তোমাকে রাখবে বিরত এবং তাদের সাথে উঠা-বসা ও কথাবার্তা বলার ব্যাপারে তোমার মনে হবে ভীতির সঞ্চার।
হযরত মূসা (আ) যখন মুনাজাতে ইলাহী থেকে প্রত্যাবর্তন করেন, তখন তাঁর মনে মানুষ সম্পর্কে ভীতির সঞ্চার হয়েছিল। এমনকি, মানুষের কথাবার্তা যাতে তাঁর কানে না পৌঁছাতে পারে, তজ্জন্য তিনি তাঁর কানে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিতেন। সে সময় মানুষের কথাবার্তা মানুষের কথাবার্তার মতোই ছিল, কিন্তু বর্তমানে তো তা গাধার আওয়াজের ন্যায়ই শ্রুত হয়। সুতরাং বুযুর্গ ব্যক্তিগণ যা বলে গেছেন, তা-ই অবলম্বন করা কর্তব্য। তাঁরা বলে গেছেনঃ
আল্লাহ তা'আলাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত হও। সমস্ত মানব জাতিকে এক দিকে সরিয়ে রাখ। আল্লাহ্র সত্যিকারের মহব্বতকামী প্রত্যাশীর একথা ভালভাবে উপলব্ধি করা উচিত যে, সে মানুষের মধ্যে থাকবে সত্য, কিন্তু তাতে নিজেকে হারিয়ে ফেলবে না। মনে রাখবে, মানুষকে তুমি যেভাবেই নাড়াচাড়া কর না কেন, দেখবে সর্বাবস্থায়ই সে বিচ্ছুর ন্যায়। দ্বিতীয়ত, লোভ ও লালসাকে তোমার প্রথমবারেই নিশ্চিহ্ন করে ফেলা উচিত; তাহলে তোমার জন্য মানুষের সংস্রব থেকে দূরে থাকা এবং নিঃসঙ্গ ও একাকী জীবন অবলম্বন সহজ হয়ে যাবে। কেননা, যখন মানুষের নিকট তোমার লাভালাভের ও আশা-আকাঙ্ক্ষার কিছু থাকবে না, তখন তোমার সাথে তাদের থাকা আর না থাকা একই সমান হয়ে দাঁড়াবে।
তৃতীয়ত, মানুষের সংস্রবের আপদসমূহ নিরীক্ষণ ও পর্যালোচনা করো এবং নিজের অন্তঃকরণে তা বদ্ধমূল করে দাও।
এ তিনটি বিষয়কে সুষ্ঠুভাবে পালন করতে পারলে স্বভাবতই তোমাকে তা মকলুকের সংস্রব থেকে সরিয়ে আল্লাহ তা'আলার দিকে ফিরিয়ে দেবে এবং তুমি সুযোগ লাভ করবে আল্লাহর ইবাদত ও খেদমতের জন্য নির্ঝঞ্জাট ও নিঃসঙ্গ জীবন। এমনিভাবেই তুমি আল্লাহ্ রাব্বুল ইয়্যতের দুয়ারের আসল চাবিকাঠি দৃঢ়ভাবে ধরে রাখতে সক্ষম হবে। অবশিষ্ট হেফাজত ও তৌফিকের সবটুকু আল্লাহই দান করবেন।
পরবর্তী পর্ব
শয়তান




