শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৪

মারেফতের মর্মকথা (১৫) দরিদ্র্যতা : দরবেশী

 

📚কাশফুল মাহজুব (পর্ব- ১৫)  ✍🏻দাতা গঞ্জেবকশ হাজবেরী (রহ.)

দরিদ্র্যতা : দরবেশী
আল্লাহর কাছে দরিদ্র এবং দরবেশের মর্যাদা খুবই উন্নত। হুজুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) দোআ করতেন, – “হে আল্লাহ ! আমাকে দরিদ্র অবস্থায় জীবিত রাখুন, দরিদ্র অবস্থায় মৃত্যু দান করিয়েন এবং দরিদ্রের সাথেই আমাকে হাশরের মাঠে উঠাইয়েন।”
হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেছেন, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করবেন: “আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিবেন -আমার বন্ধুগণকে আমার নিকটে পেশ ফর। ফেরেশতাগণ জিজ্ঞেস করবেন, আপনার বন্ধু কারা? আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করবেন, ফকির ও মিসকিন।”

কিন্তু ফকির এবং মিসকিন বলতে ঐসব ব্যক্তিকে বুঝায় যারা আল্লাহর উপর নির্ভর করে দুনিয়া লাভের চিন্তা-ভাবনা থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর কাজ দাসত্বের জন্য আত্মোৎসর্গ করে থাকেন। যেমন ‘আসহাবে সুফ্ফা’ সর্বক্ষণ মসজিদে নববিতে থেকে মহানবি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর নির্দেশ পালনে প্রস্তুত থাকতেন। তাঁরা প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য যাবতীয় আসবাব উপকরণ পরিত্যাগ করে আল্লাহতে আত্মসমর্পিত থাকেন এবং তাঁরই সাথে প্রেমপ্রীতির বাঁধন দৃঢ় করেন। আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন বন্ধু তাদের থাকে না।
এ জাতীয় লোকের উদ্দেশ্যেই আল্লাহ্  তায়ালা এরশাদ করেছেন,- “তোমাদের আল্লাহর ওয়াস্তের দান এবং খেদমত পাওয়ার যোগ্য ঐসকল দরিদ্র ব্যক্তি যারা আল্লাহর কাজে এমনভাবে আবদ্ধ যে চলে ফিরে দৌড় ঝাঁপ দ্বারা নিজেদের জীবিকা অর্জনে অসমর্থ। তাদের ব্যক্তিত্ব দেখে সাধারণ লোকেরা মনে করবে যে তারা খুব সম্পদশালী।” (সূরা: আল-বাকারা- ২৭৩)

এসব লোকদের ব্যাপারেই আল্লাহ তার রাসূলকে এরশাদ করেছেন: - “যারা রাতদিন স্বীয় প্রভুর ইবাদত বন্দেগিতে আত্মনিয়োজিত এবং তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে তাদের আপনার নিকট থেকে দূরে সরিয়ে রাখবেন না।” (সূরা: আল-আনআম-৫২)

ফকিরীর আসল সম্পদ বৈরাগ্য অথচ পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া নয়। বরং দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত এবং অমুখাপেক্ষী হওয়া। যেহেতু তাসাউফের পরিভাষায় সুফি ঐ ব্যক্তি যে জাগতিক বিষয়বস্তু হতে অমুখাপেক্ষী। তার নিকট কিছু থাকুক কিংবা না থাকুক উভয় অবস্থায়ই তার মধ্যে যেন কোন প্রকার পরিবর্তন না আসে। তার কাছে কোন সম্পদ না থাকলেও যেন সে তাকে নিঃসম্বল মনে না করে এবং সম্পদ থাকা সত্ত্বেও যেন নিজেকে ধনী মনে না করে। বরং নিঃস্ব অবস্থায় আরও সন্তুষ্ট থাকবে। কারণ, ফকির যতটাই দরিদ্র হবে তার হাল’ ততটাই প্রকাশ লাভ করবে- অলসতা কম হবে। তাই মহানবী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেছেন: “অনাহারী ব্যক্তি আল্লাহ্ তা’আলার নিকট সত্তর জন জ্ঞানবান দরবেশ অপেক্ষাও উন্নত পর্যায়ের প্রিয় ব্যক্তি।” 
আরো বলা হয়েছে – “ক্ষুধা এই দুনিয়ায় আল্লাহর আহার্য বস্তু।”

পরবর্তী পর্ব-
প্রকৃত ফকির 

মারেফতের মর্মকথা (১৪) কেবল ইলম হেদায়াতের জন্য যথেষ্ট নয়



📚কাশফুল মাহজুব (পর্ব- ১৪)  ✍🏻দাতা গঞ্জেবকশ হাজবেরী (রহ.)

কেবল ইলম হেদায়াতের জন্য যথেষ্ট নয়—
এটাও মনে রাখতে হবে যে শুধু ইলম মানুষের হেদায়াতের ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। হাকিকত ও শরীয়তের ইলম হেদায়াতের মাধ্যম এবং মানুষের অভিজ্ঞতাপ্রসূত জ্ঞান তাতে সাহায্যকারী হয়। হেদায়াত অনুসন্ধানীর ক্ষেত্রে ঐ জাতীয় জ্ঞান লাভ করা উচিত। কিন্তু আল্লাহর মেহেরবানিতেই হেদায়াতপ্রাপ্ত হওয়া যায়। ফলে জ্ঞান লাভ করা ছাড়াও বিনয়তার সাথে আল্লাহর অনুগ্রহ প্রার্থীও হতে হবে। আলেম হোক কিংবা সুফি শরীয়তের জ্ঞান অর্জন করা সকলের জন্যই প্রয়োজন। শরীয়তের জ্ঞানার্জন করা ছাড়া কেউ আলেম, দরবেশ বা সুফি হতে পারে না এবং হওয়ার দাবিও করতে পারে না।

পরবর্তী পর্ব-
দরিদ্র্যতা ও দরবেশী

মারেফতের মর্মকথা (১৩) বর্জনযোগ্য ধর্মীয় নেতা



📚কাশফুল মাহজুব (পর্ব- ১৩)  ✍🏻দাতা গঞ্জেবকশ হাজবেরী (রহ.)

বর্জনযোগ্য ধর্মীয় নেতা—
শায়খুল মাশায়েখ হজরত ইয়াহইয়া ইবনে মাআজ (রহঃ) বলেন-
তিন প্রকার লোকের সংশ্রব থেকে দূর থাক-
(১) অলস আলেম–
গাফেল বা অলস আলেম পার্থিব লাভ-লোকসানই যাদের লক্ষ্য এবং ন্যায় অত্যাচারী শাসকবৃন্দের দরবারে ঘুরাফেরা করে মানুষের সম্মান পাওয়ার উদ্দেশ্যে লালায়িত, বুযুর্গানে দীন এবং আলেমদের ঘৃণা করা এবং হিংসা ও ঝগড়া বিবাদ যাদের পছন্দ। 
(২) মোটা তাজা এবং লোক দেখানো সাধু–
ধোঁকাবাজ ও লোক দেখানো দরবেশ- প্রকাশ্যে দরবেশ ভেতরে ভেতরে লোভ-লালসার বান্দা। কোন ব্যক্তি তার পছন্দসই কাজ করলে এবং তা শরীয়ত বিরোধী হলেও সেই ব্যক্তির প্রশংসা করে। আবার, কেউ শরীয়ত সিদ্ধ কাজ করলেও তা যদি তার মনঃপূত না হয় তবে সে তার নিন্দাবাদ করে। মানুষকে ভুল পথে পরিচালনা করে নিজের শিকারে পরিণত করে।
(৩) জাহেল সুফি- এরা কোন বুযুর্গ ব্যক্তিদের সংশ্রবে থেকে ধর্ম-কর্মের শিক্ষা গ্রহণ করে না। সত্য-মিথ্যায়, হক না-হকে পার্থক্য করার কোন জ্ঞান তাদের নেই। তারা নিজেরাই সুফি হয়ে বসে।

মারেফতের মর্মকথা (১২) মানবীয় জ্ঞানের পরিধি

মানবীয় জ্ঞানের পরিধি

📚 কাশফুল মাহজুব (পর্ব–১২) ✍🏻 দাতা গঞ্জেবকশ হাজবেরী (রহ.)

কোন ব্যক্তি কিংবা পৃথিবীর সকল মানুষ মিলেও—নিজের এবং অপরের নিকট যতই জ্ঞানী হিসেবে পরিচিত হোক না কেন, তার সেই জ্ঞানের একটি সীমা বা পরিধি রয়েছে। যে মূল জ্ঞান আল্লাহ তায়ালার নিকটে সংরক্ষিত, তার সামনে মানুষের জ্ঞানের কোনো মূল্যই নেই।

মানবীয় জ্ঞানের অবস্থা এমন যে, সমস্ত মানুষ একত্রিত হয়েও আল্লাহর সৃষ্ট পৃথিবীর একটি অণু পরিমাণ বিষয় সম্পর্কেও পূর্ণ জ্ঞানলাভের দাবি করতে পারে না। প্রকৃতপক্ষে মানুষের জ্ঞানের পূর্ণতা এখানেই যে, সে উপলব্ধি করুক—মোটের উপর সে কিছুই জানে না।

যেমন মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর দরবারে বিনীতভাবে আরজ করেছিলেন—
“হে আল্লাহ! আমি সম্পূর্ণরূপে আপনার গুণগান করতে অক্ষম।”

আল্লাহ তায়ালা তাঁর নেয়ামত ও বাণী সম্পর্কে বলেন—

وَإِن تَعُدُّوا نِعْمَتَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا ۗ
উচ্চারণ: ওয়া ইন তা’ুদ্দু নি‘মাতাল্লা-হি লা তুহসূহা।
অর্থ: “তোমরা যদি আল্লাহর নেয়ামতসমূহ গণনা করতে চাও, তবে তা গুনে শেষ করতে পারবে না।”
(সূরা ইব্রাহীম – আয়াত ৩৪)

আরও বলেন—

قُل لَّوْ كَانَ الْبَحْرُ مِدَادًا لِّكَلِمَاتِ رَبِّي لَنَفِدَ الْبَحْرُ قَبْلَ أَن تَنفَدَ كَلِمَاتُ رَبِّي وَلَوْ جِئْنَا بِمِثْلِهِ مَدَدًا
উচ্চারণ: কুল্ লাও কা-নাল-বাহরু মিদা-দান লি-কালিমা-তি রবি লানাফিদাল-বাহরু কাবলা আন্না-তানফাদা কালিমা-তু রবি, ওয়ালাও জি’না বিমিসলিহি মাদাদা।
অর্থ: “বল, যদি সাগরসমূহ আমার প্রভুর বাণী লেখার জন্য কালিতে পরিণত হয়, তবুও আমার প্রভুর বাণী শেষ হবে না, যদিও তেমন আরও অনেক সাগর তার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।”
(সূরা আল-কাহফ – আয়াত ১০৯)

অতএব, মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা অনস্বীকার্য। আল্লাহর জ্ঞানের সামনে মানবজ্ঞান নিতান্তই তুচ্ছ। মানুষ যতই শিখুক, বুঝুক বা গবেষণা করুক—আল্লাহর অসীম জ্ঞানের গভীরতা কখনোই স্পর্শ করতে পারবে না।

মারেফতের মর্মকথা (১১) ইলমের সাথে চিন্তার আবশ্যকতার গুরুত্ব



📚কাশফুল মাহজুব (পর্ব- ১১)  ✍🏻দাতা গঞ্জেবকশ হাজবেরী (রহ.)

ইলমের সাথে চিন্তার আবশ্যকতার গুরুত্ব—
ইলমের সাথে চিন্তা করাও প্রয়োজন। কারণ, চিন্তা ও দূরদর্শিতা ছাড়া মানুষের মধ্যে না সঠিক বুঝ-ব্যবস্থার সৃষ্টি হয় আর না তা ব্যতীত ইলম মানুষের জীবনের উপর কোন প্রকার গভীর রেখাপাত করতে সমর্থ হয়। তাই মহানবি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেছেন- "এক মুহূর্ত গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করা ষাট বছরের (নফল) ইবাদত অপেক্ষা উত্তম।"

মারেফতের মর্মকথা (৮) এলমের প্রকারভেদ



📚কাশফুল মাহজুব (পর্ব- ৮)  ✍🏻দাতা গঞ্জেবকশ হাজবেরী (রহ.

এলমের প্রকারভেদ—
জ্ঞান বা এলম দুই প্রকার- আল্লাহ সম্পর্কীয় ও পার্থিব বৈষয়িক। 
আল্লাহ সম্বন্ধীয় জ্ঞান হচ্ছে তার নিজস্ব সত্তা, তার গুণাবলি এবং তার সাথেই সম্পৃক্ত ও প্রতিষ্ঠিত। তার জ্ঞান সীমাতীত ও অসীম। তিনি সর্বজ্ঞানী। বিদ্যমান বা অবিদ্যমান সব কিছুই তার জ্ঞানের মাঝে সীমিত। আল্লাহ্ তা'আলা কুরআনুল করীমে বলেন:- “আল্লাহ সর্ববিষয়ে অবগত।” (সূরা বাকারা- ২৩১ ও সূরা: মায়িদাহ- ৯) আরও বলেন-" আল্লাহর জ্ঞান সকল বস্তুকে ঘিরে রেখেছে।" (সূরা: তালাক- ৭৩)। তিনি আরো বলেন,– "তিনি প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য সব ব্যাপারেই পরিজ্ঞাত।" (সূরা: আল-আনআম- ৭৩) 

(২) পার্থিব বৈষয়িক বা সৃষ্টি সম্বন্ধীয় জ্ঞান হচ্ছে, আল্লাহ প্রদত্ত সীমিত এবং আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত জ্ঞান। এটা যেমন অর্জিত হয় তেমন বিলোপও হয়ে যায়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, - “বান্দা আল্লাহর জ্ঞানভাণ্ডার হতে কোন কিছুকেই তার আয়ত্বে আনতে সক্ষম নয়। তবে এতটা সম্ভব যতটা তিনি দেওয়ার ইচ্ছা করেন।" (সূরা: আল-বাকারা- ২৫৫) তিনি আরো বলেন– "তোমাদের খুবই কম জ্ঞান দান করা হয়েছে।” (সূরা: বানী ইসরাঈল : ৮৫)

এই কথাও স্মরণ রাখতে হবে যে- সৃষ্টির কোন কিছুই আল্লাহর সাথে তার জ্ঞানের অংশীদার নয়। ফলে তালেবের (অনুসন্ধানীর) কর্তব্য আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান ও হেদায়াতকে পথের আলোস্বরূপ ভাবা এবং মনে রাখা যে আল্লাহ তার কাজকর্ম সব কিছুই দেখেন।
সুতরাং মানুষের এলম ও আমলের একটি প্রকাশ্য এবং আর একটি অপ্রকাশ্য দিক আছে। যেমন কালেমা শাহাদতের প্রকাশ্য দিক হচ্ছে- তাকে মুখে উচ্চারণ করা এবং তার সত্যতা স্বীকার কর। অপ্রকাশ্য বা বাতেন দিক হলো- তার অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝে তাতে ঈমান আনা। বাতেনী হাকিকতের বিদ্যমানতা ব্যতীত প্রকাশ্য বা জাহেরী সাজসজ্জা কপটতা। অপরদিকে বাহ্যিক দিক সুন্দর না রেখে শুধু বাতেনের দাবি করা- বেদীনি এবং যিন্দেকী। তরিকতপন্থীগণ বাতেনহীন জাহেরকে 'নাকস' এবং জাহের ব্যতীত বাতেনকে 'হাওয়াস, বলেন। ফলে সত্যের সন্ধানীর জন্য জাহের ও বাতেন উভয়কে দুরস্ত করাই প্রয়োজন।

পরবর্তী পর্ব-
ফরজ বিদ্যা (১) ইলমে হাকিকত

মারেফতের মর্মকথা (১০) শরীয়তী ইলম



ফরজ বিদ্যা - ২য়
📚কাশফুল মাহজুব (পর্ব- ১০)  ✍🏻দাতা গঞ্জেবকশ হাজবেরী (রহ.)

শরীয়তী ইলম—
ইলমে শরীয়তেও তিনটি মৌলিক উপাদান রয়েছে।
১. আল্লাহর কিতাব।
২. রাসূলের সুন্নত।
৩. উম্মতের এজমা।
(১) শরীয়তের প্রথম স্তম্ভ আল্লাহর কিতাবের মুহকামাত (সুদৃঢ়) আয়াত। তার উদ্দেশ্য হলো আকায়েদ, ফরজ এবং আদেশ নিষেধ সম্পর্কীত সকল আয়াত যার অর্থ, উদ্দেশ্য, দাবি নির্ধারণ করতে কোন ধরনের সন্দেহের অবকাশ নেই।
তাই আল্লাহ তায়ালা বলেন- "তাদের মাঝে এক তো আয়াতে মুত্কামাত যা কিতাবের মূল ভিত্তি। অপরটি মুতাশাবেহাত (যার বুঝ-ব্যবস্থায় সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।" (সূরা: আলে-ইমরান- ৭)

যেখানে এবং যেই মাসয়ালায় কোন ধরনের সন্দেহ বা মতপার্থক্য পরিলক্ষিত হয় তাকে মুহকামাতের কষ্টি পাথরে যাচাই করে দেখতে হবে যে কোন অবস্থা মুহকামাতের নিকটতম ও সামঞ্জস্যপূর্ণ। যা অধিক নিকটবর্তী এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ তা-ই সঠিক হবে।

(২) শরীয়তের দ্বিতীয় রোকন বা স্তম্ভ হলো মহানবি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার সুন্নত মুবারক। অর্থাৎ হুজুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার তরিকা। আল্লাহর আহকাম এবং তার সঠিক উদ্দেশ্য জানা মানুষের জন্য একই সঠিক পন্থা হলো মহানবি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর সত্তা। অর্থাৎ মহানবি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর বাণী, কর্ম এবং সমর্থন। আল্লাহ তায়ালা বড়ই কৃপা করে হাদীস ও চরিত গ্রন্থে তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন,- "আল্লাহর রাসূল তোমাদের যা দান করেন তা গ্রহণ কর; আর যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক।” (সূরা: আল-হাশর- ৭)
আরও ঘোষণা করেছেন,- “(হে নবি!) আপনি লোকদের বলে দিন যদি তোমরা যথার্থই আল্লাহকে আলোবাস তাহলে আমার অনুসরণ কর; আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং মাফ করে দিবেন।"

(৩) শরীয়তের তৃতীয় স্তম্ভ হচ্ছে- এজমায়ে উম্মত। এজমায়ে উম্মত শরীয়ত হওয়ায় প্রমাণ হুজুর এর পবিত্র বাণী।
মহানবি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেছেন: "আমার উম্মত কখনও গোমরাহীতে একতাবদ্ধ হবে না। তোমরা বড় দলের সঙ্গে থাকবে।”
আল্লাহ তায়ালা বলেন: "সঠিক পথ প্রকাশ লাভ করার পর যে ব্যক্তি রাসূলের বিরোধিতা করে এবং ঈমানদারদের অনুসৃত পথ ছাড়া অন্য কোন পথ অবলম্বন করে তাকে আমি তার অনুসৃত পথে পরিচালনা করব এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করব।”
প্রকাশ্য  "ঈমানদারদের পথ” অর্থ ইসলামের পথ যাতে সকল ঈমানদার কিংবা তাদের অধিকাংশ একমত।

মারেফতের মর্মকথা (৯) ইলমে হাকিকত



ফরজ বিদ্যা - ১ম
📚কাশফুল মাহজুব (পর্ব- ৯)  ✍🏻দাতা গঞ্জেবকশ হাজবেরী (রহ.)

যে ইলম শিক্ষা করা ফরজ তা দ্বিবিধ– (১) ইলমে হাকিকত (২) ইলমে শরীয়ত।
ইলমে হাকিকত— 
ইলমে হাকিকতকে ইলমে উসূলও বলা হয়। তার তিনটি মৌলিক বিষয়।
(১) আল্লাহ তা'আলার সত্তা, তাঁর একত্ব এবং শিরকের সীমা জ্ঞান।
(২) আল্লাহ্ তা'আলার গুণাবলি এবং তাঁর আহকাম ও ফরমানের হুকুম এবং
(৩) আল্লাহ তা'আলার কার্যাবলি এবং তাঁর হেকমত সম্পর্কীত জ্ঞান।

(১) আল্লাহ তা'আলার সত্তা সম্বন্ধীয় জ্ঞান হলো- প্রত্যেক জ্ঞানবান এবং বালেগের জন্য এ কথা জানতে হবে যে আল্লাহ বিদ্যমান, তিনি সর্বক্ষণ আছেন এবং থাকবেন, তাঁর জন্য কোন দিক নির্দিষ্ট নেই, স্থান নির্দিষ্ট নেই। তার ক্ষয় নেই সীমা নেই, উদাহরণ নেই, কোন প্রকার জাত নেই। তিনি সবখানে বিরাজমান, তিনি সব কিছু দেখেন, সব কিছু শ্রবণ করেন। তিনি সকলের মনের কথা জানেন। সৃষ্টি করায় কেউ তার অংশীদার নেই। কোন কাজে তার অংশীদার হওয়া তো দূরের কথা তার সম্মুখে নিঃশ্বাস ফেলার কারও ক্ষমতা নেই। তিনি সকলের স্রষ্টা; সবকিছু তার সৃষ্টি।

(২) আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কীয় জ্ঞান হলো, তাঁর যাবতীয় সিফাত তাঁর জাতের সাথে বিদ্যমান এবং চিরস্থায়ী। কিন্তু না আছে তার অংশ আর না তা পৃথক। তিনি উপাস্য ও একমাত্র উপাস্য চিরঞ্জীব। সকল বিষয়ের উপর শক্তিশালী। তিনি প্রত্যেক বিদ্যমান, অবিদ্যমান, প্রকাশ্য, অপ্রকাশ্য সম্বন্ধে পরিজ্ঞাত। যা ইচ্ছা তাই করেন। তাঁর প্রতিটি কথা সত্য, তাঁর প্রতিটি নির্দেশ অবশ্য পালনীয়। অন্যান্য যাবতীয় হুকুম আহকাম তাঁর হুকুম আহকামের অধীনস্থ। 

(৩) আল্লাহর কার্যাবলি সম্পর্কীয় জ্ঞান হচ্ছে, যাবতীয় সৃষ্টির স্রষ্টা ও প্রতিপালক একমাত্র তিনি। হায়াত, মওত, ধনদৌলতের উন্নতি অবনতি যাবতীয় কিছু আল্লাহর কাজ। এর সকল কাজই তার কার্যকারকের স্মারক চিহ্ন।
আল্লাহ তায়ালা বলেন:–  “এসব লোক কি দেখে না যে আমি উট কিরূপে সৃষ্টি করেছি; নভোমণ্ডলকে কীভাবে উন্নত করেছি, পাহাড়কে কীভাবে স্থির রেখেছি এবং জমিনকে কীভাবে বিছিয়ে দিয়েছি।” (সূরা: আল-গাশিয়াহ-১৭-২০)
আরও এরশাদ করেন,- "জমিন ও আসমানের সৃষ্টিতে, দিন ও রাতের ক্রমাগতভাবে আগমনে জ্ঞানবানদের জন্য অসংখ্য নিদর্শন রয়েছে।” (সূরা: আলে-ইমরান- ১৯০)
এসব কিছু চোখ খুলে দেখলে এবং এসব কিছু মনোযোগ সহকারে ভেবে দেখলে অবশ্য তুমি বুঝতে পারবে এসব যার সৃষ্টি তিনিই একমাত্র আল্লাহ। 

আল্লাহ তায়ালার সত্তা ও গুণাবলি সম্পর্কে আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণীসমূহ বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য: 
(১) "জেনে রেখো আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই"। (সূরা: মুহাম্মাদ-১৯)
(২) "জেনে রেখ আল্লাহই তোমাদের প্রভু"। (সূরা: আল-আনফাল- ৪০)
(৩) "আল্লাহকে আকড়িয়ে থেক তিনিই তোমাদের মালিক। (সূরা: আল-হজ্জ- ৭৮)
(৪) "আল্লাহর ইবাদত কর তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোন উপাস্য নেই"। (সূরা: আল-আরাফ- ৫৯)
 (৫) "আপনি বলুন, আল্লাহ এক। তিনি অমুখাপেক্ষী; তাঁর কোন সন্তান নেই, কোন পিতা নেই। তাঁর সমকক্ষ আর কেউ নেই।" (সূরা: ইখলাস : ১- ৪)
(৬) "তাঁর না আছে স্ত্রী আর নাআছে সন্তান"। (সূরা: জিন : ৩)
(৭) "তাঁর সমকক্ষ আর কেউ নেই"। (সূরা: শুরা- ১১)
(৮) "পূর্ব পশ্চিমে সব কিছুই আল্লাহর। যেদিকে তুমি চেহারা ফিরাবে সেই দিকেই আল্লাহ"। (সূরা: আল-বাকারা- ১১৫) 
(৯) "তাঁর কোন পুত্র নেই এবং তাঁর রাজত্বে তাঁর কোন অংশীদারও নেই"। (সূরা: বানী ইসরাঈল- ১১১)
(১০) "জমিন আসমানের প্রভু এবং জমিন ও আসমানের মাঝে যা কিছু পাওয়া যায় তাদেরও প্রভু। তিনি প্রতিটি বস্তুর ওপর ক্ষমতাবান।" (সূরা: আল-মায়িদাহ- ১৭)
(১১) "জেনে রেখ! সৃষ্টি তাঁরই এবং বাদশাহীও তাঁরই"। (সূরা: আল-আরাফ- ৫৪)
(১২) "আল্লাহ সবকিছু শোনেন ও জানেন"। (সূরা: আল-বাকারা- ১৮১)
(১৩) 'আল্লাহ অন্তরের গোপন রহস্যও জানেন"। (সূরা: আল-মায়িদাহ- ৭)
(১৪) "তিনি যা ইচ্ছা তাই করেন"। (সূরা: বুরূজ- ১৬)।
(১৫) "যখন তিনি কোন বিষয়ে ফয়সালা করেন তখন নির্দেশ দেন "হয়ে যাও” আর তৎক্ষণাৎ তা অস্তিত্বে এসে যায়"। (সূরা: মারিয়াম- ৩৫)
(১৬) "তাঁর প্রতিটি কথা সত্য"। (সূরা: আল-আনআম- ৭৩)
(১৭) "নিশ্চয় আপনার প্রভু শাস্তি দেওয়ায় ব্যাপারে অতি ক্ষিপ্রগতিসম্পন্ন এবং ক্ষমা ও মেহেরবানি করায়ও মহান।" (সূরা: আল-আনআম- ১৬৫)
(১৮) "নিশ্চয় তোমার প্রভুর পাকরাও খুবই কঠিন"। (সূরা: বুরূজ- ১২)
 (১৯) "তিনি সর্বাপেক্ষা মেহেরবান"। (সূরা: ইউসুফ- ৯২)
(২০) "তিনি সীমাহীন ক্ষমাকারী ও মহব্বতকারী"। (সূরা: বুরূজ- ১৪)

মারেফতের মর্মকথা (৭) এলম ও আমল পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত



📚কাশফুল মাহজুব (পর্ব- ৭)  ✍🏻দাতা গঞ্জেবকশ হাজবেরী (রহ.)

এলম ও আমল পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত—
স্মরণ রাখ যে এলমের সাথে সাথে আমল করা জরুরী। এলম ব্যতীত আমল এবং আমল ব্যতীত এলম কোন উপকারেই আসে না। যে এলমের সাথে আমল না থাকে তা অজ্ঞতারই নামান্তর। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন- "আহলে কিতাবের একটি সম্প্রদায় আল্লাহর কিতাবকে এমনভাবে বর্জন করেছে যে ঐ সম্বন্ধে যেন তাদের কোন জ্ঞানই নেই।” (সূরা: আল-বাকারা : ১০১)
এতে প্রমাণিত হয় যে আমলবিহীন এলমের অধিকারী বিদ্বান হিসেবে পরিগণিত নয়। এটা দ্বারা তার কোন উপকার সাধন হয় না। আমলবিহীন শুধু এলম যদি উপকারী হতো তাহলে আল্লাহ একথা বলতেন না যে- "এমন কথা কেন বল যা কার্যকরী কর না? মনে রেখো আল্লাহকে ক্রোধান্বিত করার জন্য এটাই যথেষ্ট যে ব্যক্তি যা বলে অথচ তা সম্পাদন করে না। (সূরা: আস্-সফ- ২-৩)

হাদীস শরীফে এসেছে: ইবনে মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত আছে, মহানবি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেছেন- পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর না দেওয়া পর্যন্ত কোন ব্যক্তি কেয়ামতের দিন রেহাই পাবে না।
(১) তার আয়ুষ্কাল সম্বন্ধে যে, কোন কাজে তার সময় ব্যয় হয়েছে;
(২) যৌবন সম্বন্ধে যে, কোন কাজে সে যৌবন ব্যয় করেছে;
(৩) ধনসম্পদ সম্বন্ধে যে, কীভাবে উপার্জন করেছে এবং 
(৪) উপার্জিত অর্থ কোন পথে ব্যয় করেছে।
(৫) সে তার এলম মোতাবেক আমল করেছে কি না?

অতএব জেনে রাখুন আমলবিহীন এলম কোন কাজেই আসবে না। এখনও যখন আপনার হাতে সময় রয়েছে তখন জেনে রাখুন আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল  (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) আপনার জন্য কী কী ফরজ ও ওয়াজিব করেছেন। কিন্তু আপনি তার প্রতি উদাসীন। তার বিপরীত কত বিষয় এমনও রয়েছে যার ব্যাপারে আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ভীতি প্রদর্শন করেছেন এবং তাকে অপছন্দ করেছেন। তথাপি আপনি তার সাথে জড়িত এবং তাতেই নিমজ্জিত।

আমল ছাড়া এলম যেমন উপকারী নয়, তেমনি এলম ব্যতীত আমলও কোন কাজে আসে না। হুজুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেছেন:– “না বুঝে ইবাদতকারী কুলুর বলদের ন্যায়।"
এতে প্রমাণিত হয় যে- অবুঝ ইবাদতকারী আবেদের মধ্যে পরিগণিত হতে পারে না। দেখুন কোন ব্যক্তি সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনাহারে থাকল। অথচ সে জানে না রোযা কী? আবার কেউ বেশ টাকা পয়সা সদকা করল কিন্তু সে জানে না এই দান সদকার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। তাহলে কি এটা ইবাদতের মধ্যে পরিগণিত হবে? না, হবে না। এসব কাজকে ইবাদতের মধ্যে পরিগণিত করার জন্য তাকে নিশ্চয় জানতে হবে এটা আল্লাহর নির্দেশ। তথাপি এই জানার সাথে সাথে তাকে ইবাদত করার এবং আল্লাহর নির্দেশ পালন করার নিয়তও করতে হবে। শুধু এটাই নয় বরং মানুষ যতক্ষণ পর্যন্ত নিয়ম অনুযায়ী আমল না করে ততক্ষণ পর্যন্ত তার জন্য সম্মুখে অগ্রসর হওয়ার পথ উন্মুক্ত হয় না। এলম মোতাবেক আমল যত বেশি করবে পথও ততটা উন্মুক্ত হবে। যখনই সে আমল করা বন্ধ করে দিবে তখনই তার চলার পথও বন্ধ হয়ে যাবে।

হজরত ইবরাহীম আদহাম (রহঃ) একবার পথ চলাকালীন একটি পাথরের উপর লেখা দেখতে পেলেন, আমাকে উল্টিয়ে দেখ। তিনি পাথরটি উল্টিয়ে দেখতে পেলেন তাতে লেখা রয়েছে: — “তুমি যা অবগত আছ যদি সেই অনুযায়ী কাজ না কর তবে তোমার যা জানতে ইচ্ছা আছে তা জানার উৎসাহ কোথা হতে সৃষ্টি হবে?”

অতএব এলম ও আমল পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত। একদিকে এলম দ্বারা বিশুদ্ধভাবে আমল করার পথ উন্মুক্ত হয়; জায়েয নাজায়েয এবং ভালো-মন্দ জানার জ্ঞান জন্মে। অপরদিকে জ্ঞাত বিষয়ে আমল করার অভ্যস্ত হলে এলম দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় এবং আরও অধিক জ্ঞানার্জনের পথ প্রসারিত হয়।

পরবর্তী পর্ব—
এলমের প্রকারভেদ

মারেফতের মর্মকথা (৬) জ্ঞানার্জন করা ফরজ



📚কাশফুল মাহজুব (পর্ব- ৬)  ✍🏻দাতা গঞ্জেবকশ হাজবেরী (রহ.)

জ্ঞানার্জন করা ফরজ—
দীন হোক কিংবা দুনিয়া, বিদ্যা ছাড়া মানুষ কিছুই লাভ করতে পারে না। তাই হুজুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেছেন- "সকল মুসলিম নর-নারীর জন্য জ্ঞানার্জন করা ফরজ”। আরও বলেন: "চীন দেশে হলেও সেখানে গিয়ে জ্ঞানার্জন কর।” 

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন, - "আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানী ব্যক্তিরাই আল্লাহকে ভয় করেন"। (সূরা: আল-ফাতির- ২৮)

আরও এরশাদ করেন,– “যে ব্যক্তি স্বীয় প্রভুর সমীপে হাজির হতে ভয় পায় তার জন্য দুটি জান্নাত।” (সূরা: আর-রহমান- ৪৬)

যেন আল্লাহভীতি জান্নাতের চাবি। আর এই ভীতি এলম বা জ্ঞান হতেই সৃষ্টি হয়। কিন্তু ধর্মে যেই জ্ঞানার্জনকে ফরয বলা হয়েছে তা দ্বারা পার্থিব সকল বিদ্যাকে বুঝায় না। কেননা পৃথিবীতে নানা প্রকার বিদ্যা রয়েছে। আর একজনের পক্ষে সর্বপ্রকার বিদ্যা শিক্ষা করা যেমন সম্ভব নয় তেমন ফরজও নয়। যেই জ্ঞানার্জনকে ফরজ বলা হয়েছে তা হলো শরীয়ত এবং ফরজ ওয়াজিব সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জন করা। এটা ব্যতীত শরীয়ত বুঝার জন্য যা কিছু শিক্ষার দরকার তা শিক্ষা করা এমনিভাবেই প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায়। যেমন অঙ্ক, ভূগোল, রাজনীতি আইন, শিল্প, ব্যবসা ইত্যাদি। কারণ, এসব জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা করা ব্যতীত মানুষের ব্যক্তিগত, সমাজগত এবং ধর্মীয় জীবন পূর্ণতা প্রাপ্ত হয় না। এটা ছাড়া অন্যান্য প্রকার জ্ঞানার্জন করা ভালো কিন্তু ফরজ নয়। যে বিদ্যার্জন মানুষের জন্য অহিতকর তা অর্জন করা আল্লাহ ফরজ করেন নি। বরং আল্লাহ তায়ালা বলেন-
"তারা এমন কিছু শিক্ষা করে যা তাদের পক্ষে ক্ষতিকারক; উপকারী নয়।” (সূরা: আল-বাকারা- ১০২)
হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন- "হে আল্লাহ! যেই জ্ঞানার্জন অহিতকর আমি আপনার নিকট তা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি।” কাজেই এই জাতীয় বিদ্যা শিক্ষা করা হতে দূরে থাকাই উচিত।

পরবর্তী পর্ব—
এলম ও আমল পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত 

বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...