মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৫

আত্মদর্শন (১০) দেহরক্ষী সৈন্য



আত্মদর্শন পর্ব - ১০
📚কিমিয়ায়ে সাদাত ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)

দেহরক্ষী সৈন্য
উষ্ণতা, পানি, বাতাস এবং মাটি মিলিত হইয়া মানব দেহ সৃষ্ট হইয়াছে। এইজন্যই শরীর দুর্বল। অভ্যন্তরে ক্ষুধা-তৃষ্ণা এবং বাহিরে পানি, আগুন, হিংস্র জন্তু ও শত্রুর অত্যাচারে মানবদেহ ধ্বংস হইতে পারে। সুতরাং ক্ষুধা-তৃষ্ণা নিবারণের জন্য তাহার পানাহারের প্রয়োজন হইয়াছে এবং তজ্জন্য আত্মার দুই প্রকার সৈন্যেরও আবশ্যক হইয়াছে। প্রথম - প্রকাশ্য সৈন্য, যেমন - হস্ত, পদ, দন্ত, মুখ, পাকস্থলী ইত্যাদি। দ্বিতীয় - আভ্যন্তরিক সৈন্য, যেমন - পানাহার ইচ্ছা। 
আবার বাহিরের শত্রু দমনের জন্য দুই প্রকার সৈন্যের আবশ্যক। প্রথম, বাহিরের সৈন্য, যেমন - হস্ত, পদ ও অস্ত্রশস্ত্র। দ্বিতীয়, ভিতরের সৈন্য : যেমন- কামনা, ক্রোধ ইত্যাদি। যে সকল বস্তু দেখিতে পাওয়া যাইতেছে না তাহা আত্মারই প্রকার ইন্দ্রিয়ের প্রয়োজন। তন্মধ্যে পাঁচটি ইন্দ্রিয় বাহিরের, যথা - দর্শন, ঘ্রাণ, আস্বাদন ও স্পর্শ এবং পাঁচটি ইন্দ্রিয় ভিতরের, যথা- খেয়াল, চিন্তা, স্মরণ, কল্পনা, অনুধ্যান- এই পাঁচ শক্তি মস্তিষ্কের পাঁচ ইন্দ্রিয়। এই শক্তিসমূহের প্রত্যেকটির জন্য পৃথক পৃথক কার্য নির্দিষ্ট আছে। তন্মধ্যে একটি দুর্বল বা ধ্বংস হইলে মানুষের সাংসারিক কার্য ও ধর্ম কর্মে ব্যাঘাত ঘটে।


দেহরক্ষী সৈন্য আত্মার অধীন 

আত্মদর্শন (৯) মানবদেহ আত্মার রাজ্য



আত্মদর্শন পর্ব - ৯
📚কিমিয়ায়ে সাদাত ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)

মানবদেহ আত্মার রাজ্য
মানবদেহ আত্মার রাজ্য এবং এই রাজ্যে আত্মার বিভিন্ন প্রকারের সৈন্য আছে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন : "আর তিনি ব্যতীত প্রভুর সৈন্য সম্বন্ধে কেহই জানে না।" (সূরা মুদ্দাসসির, রুকু ১)

এই আয়াতে দেহ রাজ্যের সৈন্যকেই লক্ষ্য করা হইয়াছে। আত্মা পরকালের জন্য সৃষ্ট হইয়াছে এবং স্বীয় সৌভাগ্য অনুসন্ধান করা ইহার কার্য। আল্লাহ্’র মারিফাত লাভই আত্মার সৌভাগ্য। আবার স্বাভাবিক গুণ দ্বারাই আল্লাহ্’র মারিফাত লাভ হয় এবং এই সমস্ত কেবল অনুভব করা চলে (জড়জগতের বস্তুর ন্যায় স্পর্শ করা যায় না)। আল্লাহ’র বিস্ময়কর সৃষ্টি কৌশলের পরিচয় বাহ্য ইন্দ্রিয় দ্বারা লাভ করা যায়। শরীরে এই সকল ইন্দ্রিয় অবস্থান করে। আত্মা যেন শিকারী, মারিফাত তাহার শিকার এবং ইন্দ্রিয় তাহার ফাঁদ। দেহ তাহার বাহন এবং ইহার ফাঁদ ও হাতিয়ারসমূহ বহন করিয়া চলে। এই কারণেই আত্মার জন্য দেহের আবশ্যক হইয়াছে।


দেহরক্ষী সৈন্য

আত্মদর্শন (৮) আত্মার হাকীকত জানিবার প্রারম্ভের কর্তব্য



আত্মদর্শন পর্ব - ৮
📚কিমিয়ায়ে সাদাত ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)

আত্মার হাকীকত জানিবার প্রারম্ভের কর্তব্য 
আত্মার ব্যাখ্যা করা এবং যাহারা সবেমাত্র ধর্মপথে চলিতে আরম্ভ করিয়াছে, আত্মার হাকীকত জানিবার তাহাদিগের কোন প্রয়োজনও না। কারণ, ধর্ম-পথ যাত্রীর প্রথম কর্তব্য হইল রিয়াযত মুজাহাদা (কঠোর সাধনা) এবং যে ব্যক্তি যথারীতি রিয়াযত মোজাহাদা করিবে তাহার নিকট আপনা-আপনি আত্মার স্বরূপ খুলিয়া যাইবে। আত্মার পরিচয় লাভের পথ আল্লাহই তাহার সম্মুখে খুলিয়া দিয়া থাকেন, যেমন তিনি বলেন : “আর যাহারা আমার জন্য কঠোর সাধনা করিয়াছে আমি অবশ্যই তাহাদিগকে আমার রাস্তা দেখাইব।” (সূরা আনকাবুত : ৭)

যে ব্যক্তি রিয়াযত-মুজাহাদার সকল সোপান অতিক্রম করে নাই তাহার নিকট আত্মার হাকীকত বর্ণনা করিবার অনুমতি নাই। কিন্তু রিয়াযতের পূর্বে আত্মার সৈন্যগুলি চিনিয়া লওয়া উচিত। কারণ, যে ব্যক্তি আপন সৈন্যের খবর রাখে না সে আবার যুদ্ধ করিবে কিরূপে ?


মানবদেহ আত্মার রাজ্য

আত্মদর্শন (৭) জীবাত্মা বা পরমাত্মা



আত্মদর্শন পর্ব - ৭
📚কিমিয়ায়ে সাদাত ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
জীবাত্মা বা পরমাত্মা 
উপরে যে রূহ বা আত্মার পরিচয় দেওয়া গেল তদ্ভিন্ন। মানুষের মধ্যে অপর একটি রূহ আছে। ইহাকে জীবন বলে। ইহা বিভক্ত হইতে পারে এবং ইহা পশুপক্ষীরও থাকে। কিন্তু আমরা যাহাকে রূহ বা আত্ম বলিলাম তাহাই আল্লাহর মারিফাতের স্থান। পশুপক্ষীর দেহে ইহা বিদ্যমান নাই। ইহা দেহবিশিষ্ট নহে, গুণ পদার্থও নহে; বরং ইহা ফেরেশতাগণের সমজাতীয় এক মৌলিক পদার্থ। ইহার হাকীকত অবগত বড় কঠিন।


আত্মার হাকীকত জানিবার প্রারম্ভের কর্তব্য 

আত্মদর্শন (৬) আত্মার পরিচয়



আত্মদর্শন পর্ব - ৬
📚কিমিয়ায়ে সাদাত ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)

আত্মার পরিচয় —
আত্মা কি জিনিস এবং উহার স্বাভাবিক গুণ কি, বর্ণনা করিবার অনুমতি শরীয়তে নাই। এই জন্যই রাসূলে মাকবুল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) আত্মার ব্যাখ্যা করেন নাই। আত্মা সম্বন্ধে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন "আর লোকে আপনাকে আত্মা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করিতেছে। আপনি বলুন আত্মা আমার প্রভুর হুকুম।”

আত্মা আল্লাহর সৃষ্ট এবং আলমে আমরের অন্তর্ভুক্ত। ইহার অধিক বলার অনুমতি নাই। আল্লাহ অন্যত্র বলেন “অবগত হও, সৃষ্টি ও হুকুম করার অধিকার একমাত্র তাঁহারই আছে।”আলমে খালক ও আলমে আমর দুইটি স্বতন্ত্র জগত। যে সলক বস্তুর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা এবং সংখ্যা আছে উহাকে আলমে খালক (জড়জগত) বলে। এই জন্য আরবী অভিধানে 'খালক' শব্দের অর্থ আন্দাজ বা পরিমাপ করা লিখিত আছে। আত্মার আকার বা পরিমাপ নাই এবং এইজন্যই ইহাকে ভাগ করা যায় না। আত্মা যদি ভাগ করার উপযুক্ত হইত তবে ইহার এক অংশে কোন পদার্থ সম্বন্ধে জ্ঞান থাকিত এবং অপর অংশ এই সম্বন্ধে অজ্ঞ থাকিত। তাহা হইলে আত্মা একই সময়ে একই বিষয়ে জ্ঞানী ও অজ্ঞ উভয়ই হইত। কিন্তু এরূপ হওয়া অসম্ভব। আত্মা বিভাজ্য নহে এবং ইহা পরিমাপেরও যোগ্য নহে; অথচ আত্মা সৃষ্ট পদার্থ - আল্লাহ ইহাকে সৃজন করিয়াছেন। 'খালক’ শব্দের অর্থ যেমন সৃজন করা দ্রুপ ইহার অপর অর্থ আন্দাজ বা পরিমাপ করা। প্রথম অর্থে আত্মা আলমে খালকের অন্তর্ভুক্ত এবং দ্বিতীয় অর্থে ইহা আলমে খালকের অন্তর্ভুক্ত নহে; বরং আলমে আমূরের অন্তর্গত। যে সকল বস্তুর আকার নাই, পরিমাণ নাই এবং বিভক্ত হইতে পারে না, তৎসমুদয় আলমে আমরের অন্তর্ভুক্ত।

আত্মা অনাদি নহে। যাঁহারা ইহাকে অনাদি বলিয়া মনে করেন তাহারা ভুল করিয়াছেন। আবার যাঁহারা আত্মাকে আরয বা গুণপদার্থ বলেন তাঁহারাও ভ্রমে পড়িয়াছেন। কারণ, গুণ পদার্থ স্বয়ং বিদ্যমান থাকিতে পারে না। গুণাধার পদার্থের আশ্রয়ে অবস্থান করে। আত্মা যখন মানুষের আসল জিনিস এবং সমস্ত দেহ ইহার অধীন তখন আত্মা কিরূপে গুণপদার্থ হইতে পারে। আবার যাঁহারা আত্মাকে সাকার বা শরীরী বস্তু বলেন তাঁহারা ভুল করিয়াছেন। কেননা, শরীরের অংশ হইতে পারে; কিন্তু আত্মা বিভক্ত হইতে পারে না।


জীবাত্মা বা পরমাত্মা 

আত্মদর্শন (৫) আত্মার অস্তিত্বের প্রমাণ



আত্মদর্শন পর্ব - ৫
📚কিমিয়ায়ে সাদাত ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)

আত্মার অস্তিত্বের প্রমাণ
আত্মার অস্তিত্ব তো সুস্পষ্ট। কারণ নিজের অস্তিত্ব সম্বন্ধে কাহারও কোন সন্দেহ নাই। কিন্তু বাহ্য শরীরের অস্তিত্ব দ্বারা মানবের অস্তিত্ত্বের পারে না। কারণ, মৃত ব্যক্তিরও শরীর থাকে, কেবল প্রাণ থাকে না। আত্মা দেহ পরিত্যাগ করিলে শরীর শবে পরিণত হয়। কেহ যদি চক্ষু মুদ্রিত করিয়া কল্পনাবলে নিজ দেহ, দুনিয়া ও দুনিয়াতে যাহা কিছু আছে সব ভুলিয়া যায় তবে নিজ অস্তিত্ব সে অবশ্যই বুঝিতে পারিবে। সে ব্যক্তি স্বকীয় দেহ, দুনিয়া ও দুনিয়াতে যাহা কিছু আছে সব ভুলিয়া গেলেও নিজে যে বর্তমান আছে তাহাতে তাহার কোন সন্দেহ থাকিবে না। এই প্রকারে গভীরভাবে মনোনিবেশ করিলে পরকাল সম্বন্ধেও কিছু জ্ঞান লাভ হইতে পারে। স্বীয় দেহ ও বহির্জগত ভুলিয়া গেলেও যখন আমাদের অস্তিত্ব থাকে তখন মৃত্যু ঘটনায় আমাদের শরীর কাড়িয়া লইলেও আমাদের অস্তিত্ব বজায় থাকিবে, অর্থাৎ আমাদের আত্মা স্থায়ী থাকিবে, কখনও ধ্বংস হইবে না।


আত্মার পরিচয় —

আত্মদর্শন (৪) মানব সৃজনের দ্বিবিধ উপকরণ:



আত্মদর্শন পর্ব - ৪
📚কিমিয়ায়ে সাদাত ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)

মানব সৃজনের দ্বিবিধ উপকরণ:
তুমি নিজকে জানিতে চাহিলে অবগত হও যে, আল্লাহ্ তোমাকে দ্বিবিধ পদার্থে সৃজন করিয়াছেন। প্রথম - এই বাহ্য দেহ যাহা চর্মচক্ষে দেখা যায়; দ্বিতীয় - রূহ বা আত্মা যাহাকে একমাত্র বাতেনী চক্ষু দেখিতে পারে, উহা চর্মচক্ষের অগোচর।

আত্মা —
মানুষের এই আভ্যন্তরিক বস্তুই 'তুমি'। ইহা ব্যতীত আর যতকিছু তোমার সহিত আছে তৎসমুদয়ই উহার অধীন- খালেদ ও লস্কর। আমরা এই আভ্যন্তরীণ মূল বস্তুকে ‘দিল’ বলিব। যখন এই গ্রন্থে 'দিল' শব্দের প্রয়োগ হইবে তখন মানবের সেই মূল বস্তু আত্মাকেই বুঝাইবে। উহাকে কখন ‘রূহ' আবার কখন নফস'ও বলা হইবে। মানুষের বক্ষস্থলের ভিতরে বাম পার্শ্বে যে এক টুকরা গোশত আছে, এ গ্রন্থে ‘দিল’ শব্দে তাহাকে লক্ষ্য করা হইবে না। এই গোশতখন্ডের মূল্যই বা কি ? ইহা তো পশুদেরও আছে এবং মৃতদেহেও থাকে। 
মানুষের মূল বস্তু দিল বা আত্মা এই চর্মচক্ষে দেখা যায় না। যাহা চর্মচক্ষে দেখা যায় তাহা জড়জগতের অন্তর্গত। আত্মা জড়জগতের পদার্থ নহে; তবে এ জগতে মুসাফিরের ন্যায় আসিয়াছে। ঐ গোশতখণ্ড অর্থাৎ হৃদপিণ্ড ইহার বাহন ও হাতিয়ার এবং শরীরের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ইহার লস্কর এবং ইহা সমস্ত শরীরের অপ্রতিহত বাদশাহ। আল্লাহর মারিফাত লাভ ও তাহার অতুলনীয় সৌন্দর্যদর্শনই এই আত্মার স্বভাব। ইহার উপরই ইবাদতের দায়িত্বভার রহিয়াছে। ইহাকে লক্ষ্য করিয়াই আদেশ-নিষেধ প্রচারিত হইয়াছে। পাপ-পুণ্যের ফল ইহাকেই ভোগ করিতে হইবে। ইহার অদৃষ্টেই সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য নির্ধারিত আছে। এ সকল বিষয়ে শরীর আত্মার অধীন। আত্মার স্বভাব ও হাকীকত জানাই আল্লাহর মারিফাতের কুঞ্জী। আত্মাকে চিনিতে চেষ্টা কর। ইহা একটি উৎকৃষ্ট রত্ন এবং এই রত্ন ফেরেশতা শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর দরবার ইহার উৎপত্তি স্থান। ইহা আল্লাহর দরবারেই ফিরিয়া যাইবে।  আত্মা এ জগতে মুসাফিরের ন্যায় বাণিজ্য ও কৃষিকার্যের জন্য আগমন করিয়াছে। এই বাণিজ্য ও কৃষিকার্যের অর্থ ইনশাআল্লাহ্ পরে বর্ণিত হইবে।

আত্মার অস্তিত্ব বুঝিতে না পারা পর্যন্ত তুমি ইহার হাকীকত (প্রকৃত তত্ত্ব) জানিতে পারিবে না। প্রথমে ইহার অস্তিত্ব বুঝিয়া লও, তৎপর ইহার হাকীকত অবগত হইও যে ইহা কি জিনিস। অবশেষে আত্মার সহিত ইহার লস্করের কি সম্বন্ধ রহিয়াছে বুঝিয়া লও। পরিশেষে আত্মার কোন্ কোন্ গুণের প্রভাবে আল্লাহ্'র মারিফাত এবং ইহা হইতে কিরূপে সৌভাগ্য লাভ করা যায় জানিয়া লও। এই সকল প্রশ্নের উত্তর পরে দেওয়া হইবে ।


আত্মার অস্তিত্বের প্রমাণ

আত্মদর্শন (৩) মানুষের পশুর প্রকৃতি দিবার উদ্দেশ্য



আত্মদর্শন পর্ব - ৩
📚কিমিয়ায়ে সাদাত ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)

মানুষকে পশুর প্রকৃতি দিবার উদ্দেশ্য
তোমাকে চতুষ্পদ জন্তু ও হিংস্র প্রাণীর স্বভাব কেন দেওয়া হইয়াছে, এ কথা ভালরূপে বুঝিয়া না উঠা পর্যন্ত তুমি চিন্তা করিতে থাক। এ জন্য কি দেওয়া হইয়াছে যে, সেই সকল প্রবৃত্তি তোমাকে অধীন করিয়া দিবারাত্র বিনা মজুরীতে দাসত্বে নিযুক্ত রাখিবে ? বরং এইজন্য দেওয়া হইয়াছে যে, ইহাদিগকে তুমি সম্পূর্নরূপে বশীভূত করিয়া রাখিবে এবং পরকালের যে সফরে তুমি প্রবৃত্ত রহিয়াছ ইহার সহায়করূপে তোমার তাবেদার গোলাম বানাইয়া লইবে- একটিকে বাহন ও অপরটিকে হাতিয়ার বানাইবে এবং যতদিন তুমি গন্তব্যপথে অগ্রসর হইতে থাকিবে ততদিন ঐ সকল প্রবৃত্তিকে নিজ কর্মে নিযুক্ত রাখিয়া উহাদের সাহায্যে সৌভাগ্যের বীজ সংগ্রহ করিয়া লইবে। তুমি নিকৃষ্ট প্রবৃত্তিসমূহকে চড়িবার ঘোড়া বানাইয়া জানুদ্বয়ের মধ্যে দাবাইয়া রাখিয়া সৌভাগ্যের উন্নত স্থান লক্ষ্য করত ক্রমশঃ অগ্রসর হইতে থাকিবে। বুযুর্গগণ এই উন্নত স্থানকে "আল্লাহর সান্নিধ্য" বলিয়া থাকেন। এবং সাধারণ লোকে ইহাকে বেহেশত বলে। উপরে যাহা বলা হইল তাহা বুঝিতে পারিলে তুমি নিজের হাকীকত জানিতে পারিবে। যে ব্যক্তি এই সকল বিষয় বুঝিতে না পারে, ধর্ম-কর্ম তাহার নিকট বিরক্তিকর বলিয়া বোধ হয়। ধর্মের মূলতত্ব হইতে সে বহুদূরে পর্দার অন্তরালে পড়িয়া থাকে।


মানব সৃজনের দ্বিবিধ উপকরণ:

আত্মদর্শন (২) পাশব ও ফেরেশতা প্রকৃতি



আত্মদর্শন পর্ব - ২
📚কিমিয়ায়ে সাদাত ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)

পাশব ও ফেরেশতা প্রকৃতি 
(১) চতুষ্পদ জন্তুর প্রকৃতি— পানাহার, নিদ্রা ও সহবাস দ্বারা ইতর প্রাণীর শরীর পোষন হয়। শরীর মোটাতাজা ও বলবান হইলেই ইহাদের উন্নতি হইল। এবং ইহা তাহাদের সৌভাগ্য। ইতর প্রাণী হইয়া থাকিলে দিবারাত্র উদর পূরণ ও কাম-রিপুর তোষণে রত থাক। 
(২) হিংস্র প্রাণীর প্রকৃতি— মারামারি করা, হত্যা করা ও বিবাদ-বিসস্বাদ করা হিংস্র জন্তুর স্বভাব । 
(৩) শয়তানের প্রকৃতি —অনিষ্টকারিতা, প্রতারণা ও বাহাবা শয়তানের প্রকৃতি। তুমি হিংস্র জন্তু বা শয়তান হইয়া থাকিলে ঐ সকল নিকৃষ্ট কাজে লিপ্ত হও। তাহা হইলে তুমি স্বীয় পাশব প্রবৃত্তি ও শয়তানী স্বভাব পরিতৃপ্ত করিতে পাইয়া আরাম পাইবে এবং পশু ও শয়তান যাহাকে সৌভাগ্য মনে করে তদ্রূপ সৌভাগ্য লাভে সমর্থ হইবে। 
(৪) ফেরেশতা প্রকৃতি— আল্লাহর অপার সৌন্দর্য দর্শনই ফেরেশতাগণের উপজীবিকা ও এই সৌন্দর্য দর্শন করিয়াই তাহারা সৌভাগ্যবান। পাশব প্রবৃত্তি ও শয়তানী স্বভাবের কিছুই তাহাদের মধ্যে নেই। যদি তুমি ফেরেশতাদের প্রকৃতি পাইয়া থাক তবে তদ্রূপ কার্যে রত থাক । তাহা হইলে তুমি আল্লাহকে চিনিতে পারিবে, তাহার সৌন্দর্য দেখিবার পথ পাইবে ।


মানুষের পশুর প্রকৃতি দিবার উদ্দেশ্য

আত্মদর্শন (১) আত্মদর্শনের উদ্দেশ্য ও স্বরূপ




আত্মদর্শন পর্ব - ১
📚কিমিয়ায়ে সাদাত ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)

আত্মদর্শনের উদ্দেশ্য  ও স্বরূপ —
আত্মজ্ঞানই আল্লাহ্-জ্ঞানের কুঞ্জী এই জন্যই বুযুর্ঘগণ বলেন : "যিনি নিজেকে চিনিয়াছেন তিনি আল্লাহ্-কে চিনিয়াছেন।

আল্লাহ্ তা'আলা-ও এই কারণেই বলেন : "শীঘ্রই আমি তাহাদিগকে স্বীয় নিদর্শনসমুহ পৃথিবীতে ও তাহাদের নিজের মধ্যে দেখাইয়া দিব। যতক্ষন না তাহাদের জন্য প্রকাশিত হইবে যে, নিশ্চয় ইহা সত্য।"-(সুরা হামীম আস্-সাজদা, রুকু ৬, পাড়া ২৪)

আত্মদর্শনের স্বরূপ—
জগতে তোমার নিজ দেহ যেমন তোমার নিকটবর্তী অন্য কোন বস্তু তোমার তত নিকটবর্তী নহে। ইহাতেও যদি তুমি নিজেকে চিনিতে না পার তবে অন্য বস্তু কিরূপে চিনিতে পারিবে ? তুমি যদি বল, "আমি আমাকে বেশ চিনি", তবে ইহা ভুল। কারণ এরূপ আত্মজ্ঞান আল্লাহর কুঞ্জি হইতে পারেনা। এরূপ জ্ঞান পশুদেরও আছে। তুমি যেমন তোমার বাহ্য হস্ত, পদ, মুখ, মস্তক ও মাংসপেশীর অধিক আর কিছুই চিন না এবং তোমার অভ্যন্তরীণ বিষয়ের মধ্যে শুধু এতটুকু বুঝিতে পার যে, ক্ষুধা পাইলে আহার কর, কামভাব প্রবল হইলে স্ত্রী সহবাস কর, পশুগণও ঠিক তদ্রূপই করিয়া থাকে। তোমার হাকীকত জানা তোমার উচিৎ। তুমি কি ? কোথায় যাইবে দুনিয়াতে কেন আসিলে ? তোমাকে কি জন্য সৃষ্টি করা হইয়াছে ? তোমার সৌভাগ্য কি এবং কিসে ইহা নিহিত রহিয়াছে ? তোমার দুর্ভাগ্য কি এবং কিসে ইহা লুক্কায়িত আছে ? তোমার মধ্যে যে সমস্ত গুণ আছে তন্মধ্যে কতগুলি গুন চতুষ্পদ জন্তুর, কতগুলি হিংস্র প্রাণীর, কতগুলি শয়তানের, আর কতগুলি ফেরেশতার । এই সকল গুণের মধ্যে কোনগুলি এবং কি কি তোমার আসল ও স্বাভাবিক অবস্থায় অনুরূপ ? আর কোনগুলি অন্য কারণে উৎপন্ন এবং এইগুলি কোন ধরণের ? যতদিন তুমি এই সকল বিষয় না জানিবে ততদিন তুমি স্বীয় সৌভাগ্য লাভ করিতে পারিবে না । ঐ সকলের প্রত্যেকেরই জীবিকা ও উন্নতি পৃথক পৃথক । 


পাশব ও ফেরেশতা প্রকৃতি 

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...