হজ্জ (পর্ব – ১)
📚সৌভাগ্যের পরশমনি ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)
হজ্জের ফযীলত —
হজ্জ ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ এবং ইহা সারা জীবনে একবার করণীয় ইবাদত। রাসূলে মাকবুল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন- “যে ব্যক্তি হজ্জ (ফরয হওয়া সত্ত্বেও ইহা) সম্পন্ন না করিয়া মারা যায়, তাহাকে বলিয়া দাও, সে ইয়াহুদী হইয়া মরুক বা খ্রিস্টান হইয়া মরুক।”
তিনি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন- "যে ব্যক্তি হজ্জ করিবার সময় পাপ করেনা এবং বেহুদা ও অশ্লীল কথা বলে না সে পূর্বকৃত পাপ হইতে এরূপ নিষ্পাপ হইয়া যায় যেরূপ মাতৃগর্ভ হইতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার দিন সে নিষ্পাপ ছিল।
তিনি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন- “বহু পাপ এমন আছে যাহা আরাফাতের ময়দানে দণ্ডায়মান না হইলে খণ্ডন হয় না।”
তিনি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন- "আরাফার দিনে শয়তান যেমন অপদস্থও বিষণ্ণ হয় তদ্রূপ আর কোনদিন হয় না। কারণ, সেই দিন আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় বান্দার উপরবিশেষ রহমত নাযিল করেন এবং অসংখ্য কবীরা গুনাহ্ মাফ করিয়া থাকেন।”
তিনি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন- "যে ব্যক্তি হজ্জের উদ্দেশ্যে গৃহ হইতে বহির্গত হইয়া পথিমধ্যে প্রাণ ত্যাগ করে, কিয়ামত পর্যন্ত তাহার আমলনামায় প্রতি বৎসর এক হজ্জ ও এক ওমরার সওয়াব লিখিত হয়। আর যে ব্যক্তি মক্কা শরীফ বা মদীনা শরীফ পৌঁছিয়া প্রাণ ত্যাগ করিবে সে কিয়ামত দিবসের হিসাব-নিকাশ হইতে অব্যাহতি পাইবে।”
তিনি বলেন-“বিশুদ্ধরূপে সম্পন্ন মকবুল এক হজ্জ সমস্ত দুনিয়া ও দুনিয়ার যাবতীয় বস্তু অপেক্ষা উত্তম; বেহেশত ব্যতীত অন্য কিছুই ইহার বিনিময় হইতে পারে না।”
তিনি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেন-"হজ্জের সময় আরাফাতের ময়দানে দণ্ডায়মান হইয়া যদি কেহ মনে করে যে, আমার গুনাহ মাফ হইল না, তবে তদপেক্ষা অধিকগুনাহ্ আর কিছুই নাই।”
হযরত আলী বিন মওয়াফির নামে এক বুযর্গ ছিলেন। তিনি বলেন-“এক বৎসর আমি হজ্জ করত আরাফার রাত্রে স্বপ্নে দেখিলাম, সবুজ পোশাকধারী দুই ফেরেশতা আকাশ হইতে অবতরণ করেন।তাঁহাদের একজন অপরজনকে বলিলেন, 'আপনি কি জানেন এ বৎসর কতজন লোক হজ্জকরিয়াছে?' তিনি উত্তর করিলেন, 'না'। সেই ফেরেশতা বলিলেন, 'ছয় লক্ষ।' তিনি আবার জিজ্ঞাসাকরিলেন- 'আপনি কি জানেন কত লোকের হজ্জ কবুল হইয়াছে?' তিনি উত্তর দিলেন, 'না'। সেইফেরেশতা পুনরায় বলিলেন, "মোট ছয়জনের হজ্জ কবুল হইয়াছে।"
সেই বুযর্গ বলিলেন-'ফেরেশতা দুইজনের কথা শুনিয়া ভয়ে আমার নিদ্রা ভঙ্গ হইল এবং আমিঅত্যন্ত দুঃখিত ও চিন্তিত হইলাম। আর আমি মনে মনে বলিলাম, আমি কখনই সেই ছয়জনের মধ্যে হইব না। এইরূপ চিন্তা ও মনস্তাপে মশআরুল হারামে পৌঁছিয়া আবার নিদ্রামগ্ন হইলাম।
স্বপ্নে আবারঐ দুই ফেরেশতাকে পরস্পর ঐ প্রকার আলাপ করিতে দেখিলাম। তখন একজন অপরজনকেজিজ্ঞাসা করিলেন-'আপনি কি জানেন, আজ রাত্রে আল্লাহ্ স্বীয় বান্দাগণের সম্বন্ধে কি আদেশ দান করিয়াছেন?' দ্বিতীয়জন বলিলেন- 'না'। সেই ফেরেশতা বলিলেন-'সেই ছয়জনের তুফায়েলে আল্লাহ্ তা'আলা ছয় লক্ষ হাজীকে মাফ করিয়া দিয়াছেন।' তৎপর প্রফুল্লচিত্তে আমি নিদ্রা হইতে জাগ্রত হইলাম এবং করুণাময় আল্লাহ্ শোকরগুজারী করিলাম।"
রাসূলে মাকবুল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন যে, আল্লাহ্ ওয়াদা করিয়াছেন, প্রতি বৎসর হজ্জ উপলক্ষে ছয় লক্ষ লোক কা'বা শরীফ যিয়ারত করিবে। তদপেক্ষা কম লোকের সমাগম হইলে ফেরেশতা পাঠাইয়া তিনি এই সংখ্যা পূর্ণ করিয়া দিবেন। আর হাশরের দিন কাবাশরীফকে নববধুর ন্যায় সুসজ্জিত করিয়া উপস্থিত করা হইবে এবং হাজিগণ ইহার চারিদিকে তওয়াফকরিতে থাকিবে ও আহারা ইহার আচ্ছাদন বস্ত্রে স্পর্শ করিতে থাকিবে। পরিশেষে কা'বা শরীফ বেহেশতে প্রবেশ করিবে এবং হাজিগণও উহার সহিত বেহেশতে ঢুকিয়া পড়িবে।
পরবর্তী পর্ব–
হজ্জের শর্তসমূহ