মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৪

হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ (২৯) মানবিক বৈশিষ্ট্য, বৈশিষ্ট্যের তাৎপর্য



মানব সমাজের বিভিন্ন সংগঠন - ১১ 

📚 হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ (পর্ব- ২৯)
✍🏻শাহ্ ওয়ালীউল্লাহ্ মুহাদ্দেসী দেহলভী (রহঃ)

মানবিক বৈশিষ্ট্যবৈশিষ্ট্যের তাৎপর্য 
জেনে রেখোমানুষের কিছু বৈশিষ্ট্য এমন যেতা মানুষ হিসেবে সে প্রকৃতিগত ভাবেই পেয়ে থাকে। তেমনি কিছু বৈশিষ্ট্য তার বৈষয়িক। যা তার পারিপার্শ্বিকতা ও দূরবর্তী কোন প্রভাব থেকে অর্জিত হয়। মানবিক সচ্চরিত্রতা ও বিবেক যে ব্যাপারটিকে অত্যধিক গুরুত্ব দেয় ও লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নেয় তা হলো মানবিক পরিপূর্ণতা বা পূর্ণাঙ্গ মানবতা। 
কারণকখনও কারও এমন কিছু নিয়ে প্রশংসা করা হয়যা তার প্রকৃতিগত অবয়বের সাথে সংশ্লিষ্ট। যেমনতার দৈহিক উচ্চতা কিংবা দেহের বিশালত্বের প্রশংসা। সেটাকেয দি কৃতিত্ব বলা হয়তাহলে সে কৃতিত্বের পূর্ণতা দেখতে পাবে সুউচ্চ ও সুবিশাল পাহাড়-পর্বতে। কখনও কাউকে প্রশংসা করা হয় এমন কিছুর জন্যে যা গাছ-পালায়ও দেখতে পাওয়া যায়। যেমনকারো দ্রুত বর্ধন ডগমগে চেহারাসুন্দর গড়ন ইত্যাদির জন্যে। সেটাই যদি কৃতিত্ব হয়তাহলে লালা কিংবা গোলাপফুল সে কৃতিত্বের সর্বাধিক দাবীদার। কখনও কাউকে এমন কিছুর জন্যে প্রশংসা করা হয়যা জীব-জন্তুর ভেতরেও পাওয়া যায়। যেমনদৈহিক শক্তিসুউচ্চ কণ্ঠখাওয়াশক্ত হাতে পাঞ্জা লড়াজেদী ও প্রতিদ্বন্দ্বীতাপরায়ণ হওয়া ইত্যাদি। যদি সেটাকে কৃতিত্ব বলা হয় তা হলে গাধাকে সেক্ষেত্রে সর্বাধিক কৃতিত্বের দাবীদার বলতে হয়। হ্যাঁকখনও কাউকে এমন কিছুর জন্যে প্রশংসা করা হয়যা শুধু মানুষের মধ্যেই পাওয়া যায়। যেমনমার্জিত চরিত্রউত্তম কর্মধারাউন্নতমানের গুণাবলীউচ্চাংগের শিল্প-নৈপুণ্য ও সুউচ্চ মর্যাদা ইত্যাদি। 
মূলত এগুলোকেই বলা হয় মানবিক যোগ্যতা ও কৃতিত্ব। প্রত্যেক জাতির জ্ঞানী মনীষীগণ এগুলোকেই লক্ষ্য বানিয়ে নেন এবং এসব ছাড়া অন্য যেসব গুণের কথা বলা হয়েছেতারা সেগুলোকে আদৌ কোন প্রশংসনীয় গুণ বলে মনে করেন না। অবশ্য এখনও বিষয়টি সুস্পষ্ট ও পরিশীলিত হয়নি। কারণসে গুণাবলীর মূল বস্তু প্রতিটি জীবের ভেতরই পাওয়া যায়। যেমনবীরত্বের মূলে রয়েছে ক্রোধ সহকারে প্রতিশোধ নেয়াপ্রচণ্ড ভাবে অগ্রসর হওয়া ও বিপজ্জনক কাজে পা রাখা। অথচ এগুলো পুরুষ জীবজন্তুর ভেতরে যথেষ্ট দেখা যায়। কিন্তু সেটাকে তখনই বীরত্ব বলা হয়যখন কোন মানুষ অত্যন্ত বিজ্ঞতার সাথে কল্যাণকর পথে সেগুলোর উপস্থাপনাবাস্তবায়ন ঘটায়। তেমনি কলাকৌশল ও কারিগরী কাজের মূল বস্তু জীব জন্তুর ভেতরেও দেখা যায়। 
বাউউ পাখী তার নিজের বাসা তৈরী করে। কোন কোন জীবতো স্বভাবগত ভাবে এমন শিল্পকর্ম দেখায় যা মানুষকে অনেক কষ্ট করেও সেরূপ করতে ব্যর্থ হতে হয়। 
এ থেকে বুঝা গেল যেসেগুলোও মানুষের মূল কৃতিত্ব বা মৌলিক গুণ নয়বরং সেগুলোও প্রকৃতিগত কৃতিত্বের অন্তর্ভুক্ত! মানুষের মূল কৃতিত্ব বা গুণ হল তার ভেতরকার পশু প্রকৃতিতে মানব প্রকৃতির নিয়ন্ত্রণে রাখাপ্রবৃত্তির তাড়নাকে বিবেক-বুদ্ধির বশীভূত রাখা। তারই ফলে মানুষ জীব জগতে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও কৃতিত্বের অধিকারী হয়ে থাকে। 
জেনে রেখোমানবিক মূল গুণের সাথে যেসব ব্যাপার সম্পৃক্ত তা দুশ্রেণীতে বিভক্ত। একটি হচ্ছে মানবের জৈবিক প্রয়োজনের কাজগুলো দ্বারা আপন উদ্দেশ্য হাসিল সম্ভব হয় নাবরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসবের চাকচিক্যের মোহে ডুবে আসল উদ্দেশ্য বিস্মৃত হয়। এটা যেমন আংশিক লাভেল আশায় সামগ্রিক লাভ থেকে বঞ্চিত হওয়া। এসব ক্ষুদ্র কৃতিত্ব মূল কৃতিত্বের পরিপন্থী হয়ে থাকে। যেমনকোন লোক নিজের উত্তেজনা সৃষ্টি করে ও কুস্তী লড়ে লড়ে বীরত্ব অর্জন করতে চায়কিংবা আরবী কবিতা ও ভাষণ মুখস্ত করে বিশুদ্ধ আরবী ভাষী হতে চায়। 
মানব চরিত্রের প্রকাশ ঘটে তার স্বজাতির সাথে ঘাত-প্রতিঘাতের ভেতর দিয়ে। তেমনি মানুষের কর্ম কৌশল উদ্ভাবিত হয় তার প্রয়োজনাদি মেটাবার গরজে। তেমনি শিল্প কার্যের প্রয়োজনে যন্ত্রপাতি আবিস্কৃত হয়। তবে এসব কিছুই জীবন সাংগ হবার সাথে সাথেই শেষ হয়ে যায়। তাই কোন ব্যক্তি যদি এ অসম্পূর্ণ গুণ নিয়ে এমনকি তার সাথে সম্পৃক্ত অস্থায়ী ব্যাপারগুলোর প্রতি অসন্তোষ নিয়েও মারা যায়তথাপি সে মানবিক মূল গুণ থেকে বঞ্চিত থেকেই চলে যায়। 
তারপর যদি তার অসম্পূর্ণ গুণ ও কার্যাবলীর পেছনে প্রবৃত্তির তাড়না সৃষ্ট সংকীর্ণ স্বার্থান্ধতা সক্রিয় থেকে থাকেতাহলে তো লাভের বদলে শুধুই ক্ষতি হল। 
দ্বিতীয় শ্রেণী হলসে ব্যাপারগুলো যার প্রভাবে তার ভেতরকার পশু স্বভাব ফেরেশতা স্বভাবের অনুগত হয়ে যায়সেটার নির্দেশেই চলে আর তারই রঙে রঞ্চিত হয়। তার ফেরেশতা স্বভাবটি এরূপ শক্তিশালী হতে হবে যা বিন্দুমাত্র পশু স্বভাবের প্রভাব মেনে নেবেনা। কোনমতে সেটার হিংসার ছাপ তার ওপর পড়বে না। মোমের ওপর আংটির ছাপ যেভাবে পড়ে সে ভাবে কোন মতেই পশু স্বভাবের ছাপ ফেরেশতা স্বভাবের ওপর যেন না পড়েতার উপায় হল এইযখনই আত্মিক শক্তিটির কোন কিছুর প্রয়োজন দেখা দেয় আর তা সে তার দৈহিক শক্তির নিকট কামনা করেতখন জৈবিক শক্তির কাজ হবে সে নির্দেশ পালন করা এবং কোন মনে তা অমান্য না করা। এভাবে আত্মিক শক্তির প্রতিটি নির্দেশ যদি জৈবিক শক্তি পালন করতে থাকেতাহলে সে স্বভাবতই সেগুলোয় অভ্যস্ত হয়ে যাবে। ফলে সে নিজেই সেগুলোর আকাঙ্ক্ষা হয়ে যাবে। পক্ষান্তরে যে কাজগুলো ফেরেশতা স্বভাব কামনা করে তার পশু স্বভাব তা বাধ্য হয়ে মেনে নেয়তখন স্বভাতই প্রথমটি সন্তুষ্ট এবং দ্বিতীয়টি অসন্তুষ্ট হয়। এ ব্যাপারটি যে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব মেনে চলে বহিঃশক্তির গতিবিধির প্রতি লক্ষ্য করা। এটাও ফেরেশতা স্বভাত বা বিবেকেরই বৈশিষ্ট্যপশু স্বভাব বা প্রবৃত্তি এ বৈশিষ্ট্য থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। 
যখন এ অবস্থা দাঁড়াবে যেপশু প্রবৃত্তি তার বাসনা-কামনাস্বাদ-আহলাদ ও আসক্তি-আকর্ষণ বর্জন করবেতখন তার নাম দেয়া হবে ইবাদাত ও বিয়াযাত বা উপাসনা ও সাধনা। এটাই মানুষের সেই মূল চরিত্র অর্জনের মাধ্যমে হয় যা তার ভেতরে অনুপস্থিত। এ মাকাম বা পর্যায়ের তাৎপর্য এই দাঁড়ালমানবের সত্যিকারের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ইবাদত ছাড়া অর্জিত হয় না। 
এ কারণেই ব্যক্তি মানবের সামগ্রিক কল্যাণের ব্যাপারে মানবিক সত্তার মৌল আলোক বর্তিকা ডাক দিয়ে বলে ও কঠোরভাবে নির্দেশ দেয় যেব্যক্তি মানুষের দ্বিতীয় পর্যায়ের পূর্ণতার জন্যে প্রয়োজন মোতাবেক নির্ধারিত গুণের পরিমার্জন ও উন্নয়ন চাই। সে জন্যে স্বীয় প্রকৃতিকে পরিশোধিত ও সুসজ্জিত করে নিজেকে উচ্চ পরিষদের সদস্যদের পর্যায়ে উন্নীত করাকে জীবনের মূল লক্ষ্য ও সাধনা বলে স্থির করতে হবে। এমন কি নিজের ভেতরে এরূপ যোগ্যতা সৃষ্টি করতে হবে যার ফলে জৈবিক ও আত্মিক উভয় শক্তির ভারসাম্যের প্রভাব সে বিমণ্ডিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে জৈবিক শক্তি আত্মিক শক্তির নির্দেশে পরিচালিত হবে এবং সে ফেরেশতা স্বভাতের মূর্তরূপ ধরে প্রতিভাত হবে। কোন মানুষ যখন সুস্থ মানসিকতার অধিকারী হয়আরতার অস্তিত্ব যখন মানবিক বিধি-বিধান পুরোপুরি ধারণের যোগ্য হয়ে যায়তখন সে উক্ত দুর্লভ গুণ বা বৈশিষ্ট্যের জন্য উদগ্রীব হয়। লোহকে যেভাবে চুম্বক টেনে নিয়ে যায়ঠিক তেমনি তখন সেই ব্যক্তি সত্তাকে উক্ত গুণটি টেনে নেয়। এটা একটা প্রকৃতিগত অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার। আল্লাহ পাক এ স্বভাব দিয়েই মানুষ সৃষ্টি করেছেন। 
তাই দেখা যায়যখন কোন জাতি উক্তরূপ ভারসাম্যপূর্ণ স্বভাব আয়ত্ত করে ফেলেতখন তাদের ভেতর এরূপ মনীষী অবশ্যই দেখা দেয় যিনি তাদের সেই প্রশংসনীয় চরিত্রকে পূর্ণথায় পৌঁছে দিতে যত্নবান হন। মূলত সেটাকেই তখন তারা সর্বোচ্চ সৌভাগ্য বলে ভেবে থাকে। রাষ্ট্রনায়ক ও প্রশাসনের দৃষ্টি সে দিকেই থাকে। জনগণও তাদের প্রভাবে অনুরূপ গড়ে উঠে। সমগ্র দুনিয়ায় তারা মানবতার অত্যুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে বিরাজ করে। সে দেশে সরকার ও জনতা তখন ফেরেশতাদের দলে শামিল হয়ে যায়। সে দেশের মানুষ ও পুণ্যময় অনুশাসনের বরকতে ধন্য হয়ে চলে। দেশে দেশে তাদের স্বাগত সম্ভাষণ শুরু হয়ে যায়। একমাত্র মানবতার সহজাত মানসিক বিধি-বিধান ছাড়া আরব-আজমসাদা-কালোধার্মিক-অধার্মিককাছের-দূরেরউঁচু-নীচু সর্বস্তরের সকল দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার আর কোন বিধি-বিধান রয়েছে কীনেইতা থাকতেও পারে না। এক মাত্র মানবিক মৌলিক গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্যের ওপরেই দুনিয়ার সকল মানুষকে একমত করা যেতোকারণতুমি দেখতে পেলে যে প্রতিটি মানুষের ভেতর ফেরেশতা স্বভাবের বিবেক বিদ্যমান। তাদের মর্যাদা যে কত বড় আর তাদের ভেতরকার উত্তম চরিত্রের লোকদের আসন যে কত ঊর্ধ্বে তাও তুমি দেখতে পেয়েছ। আল্লাহই সর্বশক্তিমান।

পরবর্তী পর্ব
মানব সমাজের বিভিন্ন সংগঠন - ১২ 
মানবিক বৈশিষ্ট্যের তারতম্য

হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ (২৮) মানব সমাজে প্রচলিত রীতি-নীতি



মানব সমাজের বিভিন্ন সংগঠন - ১০ 

📚 হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ (পর্ব- ২৮)
✍🏻শাহ্ ওয়ালীউল্লাহ্ মুহাদ্দেসী দেহলভী (রহঃ)

মানব সমাজে প্রচলিত রীতি-নীতি 
জেনে রেখোমৌলনীতির সাথে সামাজিক রীতি-নীতির সম্পর্কটা জেনে রেখোমৌলনীতির সাথে সামাজিক রীতি-নীতির সম্পর্কটা হচ্ছে অন্তর ও দেহের সম্পর্ক। সব ধর্মেরই পয়লা উদ্দেশ্য এটাই। আল্লাহর শরীয়াতের সকল আলোচ্য বিষয় ও নির্দেশাবলী সেটাই কেন্দ্র করে এসেছে। 
কয়েকটি কারণে এই রীতি-নীতিগুলো জন্ম নেয়। একমনীষীবৃন্দের জ্ঞান-গবেষণা ও ফেরেশতা স্বভাবের আলোকে সাহায্যবদ্ধ আল্লাহদত্ত ইলহাম। 
দুইকোন বড় ধরনের রাজা-বাদশাহ কর্তৃক অনুসৃত পদ্ধতি। তিনমানব সমাজের পছন্দনীয় মনগড়া পদ্ধতি যা কতগুলো ভ্রান্ত ধ্যান-ধারণার কারণে কঠোরভাবে অনুসৃত হয়। তারা তা অনুসরণে কল্যাণ ও বর্জনের অকল্যাণ দেখতে পায়। ফলে তাদের নেতৃস্থানীয় লোকেরাও তা বর্জন করলে নিন্দা করে থাকে। 
আমি যা কিছু বললাম তার সত্যতা যে কোন জ্ঞানীলোক সহজেই মেনে নেবে যখন সে দেখতে পাবেকোন রাষ্ট্রে হয়ত একটি রুসম রেওয়াজ বা রীতি-নীতি মূলত ভাল। কারণতার মাধ্যমেই ব্যক্তি জীবন ধ্যান-ধারণা ও আমলের ক্ষেত্রে পূর্ণতা লাভ করে। সামাজিক রীতি-নীতির শৃঙ্খলমুক্ত জীবন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চতুষ্পদ জীবনের পর্যায়ে নেমে যায়। অনেকেই বিয়ে-শাদী ও অন্যান্য ব্যাপারাদি সামাজিক রীতি অনুসারে যথাযথ ভাবে সম্পাদন করে থাকে। কিন্তু যখন তাদের কাজে এ সব রীতি-নীতির বাঁধন মেনে চলার কারণ জিজ্ঞেস করা হয়তখন তারা স্বজাতির অনুকরণ করার কথা বলা ছাড়া অন্য কোন জবাব দিতে পারে নাবড় জোর সে রুসমের একটা মোটামুটি ধারণা তাদের থাকে যা তারা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে বলতে পারে না। হয়ত তারা সেটার উপকারিতা ও গুণাবলী বলে দেবে। এ ধরনের লোক যদি উক্ত রীতি-নীতি না মানততাহলে তাকে পশুর পর্যায়ে মনে করা হত। 
এ সব রীতি-নীতির ভেতরে কখনও খারাপ রীতিও ঢুকে পড়ে। ফলে লোকদের পক্ষে ভাল-মন্দ নির্ধারণ করা দুষ্কর হয়ে পড়ে। খারাপ রীতির কারণ এটাই যেকখ্নও কোন খারাপ লোক নেতা হয়ে যায়যার দৃষ্টি থাকে সীমিত ও সংকীর্ণ। তার সামনে মানব সমাজের সামগ্রিক কল্যাণের দিকটি থাকে অনুপস্থিত। ফলে সে হিংস্র পশুর আচার-আচরণ চালায়। যেমনডাকাতিআত্মসাৎ ইত্যাদি। কখনও তার থেকে কামনা চরিতার্থতার কাজ প্রকাশ পায়। যেমনঘুষ খাওয়ামাপে কম দেয়া ইত্যাদি। কখনও পোশাক-আশাক ও আনুষ্ঠানিক খাওয়া-দাওয়ার বাহুল্য খরচ চালু করেযা সংগ্রহ করতে যথেষ্ট আয়োজন করতে হয়। কিংবা তার আমোদ-প্রমোদ ও বিলাস-ব্যসনের ঝোঁক বেড়ে যায়। ফলে ধনভাণ্ডার ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শূন্য ও অচল হয়ে যায়। যেমননাচ-গানজুয়া-পাশাশিকার ও প্রমোদ বিহারপশু পাখীর রেস ইত্যাদি। তখন শুন্য ভাণ্ডার পূর্ণ করার জন্য বহিরাগতদের ওপর মোটা কর আরোপ করা হয় ও জনগণ থেকে এত বেশী রাজস্ব আদায় করা হয় যেতারা নিঃস্ব হয়ে যায়। কিংবা তার মর্মজ্বালা ও হিংসা বেড়ে যায়ফলে সে লোকদের সাথে এমন দুর্ব্যবহার করে চলে যা তার নিজের বেলায় সে পছন্দ করে না। অথচ তার দাপটের কারণে কেউ তাকে কিছু বলতে পারে না। 
এ ধরনের নেতৃত্বের অনুসারী হয় পাপাচারী দুষ্ট চরিত্রের লোকেরা। তারা তার সহায়ক হয়ে উক্ত অনাচারগুলো সমাজে ছড়াতে থাকে। তখন সমাজে এমন জনগোষ্ঠী সৃষ্টি হয়যাদের ভেতর না ভাল করার উৎসাহ থাকেআর না মন্দ কাজ বর্জন করার ইচ্ছা হয়। পরবর্তীকালে নেতাদের খারাপ কাজগুলো তাদের ধাতস্থ হয় এবং তারাও তা করতে উদ্যোগী হয়। এক সময় দেখা যায়ভাল কাজের সে সমাজে কোন পাত্তাই মেলে না। এরূপ সমাজে অবশেষে ভাল চরিত্রের অবশিষ্ট লোকগুলো অগত্যা চুপ মেরে যায়। তাদের এ চুপসে যাওয়ার সুযোগেই মন্দ রীতি-নীতিগুলো সমাজে পাকাপোক্ত ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। 
তাই যথার্থ ভাল লোকদের ওপর অপরিহার্য হল সত্যের প্রচার ও প্রসার এবং অসত্যের প্রতিরোধ ও উৎখাতের জন্য আপ্রাণ অব্যাহত প্রয়াস চালানো। 
অনেক ক্ষেত্রে এরূপ কাজ ঝগড়া-বিবাদ ও দাংগা লড়াই ছাড়া সম্ভব হয় না। এ কারণেই ন্যায় প্রতিষ্ঠার লড়াইকে সকল পূণ্য কাজের সেরা পূণ্য কাজ বলে গণ্য করা হয়েছে। এভাবে যখন নেক কাজের রীতি-নীতিগুলো চালু হয়ে যায়তখন তা স্থায়ীভাবে আসন গেড়ে বসে ও যুগ যুগ ধরে লোক জীবনের বাজী ধরে সেটাকে বাঁচিয়ে রাখে। সেটা এমন ভাবে প্রত্যেকের মন-মগজে ঠাঁই নেয় যেতা কোথাও থাক বা না থাকযে কোন অবস্থায় সেটাকে সে অপরিহার্য রীতি হিসেবে মেনে চলে। শুধু মাত্র কলুষিত আত্মার লোকেরানির্বোধরা কিংবা কামনা-বাসনার দাস ও স্বার্থান্ধরা ছাড়া তার বাইরে কেউ পা রাখতে রাজী হয় না। তবে সে সব লোকজনও যখন তার বাইরে চলতে চায়তখন অন্তত মনে তার পাপবোধ থেকেই যায়। তখন সে তার সামগ্রিক কল্যাণের পক্ষে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তারপর সে যখন বেপরোয়াভাবে তা করে চলেতখন বুঝতে হবে তার আত্মা রুগ্ন ও অসুস্থ হয়ে গেছে। তখন সে তার সমাজ ও রীতি-নীতির জন্য কলংক হয়ে দাঁড়ায়। 
যখন কোন সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণময় রীতি-নীতি পুরোপুরি চালু হয়ে যায়তখন উচ্চ পরিষদের ফেরেশতাগণ এর সহায়কদের জন্যে দোয়া ও বিরোধীদের জন্যে বদদোয়া করতে থাকেন। ফলে সুমহান পবিত্র সত্তা সহায়কদের প্রতি সন্তুষ্ট ও বিরোধীদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে যায়। যখন এভাবে কোন কল্যাণময় সমাজ ও রাষ্ট্র কায়েম হয়তখনই সেই মহান উদ্দেশ্য সাধিত হয়যে উদ্দেশ্যে আল্লাহ পাক মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন।

পরবর্তী পর্ব
মানব সমাজের বিভিন্ন সংগঠন - ১১ 
মানবিক বৈশিষ্ট্যবৈশিষ্ট্যের তাৎপর্য 

হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ (২৭) সার্বজনীন মানবিক মৌলনীতি



মানব সমাজের বিভিন্ন সংগঠন - ৯ 

📚 হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ (পর্ব- ২৭)
✍🏻শাহ্ ওয়ালীউল্লাহ্ মুহাদ্দেসী দেহলভী (রহঃ)

সার্বজনীন মানবিক মৌলনীতি 
আবাদ পৃথিবীর সকল রাষ্ট্র ও সভ্য জাতিপুঞ্জের প্রতিটি জাতিই বাবা আদম (আঃ) থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত কোন না কোনভাবে মানবিক প্রয়োজনের মৌলনীতিগুলোর মতৈক্য বজায় রেখে চলছে। যদি কেউ তার বিরোধিতা করতে চায় তো সর্বস্তরের লোক তাকে খারাপ জানে। সে নীতিগুলো এরূপ সর্বজনবিদিত ও স্বীকৃত যেপ্রকাশ্য দিবালোকের মতই তা সুস্পষ্ট। হয়ত সেগুলো শাখা-প্রশাখায় কিছুটা মতানৈক্য দেখা যায় সেটাকে আমার বক্তব্যের পরিপন্থী মনে করা যায় না। 
উদাহরণ স্বরপ বলা যায়মৃতের সৎকার নীতিতে সার্বজনীন মতৈক্য রয়েছে। তবে তার পদ্ধতিতে মতানৈক্য দেখা দেয়। কোন সম্প্রদায় তাঁকে মাটির নিচে দাফন করেকোন সম্প্রদায় তাকে জ্বালিয়ে ভস্ম করাকেই উত্তম মনে করে। তেমনি বিয়ের ব্যাপারটিসবাইকে জানানোর নীতিতে সবাই একমত। উদ্দেশ্য হলবিয়ে ও ব্যভিচারের পার্থক্য সৃষ্টি করা। তথাপি তার পদ্ধতিতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়। একদল সাক্ষীইজাব-কবুল ও ওলিমা করে তা সম্পন্ন করেঅপর দল আবার গান-বাজনা ও জাঁকজমকের পোশাক দিয়ে তা সম্পন্ন করে। ব্যভিচারী ও চোরকে শাস্তি দেয়ার নীতিতে সবাই একমত। তবে তার পদ্ধতিতে পার্থক্য দেখা যায়। এক সম্প্রদায় প্রস্তরাঘাতে মৃত্যু দণ্ড ও হাত কাটার বিধান দেয়অন্য সম্প্রদায় কঠোর মারপিটসশ্রম কারাদণ্ডমোটা অংকের জরিমানা ইত্যাকার শাস্তির ব্যবস্থা করে। 
আলোচ্য সর্বসম্মত মূলনীতির ব্যাপারে দুশ্রেনীর লোকেরা মতানৈক্য ধর্তব্য নয়। কারণতারা সভ্য সমাজের নিম্নস্তরে থেকে জীব-জানোয়ারের আচার-আচরণ অনুসরণ করে। যেমনমানব সমাজের বড় একটি অংশ মূর্খ ও নির্বোধ হওয়ায় তারা কোন নিয়ম-শৃঙ্খলার বাঁধনে থাকতে নারাজ! তাদের এ বাঁধনমুক্ত উচ্ছৃঙ্খল জীবনের কামনাই প্রমাণ করে যেতারা আহাম্মক। দ্বিতীয় দল হলপাপাচারী। তাদের জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ করে দেয় পাপাসক্তি! তাই তাদের অন্তর থেকে যদি পাপাসক্তি বিলুপ্ত করা যায়তাহলে তারাও সুশৃঙ্খল জীবনের পক্ষপাতী হয়ে যায়। তারা তাদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবৃত্তির তাড়নায় অস্থির হয়ে অপরের মা-বোনদের ইজ্জত নষ্ট করে থাকে বটেকিন্তু কেউ যদি তার মা বোনদের ইজ্জত নষ্ট করেতাহলে ক্রোধে ফেটে পড়ে। এতে বুঝা যায়উক্ত খারাপ কাজটি যে খারাপ সে ব্যাপারে তার অন্যান্যের মতই উপলব্ধি রয়েছে। সে এটাও বুঝে যেএ কাজ সামাজিক জীবনকে কলুষিত করে। কিন্তু প্রবৃত্তির তাড়না তাকে ক্ষণিকের জন্য অন্ধ করে ফেলে। চুরিআত্মসাৎ ইত্যাদির অবস্থাও তাই। 
এ ক্ষেত্রে কেউ যেন ভেবে না বসে যেএ মৌলনীতির মতৈক্যটা ঠিক পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের লোকের রুটি তৈরী করে খাওয়ার মতই একটি ব্যাপার। এরূপ ধারণা হবে এক মস্ত বড় ধোঁকা। কারণএকটি হল প্রকৃতিগত ঐক্যঅপরটি হল বিবেকগত ঐক্য। এ দুটির ভেতরে আকাশ-পাতাল তফাত। মানবিক বিবেকভৌগোলিকধর্মীয়সাংস্কৃতিক সব ব্যবধান ডিংগিয়ে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে যেআলোচ্য মৌলনীতিগুলো স্বভাবতই এক হবে। সে মানবিক সহজাত স্বভাব মানুষ হিসেবে মানুষের ভেতরে তা অহরহ ঘটার কারণে এবং মানবিক চরিত্র ও সুস্থ বদ্ধির প্রভাবে সৃষ্ট হয়ে থাকে। 
যদি কোন লোক লোকালয় থেকে দূরে কোন জংগলেও লালিত-পালিত হয়সে যদি লোকালয়ের লোকের অনুসৃত রীতি-নীতি সম্পর্কে কিছুই জানতে না পায়তথাপি তার ক্ষুধা লাগবেপিপাসা সৃষ্টি হবেকামনা-বাসনাও দেখা দেবে। নিঃসন্দেহে তার ভেতরে নারীর প্রতি আকর্ষণ জন্ম নেবে। তারপর সেই সন্তান নিয়ে তারা পারিবারিক জীবন যাপন করবে। ফলে তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আচার-আচরণ প্রকাশ পাবে। এটাই মানব সমাজ ও রাষ্ট্রের পয়লা স্তর। তারপর যখন তাদের সংখ্যা বাড়বেতখন অবশ্যই তাদের ভেতর মেধাবী ও চরিত্রবান লোক দেখা দেবে। তখন তাদের ভেতর এমন সব কাজ-কারবার হবেযার ফলে ধীরে ধীরে সমাজ ও রাষ্ট্রের সব স্তরের রীতি-নীতিই অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায়।

মানব সমাজের বিভিন্ন সংগঠন - ১০ 
মানব সমাজে প্রচলিত রীতি-নীতি 

হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ (২৬) আন্তঃরাষ্ট্রিক নীতিমালা



মানব সমাজের বিভিন্ন সংগঠন - ৮ 

📚 হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ (পর্ব- ২৬)
✍🏻শাহ্ ওয়ালীউল্লাহ্ মুহাদ্দেসী দেহলভী (রহঃ)

আন্তঃরাষ্ট্রিক নীতিমালা 
এ অধ্যায়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রের পারস্পরিক সম্পর্ক বিষয়ক নীতিমালা আলোচিত হবে। কি করে বিভিন্ন রাষ্ট্রের মাঝে সুসম্পর্ক বহাল রাখা যায় সেটাই এ নীতিমালার লক্ষ্য। এ নীতির মাধ্যমে বিভিন্ন রাষ্ট্রের ও জাতির ভেতরে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক কায়েম হবে। যেহেতু প্রত্যেক রাষ্ট্রই স্বাধীন ও তার শাসকই রাষ্ট্রের সব কিছুর অধিকর্তাতাই স্বভাবতঃই তার ভাণ্ডারে সম্পদ পুঞ্জিভূত হয় এবং লোভী ও উচ্চাভিলাষী লোক তার সভাসদ হয়। ফলে বিভিন্ন স্বভাব ও দক্ষতার শাসকমণ্ডলীর ভেতর মতানৈক্য ও দ্বন্দ্ব দেখা যায়। যে শাসক নিজকে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী দেখতে পায়সে শাসক অপেক্ষাকৃত দুর্বল শাসকদের উপর জোর-জুলুম চালাতে চায়। এমন কি তা দখল করে নেয়ার জন্য লালায়িত হয়। তাছাড়া সম পর্যায়ের হলেও পারস্পরিক ঈর্ষা থেকে ছোক-খাট বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। কখনও সীমান্ত ভূখণ্ড নিয়েকখনও বা সম্পদ আহরণ নিয়ে এ দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এ সবের ফলে রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে যুদ্ধ-বিগ্রহ দেখা দেয়। এ কারণেই একজন খলীফার প্রয়োজন অপরিহার্য হয়ে যায়। 
খলীফা বলতে সেই লোকটিকে বুঝায়যার কাছে সৈন্য-সামন্ত ও যুদ্ধ সরঞ্জাম এত বেশী রয়েছে যেতার দিকে কারো হাত বাড়ানো স্বভাবতঃই অসম্ভব। কারণ তার রাষ্ট্রে হস্তক্ষেপ করতে হলে অনেক রাষ্ট্রও তাদের সেনা সম্পদ একত্র করে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে তবে হয়ত তা কিছুটা ভাবা যায়। অথচ তার বিরুদ্ধে সব রাষ্ট্র একত্র করা সাধারণ এক অভাবনীয় ব্যাপার। 
রাষ্ট্রবর্গের যখন কোন খলীফা নির্ধারিত হয়ে যায় এবং তার মাধ্যমে উত্তম নীতি ও চরিত্র পরিশীলিত হয়বিদ্রোহীরা অনুগত হয়ে যায় ও শাসকবর্গ তাকে মেনে নেয়তখন আল্লাহর নিয়ামত পরিপূর্ণভাবে আত্মপ্রকাশ করে। সব রাষ্ট্রে স্বস্তি দেখা দেয় এবং জনগণ আশ্বস্ত হয়ে যায়। খলীফাকে তখন শুধু হিংস্র প্রকৃতির লোকদের শায়েস্তা করতে হয় যারা জনগণের সম্পদ লুটে খায় আর তাদের সন্তানদের কয়েদী বানিয়ে থাকে। তিনি তাদের উৎপাত-উৎপীড়নের মূলোৎপাটন ঘটিয়ে জনগণকে তাদের ক্ষতি ও ভীতি থেকে মুক্ত করেন। 
এ কারণেই বনী-ইসরাঈলরা তাদের নবীর কাছে আবেদন করেছিল যে, ‘আমাদের জন্য একজন বাদশাহ পাঠানতাহলে আমরা আল্লাহর পথে জেহাদে অবতীর্ণ হতে পারব। যখন প্রকৃতি পূজারী হিংস্র প্রকৃতির লোকগুলো বদ অভ্যেসের বশবর্তী হয়ে দেশে ফেতনা-ফাসাদ সৃষ্টি করেতখন তার প্রতিকার ব্যবস্থা সম্পর্কে আল্লাহ পাক নবীদের সরাসরি কিংবা পরোক্ষভাবে এ কথাই জানিয়ে দেন যেপ্রথমে তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি নির্মূল করতে হবে। তাতেও তারা সংশোধিত না হলে তাদের হত্যা করতে হবে। এ ধরনের লোক সমাজ দেহের বিষাক্ত অংগটির মতই আশংকাজনক হয়ে থাকে। তখন খলীফার কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এ ব্যবস্থা সম্পর্কে আল্লাহ বলেনঃ "আল্লাহ পাক যদি একদল দ্বারা অন্য দলকে শায়েস্তা না করতেনতা হলে তারা গীর্জামসজিদ সব কিছুই বিধ্বস্ত করত"। (সূরা হাজ্জ্বঃ ৪০)

আল্লাহ পাক যদি একদল দ্বারা অন্য দলকে শায়েস্তা না করতেনতা হলে তারা গীর্জামসজিদ সব কিছুই বিধ্বস্ত করত। 
আল্লাহ পাক এ কারণেই বলেছেন, “তাদের বিরুদ্ধে ততক্ষণ অভিযান অব্যাহত রাখ যতক্ষণ না ফেতনা-ফাসাদ নির্মূল হয়। 
ধন-সম্পদ ও লোক-লশকর ছাড়া খলীফার পক্ষে বিদ্রোহী শাসকদের প্রভাব-প্রতিপত্তি নির্মূল করা সম্ভব নয়। তাই খলীফাকে অবশ্যই যুদ্ধ-বিগ্রহ ও সাজ-সরঞ্জাম সম্পর্কে পারদর্শী ও ওয়াকিফহাল হতে হবে। তেমনি তাকে যুদ্ধ ও সন্ধির রীতি-নীতিও ভালভাবে জানতে হবে। কাদের থেকে রাজস্ব আদায় করতে হবে আর কাদের ওপর জিযিয়া ধার্য করতে হবে তাও জানতে হবে। 
খলীফাকে প্রথমে স্থির করতে হবেকেন তিনি যুদ্ধে নামবেনতিনি কি কোন প্রকার জুলুম বন্ধ করার জন্য অভিযান চালাবেন নাজালিমকে নিপাত করার জন্য যুদ্ধ করবেনএ ক্ষেত্রে তাঁর কয়েকটি উদ্দেশ্য হতে পারে। হয় সেরূপ শাসকের দম্ভ চূর্ণ করে অনুগত রাখঅনয় ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের নায়ককে নির্মূল করে অন্যান্যদের সংযত করাকিংবা তাকে বন্দী করে শিক্ষা দেয়াঅথবা দেশ ও সম্পদ করায়ত্ত করাকিংবা সে দেশের জনগণকে তার বিরুদ্ধে লাগিয়ে দেয়া ও তাদের সহায়তা করা। 
মূলতঃ খলীফার জন্যে এর চেয়ে বেশী জড়িয়ে পড়া ঠিক নয়। কারণআপনজনদের বিরাট এক দলকে রণাংগনে নিঃশেষ করে সম্পদের পাহাড় জমানো খলীফার কাজ হতে পারে না। খলীফার জন্য ফরয হচ্ছে দেশবাসীর অন্তর জয় করা। প্রত্যেকটি কল্যাণের কাজ সম্পর্কে তার ধারণা থাকবে। প্রতিটি ব্যক্তির অবস্থা জেনে নিয়ে তার থেকে তার চাইতে বেশী কিছু আশা করা যাবে না। জ্ঞানী ও নেতৃত্বের অধিকারী লোকদের মর্যাদা দিতে হবে। তাদের উৎসাহ জাগিয়ে ও প্রয়োজনে ভীতি প্রদর্শন করে জিহাদের জন্যে উদ্ধুদ্ধ করতে হবে। 
খলীফার প্রথম লক্ষ্য থাকবে আওতাধীন রাষ্ট্রসমূহে অনৈক্য সৃষ্টি করে তাদের বিক্ষিপ্ত করে রাখা। তাহলেই তারা দুর্বল ও সন্ত্রস্ত থাকবে। এমনকি তারা তাঁর সামনে এরূপ অসহায় হয়ে থাকবে যেনিজে স্বাধীন ভাবে কোন ষড়যন্ত্র করার সাহস দেখাবে না। যখন তাদের এ অবস্থা দেখা দেবে তখন সহজেই তাদের সে সব ব্যবস্থা মানিয়ে নেয়া যাবে না যুদ্ধ করে মানাতে হত। এর পরেও যদি তাদের কেউ কখনো ফাসাদ সৃষ্টি করতে চায়তা হলে তার ওপর কর ও জিযিয়ার ভারী বোঝা চাপিয়ে দিতে হবে এবং তার সমর শক্তি এরূপ দুর্বল করে দিতে হবে যাতে আর কখনও বিদ্রোহ সম্পর্কে ভাবতেও না পারে। 
খলীফাকে যেহেতু বিভিন্ন মন মেজাজ ও চরিত্রের লোকেরা জিম্মাদার হতে হয়তাই তাঁকে অবশ্যই সচেতন ও সতর্ক দৃষ্টি সম্পন্ন হতে হবে। তাঁর গোয়েন্দা বিভাগ যেসব তথ্য সংগ্রহ করবেতার আলোকে তাকে অত্যন্ত দূরদর্শীতার সাথে কাজ চালাতে হবে। যদি জানতে পায় যেএকদল সৈন্য বিদ্রোহ করার জন্য সংঘবদ্ধ হয়েছে অমনি তার বিরুদ্ধে আরেক দল এমন সৈন্য নিয়োগ করতে হবে যারা কোন মতেই তাদের সাথে এক মত হতে পারবে না। যদি কাউকে তিনি খেলাফতের অভিলাষী বলে জানতে পান তো সংগে সংগে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে দুর্বল করে দিবেন। 
খলীফার জন্য জরুরী হল জনগণকে তার অনুগামী ও মংগলকামী বানিয়ে নেয়া। এ ক্ষেত্রে শুধু তাঁকে মেনে নিচ্ছে এতটুকুতেই তৃপ্ত হলে চলবে নাবরং মেনে নেয়ার সুস্পষ্ট নজীরও পেশ করতে হবে। তাহলে তার প্রভাব জনগণের ওপর পড়বে। যেমন খলীফার জন্যে প্রকাশ্য মজলিসে দোয়া করাবড় বড় সভা-সমিতিতে তাকে সম্মান দেখানো ও খলীফার নির্দেশ নিজেদের অন্তরে এরূপ অংকিত করে নেয়া যেভাবে একালের মুদ্রার খলীফার নাম অংকিত হয়ে থাকে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

পরবর্তী পর্ব 
মানব সমাজের বিভিন্ন সংগঠন - ৯
সার্বজনীন মানবিক মৌলনীতি 

হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ (২৫) পরামর্শ পরিষদ ও কর্মকর্তাদের গুণাবলী ও দায়িত্ব



মানব সমাজের বিভিন্ন সংগঠন - ৭ 

📚 হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ (পর্ব- ২৫)
✍🏻শাহ্ ওয়ালীউল্লাহ্ মুহাদ্দেসী দেহলভী (রহঃ)

পরামর্শ পরিষদ ও কর্মকর্তাদের গুণাবলী ও দায়িত্ব 
রাষ্ট্রপতি যেহেতু রাষ্ট্রের উপরোক্ত ব্যবস্থাপনা ও কল্যাণমূলক কার্যকলাপের সব কিছু একা করতে পারেন নাতাই স্বভাবতঃই সহায়ক ব্যক্তিবর্গ থাকতে হবে। উক্ত সহায়ক লোকদের জন্য পয়লা শর্ত হল তাদের অবশ্যই যোগ্য ও আমানতদার হতে হবে। তেমনি রাষ্ট্রপতির প্রতি বাহ্যিক ও আন্তরিক আনুগত্য ও আস্থা থাকতে হবে। যার ভেতরে উপরোক্ত গুণাবলীর অভাব পরিলক্ষিত হবে তাকে পদচ্যুত করতে হবে। যদি রাষ্ট্রপতি তাকে পদচ্যুত করতে অবহেলা করেনতা হলে তিনি যেন রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করলেন। পরন্তু নিজের অবস্থাও খারাপ করে ফেললেন। 
এ কারণেই রাষ্ট্রীয় কাজে তাঁর এমন লোককে নিয়োগ করা উচিত নয়যাকে তিনি পদচ্যুত করতে পারবেন না। তেমনি এমন কোন ঘনিষ্ঠ আপনজনকে তাঁর নিয়োগ করা উচিত নয় যাকে অপসারণ করা তাঁর জন্য অশোভন হবে। 
রাষ্ট্রপতির উচিততাঁর প্রতি যারা আন্তরিক তাদের দিকে নজর রাখা। কারণ কিছু লোক ভয়ে আর কিছু লোক লালসায় তাঁর প্রতি প্রীতি দেখায়। এ ধরনের বন্ধুদের কোন কিছুর মাধ্যমে কৌশলে জড়িয়ে রাখা চাই। 
তবে কিছু লোক অত্যন্ত আন্তরিকতা নিয়েই তাঁকে ভালবাসে। তাই তাদের লাভকে নিজের লাভ ও তাদের ক্ষতিকে নিজের ক্ষতি মনে করা উচিত। মূলতঃ এক ধরনের লোক প্রকৃতিগত ভাবেই নিঃস্বার্থ ও সরল স্বভাবের হয়ে থাকে। এরা সেই শ্রেণীর লোক। 
রাষ্ট্রপতির উচিত নয় কারো থেকে তার যোগ্যতা ও ক্ষমতার বাইরে কিছু আশা করা। তাঁর সহায়ক ব্যক্তিবর্গ চার শ্রেণীর হতে পারে। একদল হল প্রতিরক্ষা ও শান্তিরক্ষী বাহিনীর লোক। রাষ্ট্রকে বহিঃশত্রু ও অভ্যন্তরীণ দুষ্কৃতকারীদের হাত থেকে রক্ষা করা তাদের দায়িত্ব হবে। তারা দেহের সেই হাত যা সর্বদা সশস্ত্র থাকে। এক দল হবে দক্ষ ও কুশলী কর্মচারী। তারা মানব দেহের দক্ষতা ও কর্মক্ষমতার সাথে তুলনীয়। একদল হবে পরামর্শদাতাতারা মানব দেহের বুদ্ধিবৃত্তি ও মানবতার সাথে তুলনীয়। রাষ্ট্রপতির সাথে অপরিহার্য যা তা হচ্ছে প্রতি নিয়ত তাদের খবরাখবর রাখা ও ভাল-মন্দ দেখা। 
রাষ্ট্রপতি ও তার উক্ত সহায়কবৃন্দ যখন জনগণের কর্মচারী হয়ে অহরহ তাদের কল্যাণে নিয়োজিত হয়তখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব হয়ে যায় তাদের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করা। তবে রাজস্ব ও কর আদায়ের ক্ষেত্রে সহজ সরল পন্থা অনুসরণ করা চাই। তাতে যেন জনগণের ক্ষতি ও হয়রানী দেখা না দেয়। অথচ রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনও যেন মিটে যায়। প্রত্যেক ব্যক্তির কিংবা প্রতিটি মালামালের ওপর ট্যাক্স বসানো উচিত নয়। 
প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রনায়কগণ এ ব্যাপারে একমত যেশুধু সচ্ছল লোকের ওপর ট্যাক্স হওয়া উচিত। যেমন পশু সম্পদ কৃষিকাজ দ্রব্যকিংবা ব্যবসায় মালামালের ওপর ট্যাক্স হতে পারে। তাতেও যদি রাষ্ট্রীয় প্রয়োজন পূরণ না হয়তা হলে পেশাদার লোকদের ওপর আয়কর ধার্য করা যেতে পারে। 
রাষ্ট্রপতির এটাও অপরিহার্য দায়িত্ব যেসেনাবাহিনীকে তিনি সে ভাবেই গড়ে তুলবেনযেভাবে এক দক্ষ অশ্বারোহী তার অশ্বকে গড়ে তোলে। কোন ঘোড়ার কি চাল-চলনকোনটির কোন বদঅভ্যাসকোনটির দৌড় ও দোলা কিরূপকোটি আরোহীকে ঠিকভাবে নেয়আর কোনটি ফেলে দিতে চায়তা তার ভাল ভাবে জানা থাকে এবং সে ভাবেই ব্যবস্থা নিয়ে সে সেগুলোকে কাজে লাগায়। কখন আদর করতে হবেকখন চাবুক মারতে হবে তা সে বুঝতে পারে। তাই যখন তারা ঘোড়া কোন অনুভিপ্রেত স্বভাব প্রকাশ করেতার শৈথিল্য চলে যায়অথচ সেটা কোন পেরেশানীর শিকার হয় না। কারণকি জন্য তাকে শাস্তি দেয়া হয়েছে সেটা সে অনায়াসেই বুঝতে পায়। এভাবে যখন যে স্বভাবের জন্য সেটাকে শিক্ষা দেয়া হয় সেটা যদি তার সামনে সুস্পষ্ট করে তুলে ধরা যায়তা হলে সেটা তার অন্তরে স্থায়ীভাবে দাগ কাটে। ফলে সেই স্বভাবের পুনরাবৃত্তির ভয়ে এগিয়ে চলে। তথাপি সেটার এ ভয়টাকে স্বভাবে পরিণত করা পর্যন্ত সে সতর্কতার সাথে এ পরিবর্তন লক্ষ্য করতে থাকে। যখন দেখতে পায় যেকোনরূপ সতর্কতা ছাড়াই সেটা স্বাভাবিকভাবে সদাচরণ করে চলেতখনই কেবল সে নিশ্চিত হয়ে থাকে। 
ঠিক এ পদ্ধতিতেই সেনাবাহিনীকে সুশৃঙ্খল করে গড়ে তোলা অপরিহার্য। তারা যেন তাদের করণীয় ও বর্জনীয় কাজগুলো যথাযথ ভাবে জানতে পারে এবং সেভাবে নিজেদের পরিপূর্ণভাবে গড়ে তুলতে পারে। সেনানায়কদের সেদিকে সদা-সতর্ক দৃষ্টি থাকতে এবং তাদের থেকেও কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলার বাইরে কিছু প্রকাশ না পায় সেদিকে খেয়াল রাখবে। রাষ্ট্রপতির এ সহায়ক শক্তিগুলোর সংখ্যার নির্দিষ্ট কোন সীমারেখা থাকবে না। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে তা কমানো-বাড়ানো হবে। কারণকখনও কোন কাজে একজনই যথেষ্ট হয়কখনও আবার একাধিক লোকের প্রয়োজন দেখা দেয়। তবে মূল কর্মকর্তা হবেন পাঁচ জন। 
একপ্রধান বিচারপতি। তিনি হবেন পুরুষপ্রাপ্ত বয়স্কস্বাধীনবিজ্ঞধীশক্তি সম্পন্ন ও যোগ্য। তাকে তাঁর বিষয়গত বিদ্যায় পারদর্শী হতে হবে এবং পক্ষ-বিপক্ষের বক্তব্যের মারপ্যাঁচ ও ছলচাতুরী সম্পর্কে ওয়াকিফহাল থাকতে হবে। স্বভাবে দৃঢ়তা ও ধৈর্য্য থাকতে হবে। 
বিচার করতে হলে তাকে দুটো ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে। প্রথমেই বিচার্য ঘটনাটি বিশ্লেষণ করে তাঁর দেখতে হবে যেএটা আদৌ কোন ঘটনা কিনা। যদি সত্যি কোন ঘটনা হয়তা হলে সেটা জুলুম-বঞ্চনার ব্যাপারনা ভুল বুঝা-বুঝির ফলে সৃষ্ট আপোষযোগ্য ব্যাপার। দ্বিতীয়তঃ তাঁর দেখতে হবে যেবাদী-বিবাদী মূলত তার প্রতিপক্ষের কাছে কি চায় এবং কার চাওয়াটা সঠিকআর কারটি সঠিক নয়। তাছাড়া ঘটনা জানার সূত্রগুলোও বিশ্লেষণ করে দেখা চাই। কেননাএকপক্ষের হয়ত এরূপ সুস্পষ্ট দলীল-প্রমাণ রয়েছে যার ওপর কারো কোন সংশয় দেখা দেবে না। পক্ষান্তরে প্রতিপক্ষের দলীল-প্রমাণ অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও সংশয়যুক্ত। এ সবই বিচার-বিশ্লেষণ সাপেক্ষ ও এগুলো পুংখানুপুংখ বিশ্লেষণ করেই রায় দিতে হবে। 
দুইপ্রধান সেনাপতি। প্রধান সেনাপতিকে অবশ্যই সেনা সরঞ্জামসমরোপকরণ ও সমর কৌশল সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকেফহাল হতে হবে। তাকে সাহসী ও শক্তিশালী লোক সংগ্রহ করতে হবে। প্রতি ব্যক্তির কর্মক্ষমতা ও যোগ্যতা জানতে হবে। সৈন্যদের প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা নিয়োগের কলাকৌশল ভালভাবে জানা চাই। শত্রুর ঘাঁটিসমূহ ও আক্রমণ পরিকল্পনা সম্পর্কে তাকে ওয়াকেফহাল থাকতে হবে। 
তিনপুলিশ প্রধান। শান্তিরক্ষী বাহিনীর প্রধানকে অবশ্যই সাহসী ও সুদক্ষ পুরুষ হতে হবে। কিভাবে রাষ্ট্রের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা যায় ও শান্তি ভংগকারীদের শায়েস্তা করতে হবেতা তাকে ভালভাবেই জানতে হবে। তার চরিত্রেও দৃঢ়তা ও ধৈর্য্য থাকতে হবে। তাকে অবশ্যই সেই স্বভাবের লোকদের একজন হতে হবেযারা কোন অন্যায় দেখে চুপ থাকতে পারে না। পুলিশ প্রধান যখন এ স্বভাবের হবেনতখন স্বভাবতঃই তিনি অনুরূপ স্বভাবের লোকই বেছে বেছে প্রত্যেক এলাকায় দায়িত্বশীলদের শ্রেণীতে নিযুক্ত করবেণ। তারা অবশ্যই স্ব-স্ব এলাকার খবরাখবর সম্পর্কে ওয়াকিফহাল হবেন। তাদের মাধ্যমে তিনি সারা দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করবেন। যখন প্রয়োজন তখনই তাদের কাজের কৈফিয়ত নেবেন। 
চাররাজস্ব সচিব। সমগ্র রাজস্ব বিভাগে কর্মচারী নিয়োগসঠিক পাত্র থেকে রাজস্ব আদায় ও যথাযথ ক্ষেত্রে তা বিতরণতাঁর দায়িত্বে থাকে। 
পাঁচপ্রাইভেট সেক্রেটারী। রাষ্ট্রপ্রধানের করণীয় ব্যাপারগুলোই তাঁকে সাহায্য করা ও তার ব্যক্তিগত ব্যাপার তদারক করাই তার দায়িত্ব। কারণ রাষ্ট্রীয় সার্বিক দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত করার ফলে রাষ্ট্রপ্রধান তাঁর ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালনের অবকাশ পান না।

পরবর্তী পর্ব
মানব সমাজের বিভিন্ন সংগঠন - ৮ 
আন্তঃরাষ্ট্রিক নীতিমালা 

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...