নবুওয়াতের হাকিকত
উপরে যাহা বর্ণিত হইল তাহা যে ব্যক্তি ভালরূপে বুঝতে না পারিবে সে নবূওতের হাকীকত বুঝিতে পারিবে না; তবে অপরের মুখে শুনিয়া এতটুকু বুঝিতে পারিবে যে নবুয়ত ও বেলায়েত মানবাত্মার অতি গৌরবান্বিত সোপানসমূহের অন্যতম। এরূপ উন্নত অবস্থাপ্রাপ্ত লোক তিন প্রকার গুণসম্পন্ন হইয়া থাকেন, যথা
(১) স্বপ্নে সর্বসাধারণ লোকে যাহা দেখিতে পায়, তাহারা জাগ্রতাবস্থায় তাহা সুস্পষ্ট জানিতে পারেন।
(২) সর্বসাধারণের আত্মা কেবল নিজ শরীরের উপরই আধিপত্য চালাইতে পারে, কিন্তু তাঁহাদের আত্মা জগতের মঙ্গল সাধনে স্বীয় শরীর ব্যতীত সমস্ত বস্তুর উপর আধিপত্য চালাইতে পারে।
(৩) সাধারণ লোক যে ইল্ম উস্তাদের নিকট শিক্ষা করিয়া লাভ করে, তাঁহারা ইহা বিনা উস্তাদে স্বীয় হৃদয়ে লাভ করিয়া থাকেন। যাহাদের বুদ্ধি একটু প্রখর ও আত্মা কতকটা পবিত্র তাহারা বিনা শিক্ষায় কোন কোন বিদ্যা লাভ করিতে পারেন। এমত অবস্থায় যাঁহারা অসাধারণ তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন এবং যাহাদের আত্মা খুব পবিত্র, তাঁহারা বিনা উস্তাদে নিজে নিজে প্রচুর ইল্ল্ম বা সমস্ত ইল্ম লাভ করিতে পারিবে, ইহাতে কোন সন্দেহ নাই। এই প্রকারে প্রাপ্ত জ্ঞানকে ‘ইল্মে লাদুনী’ বলে যেমন আল্লাহ্ বলেন : “আর আমি তাহাকে আমার নিকট হইতে ইল্ম শিখাইয়াছিলাম ।” (সূরা কাহাফ, রুকূ ৮) । যে ব্যক্তি উক্ত ত্রিবিধ গুণে গুণান্বিত, তিনি শ্রেষ্ঠ পয়গম্বরগণের বা শ্রেষ্ঠ ওলীগণের অন্তর্ভুক্ত। যাহার মধ্যে এই তিনটি গুণের একটি থাকে। তিনিও এই শ্রেণীর অন্তর্গত । তবে তাঁহারা এক শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হইলেও তাঁহাদের মধ্যে বিরাট পার্থক্য আছে। কারণ কাহারও মধ্যে ঐ ত্রিবিধ গুণই রাসূলে মাকবুল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর মধ্যে অতি পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান ছিল। তাঁহার নবূওতের উন্নত অবস্থার কথা অবগত হইয়া যাহাতে বিশ্ববাসী তাঁহার অনুসরণ করে এবং সৌভাগ্যের পথ পায় তজ্জন্য আল্লাহ্ উক্ত তিনটি গুণের প্রত্যেকটিরই আভাসমাত্র সকলকেই দান করিয়াছেন। এই কারণেই কেহ স্বপ্নে দেখেন; কেহ বা স্বীয় প্রভাবে অপরের বুদ্ধি সুপথে পরিচালিত করেন, আবার কেহ বা স্বীয় হৃদয়কে বিনা উস্তাদে জ্ঞানলাভের উপযোগী পাইয়া থাকেন। যে বস্তুর জ্ঞান নাই তত্পতি লোকে বিশ্বাস স্থাপন করতে পারে না। কারণ, যাহার ছায়ামাত্রও হৃদয়ে নাই তাহার আকৃতি কখনও বুঝা যায় না। এই জন্যই আল্লাহ্’র হাকীকত আল্লাহ্ ব্যতীত যথাযথভাবে অপর কেহই বুঝিতে পারে না। এই বাক্যের বিশদ ব্যাখ্যা বহু বিস্তৃত। ‘মাআনী আসমা ইল্লাহ্' কিতাবে স্পষ্ট দলিলের সহিত আমি ইহা বর্ণনা করিয়াছি।
ওলী ও পয়গম্বগণের গুণ সাধারণের ধারণাতীত









