রবিবার, ১৯ মে, ২০২৪
দাকায়েকুল আখবার- (২১) মনকির নকীরের পূর্ববর্তী ফেরেশতার বিবরণ
বুধবার, ১৫ মে, ২০২৪
দাকায়েকুল আখবার- (২০) দেহ হইতে রূহ্ কবজের বিবরণ
হযরত রাসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) আরও এরশাদ করিয়াছেন যে, “তখন একজন গৌরকান্তি বিশিষ্ট সুন্দর সুপুরুষ আগমন করিবেন এবং তাঁহার শরীর হইতে সুগন্ধ বাহির হইবে। তিনি বলিবেন, ‘হে আল্লাহর বান্দা ! তোমার সৃষ্টিকর্তা তোমাকে যে সকল সুসংবাদ প্রদান করিয়াছেন, আমিও তোমাকে সেইসব সুসংবাদ প্রদান করিতেছি। উক্ত বান্দা তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিবে ‘আপনি কে? আল্লাহ তা'আলা আপনার উপর শান্তি বর্ষিত করুন। আপনার মত সুন্দর সুপুরুষ আর কাহাকেও দেখি নাই।' প্রত্যুত্তরে তিনি বলিবেন, ‘আমি তোমার নেক আমল!’
দাকায়েকুল আখবার- (পর্ব- ১৯) বিপদে ধৈর্য্য অবলম্বন করা
দাকায়েকুল আখবার- (১৮) মৃতের জন্য বিলাপ করিবার পরিণাম
হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, যখন কোন ব্যক্তি মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তখন কেহ যদি উচ্চৈঃস্বরে ক্রন্দন করিতে করিতে সেই গৃহে প্রবেশ করে, তাহা হইলে মালাকুল মউত সেই গৃহের দরওয়াজায় দাঁড়াইয়া ঘোষণা করেন, “হে মানবমণ্ডলী! তোমরা এরূপ করিতেছ কেন? আমি তোমাদের কাহারও হায়াত বা ধন-সম্পদ বিনষ্ট করি নাই এবং কাহারও উপর অত্যাচার করি নাই। তোমরা যদি আমার কাজে অসন্তুষ্ট হইয়া ক্রন্দন করিয়া থাক, তবে জানিয়া রাখিও, আমি আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ পালনকারী দাসানুদাস মাত্র। আর যদি মৃত ব্যক্তির জন্য ক্রন্দন করিয়া থাক, তবে জানিয়া রাখিও, সে ছিল নিতান্ত অসহায়। আর যদি আল্লাহ তা'আলার আদেশের কারণে ক্রন্দন করিয়া থাক, তবে তোমরা আল্লাহ তা'আলার শোকর গুজারী হইতে বঞ্চিত হইয়া কুফুরী করিতেছ। আল্লাহর শপথ দিয়া বলিতেছি যে, অবশ্যই তোমাদের নিকটও আমাকে আসিতে হইবে আর তোমরা কেহই আমার হাত হইতে রেহাই পাইবে না।”
ফকীহগণের অভিমত এই যে, মৃত ব্যক্তির জন্য উচ্চৈঃস্বরে চীৎকার করা হারাম; কিন্তু আওয়াজহীন ক্রন্দনে কোন ক্ষতি নাই তবে ধৈর্যধারণ করাই সর্বোত্তম। আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করিয়াছেন- “ইন্নামা ইয়াতাওফ্ফাছ ছাবিরুনা আজরুহুম বিশ্বাইরি হিছাব” অর্থাত: - “অবশ্যই ধৈর্যশীলদিগকে অসংখ্য প্রতিদান প্রদান করা হইবে।” হযরত নবীয়ে করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলিয়াছেন, “উচ্চৈস্বরে ক্রন্দনকারীগণ ও তাহাদের সাহায্যকারীগণ এবং শ্রবণকারী ও নিকটবর্তী সকলেই আল্লাহ তায়ালা ও ফেরেশতাগণ এবং সমস্ত মানুষ অভিসম্পাত করিয়া থাকে।”
বর্ণিত আছে, হযরত হাসান ইবনে আলী (রাঃ) যখন ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁহার স্ত্রী এক বৎসর পর্যন্ত তাঁহার কবরের উপর পড়িয়াছিলেন। এক বৎসর পর তাবু উঠানো হইলে কবরের মধ্যস্থল হইতে এই আওয়াজ তিনি শুনিতে পাইলেন, “ওহে! যাহাকে তুমি হারাইয়াছ, তাহাকে কি তুমি পাইয়াছ?” হুযুর করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর পুত্র হযরত ইব্রাহিম (রাঃ) যখন ইন্তেকাল হন, তখন তাঁহার চক্ষুদ্বয় হইতে অশ্রু ঝড়িতেছিল। ইহা দর্শন করিয়া হযরত আবদুর রহমান আরজ করিলেন, “হুযুর আপনিতো আমাদিগকে এইরূপ করিতে নিষেধ করিয়াছেন?” প্রত্যুত্তরে তিনি বলিলেন, “আমি মাত্র দুইটি পাপ আওয়াজ ও দুইটি আহাম্মকি কাজ হইতে বিরত থাকিতে বলিতেছি। উহা হইল বিলাপের ও গানের সুরে ক্রন্দন করা, পোশাক-পরিচ্ছদ ছিন্ন করা এবং গলদেশে আঘাত হানা কিন্তু অশ্রু বিসর্জনে কোন দোষ নাই। আল্লাহ তা'আলা রহমতস্বরূপ দয়ালুদের হৃদয়ে উহা স্থাপন করিয়াছেন।” তারপর তিনি বলিলেন, “হে ইব্রাহিম! তোমার বিচ্ছেদে আমার হৃদয় ব্যথিত এবং চক্ষুদ্বয় অশ্রুসিক্ত হইয়া পড়িয়াছে।”
মঙ্গলবার, ১৪ মে, ২০২৪
দাকায়েকুল আখবার- (১৭) জান কবজের পর রূহের চীৎকার
হযরত আবু কালাবা (রঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, একদা স্বপ্নে তিনি একটি কবরস্থান দেখিতে পাইলেন, যাহার কবরগুলি ফাটিয়া গিয়াছে এবং মৃতব্যক্তিরা বাহির হইয়া কবরের পার্শ্বে বসিয়া রহিয়াছে। তিনি আরও দেখিতে পাইলেন যে, তাহাদের প্রত্যেকের সামনে একটি করিয়া নূরের তবক রহিয়াছে; কিন্তু তাহাদের মধ্যে একজনকে দেখিতে পাইলেন যে, তাহার নূরের তবক নাই এবং সে খুবই চিন্তিত। উহার কারণ জিজ্ঞাসা করিয়া তিনি জানিতে পারিলেন যে, প্রথমোক্ত ব্যক্তিগণের পুত্র-কন্যা ও বন্ধু-বান্ধব তাহাদের জন্য দোয়া ও দান-খয়রাত করিয়া থাকে। উহার ফলস্বরূপ তাহারা নূরের তবক প্রাপ্ত হইয়াছে; কিন্তু শেষোক্ত ব্যক্তির এক অসৎ পুত্র আছে; সে পিতার জন্য দান-খয়রাত বা দোয়া-কালাম কিছুই করে না। সেজন্য তাহার নূরের তবক নাই এবং প্রতিবেশীদের নিকট খুবই লজ্জিত। অতঃপর হযরত আবু কালাবা (রঃ) জাগ্রত হইয়া উক্ত ব্যক্তির পুত্রকে ডাকিয়া আনিয়া স্বপ্নযোগে যাহা কিছু অবগত হইয়াছিলেন আনুপূর্বিক সবকিছুই খুলিয়া বলিলেন। পুত্র বলিল, “হুযুর! আমি আপনার হাতে তাওবাহ করিয়া বলিতেছি, আর আমি কখনও পাপের কাজ করিব না এবং আজীবন পিতার কথা স্মরণ রাখিব এবং আল্লাহ তা'আলার নিকট তাহার জন্য মাগফেরাত কামনা করিব।” তারপর সে মৃত পিতার জন্য দান-খয়রাত ও এবাদত-বন্দেগীতে মশগুল হইল। কিছুদিন পর হযরত আবু কালাবা (রঃ) পূর্ববত সেই কবরগুলি স্বপ্নে দেখিতে পাইলেন, পূর্বের সেই নূরহীন মৃত ব্যক্তির নিকট সূর্যের কিরণ হইতে অতি উজ্জ্বল একটি নূরের তবক বিরাজ করিতেছে। আর সেই ব্যক্তি বলিল, “হে আবু কালাবা ! আল্লাহ তা'আলা আপনাকে আমার অপেক্ষা উৎকৃষ্ট পুরস্কার দান করুন। আমি আপনার সাহায্যের ফলে দোযখের আযাব ও প্রতিবেশীদের তিরস্কার হইতে মুক্তিলাভ করয়াছি।”
হাদীস শরীফে আছে, একদা আজরাইল ফেরেশতা ইসকান্দর দেশীয় এক ব্যক্তির সহিত সাক্ষাত করিলেন। লোকটি তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “আপনি কে?” মালাকুল মউত বলিলেন, “আমি মৃত্যুদূত!” ইহা শ্রবণ করিয়া উক্ত ব্যক্তির পৃষ্ঠদেশ ও পাঁজরের মধ্যে অনুকম্পন আরম্ভ হইল। মৃত্যুদূত তাহাকে বলিলেন, “তুমি কেন এমন করিতেছ?” প্রত্যুত্তরে সে বলিল, “আমি দোযখের ভয়ে এমন করিতেছি।” অতঃপর মৃত্যুদূত তাহাকে বলিল, আমি কি তোমাকে একখানা চিঠি লিখিয়া দিব না, যাহা দ্বারা তুমি নরক হইতে পরিত্রাণ লাভ করিবে?” মালাকুল মউত একখণ্ড কাগজ লইয়া “বিছমিল্লাহিররাহমানির রাহীম” অর্থাৎ “পরম করুণাময় ও অনন্ত দয়ালু আল্লাহ পাকের নামে আরম্ভ করিতেছি” লিখিয়া দিয়া বলিলেন- “ইহা দ্বারাই তুমি দোযখ হইতে পরিত্রাণ লাভ করিবে।"
দাকায়েকুল আখবার- (১৬) বান্দার প্রতি মাটির ঘোষণা
দাকায়েকুল আখবার- (১৫) রূহের বিবরণ
অতঃপর মৃত ব্যক্তিকে যখন কবরের পার্শ্বে রাখা হয়, তখন কবর তাহাকে তিনবার ডাকিয়া বলে, “ওহে আদম সন্তান! একদিন আমার পৃষ্ঠপোরি পরমানন্দে হাসিয়া খেলিয়া বেড়াইয়াছ, এখন কাঁদিতে কাঁদিতে আমার অভ্যন্তরে প্রবেশ কর । আর এক কালে আমার পৃষ্ঠদেশে কত আনন্দ ও উৎফুল্ল হৃদয়ে কাল অতিবাহিত করিয়াছিলে, এখন চিন্তিতাবস্থায় আমার মধ্যে প্রবেশ কর, আর এককালে তুমি বেশ বাকপটু ছিলে, কিন্তু এখন নির্বাক ও বিমর্ষ চিত্তে আমার অভ্যন্তরে দাখিল হও।
দাকায়েকুল আখবার- (১৪) মানুষের ঈমান নষ্ট করিতে শয়তানের চেষ্টা
হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে যে, জান কবজের সময় মুমূর্ষু ব্যক্তি পিপাসায় ও হৃৎপিণ্ডের যন্ত্রণায় অত্যন্ত কাতর ও অস্থির হইয়া যায়। এমন সময় শয়তান বান্দার ঈমান নষ্ট করিবার জন্য সচেষ্ট হয়। সেই সময় বান্দা যখন পিপাসায় কাতর হইয়া যায়, তখন শয়তান এক পেয়ালা ঠান্ডা-পানি লইয়া বান্দার সম্মুখে উপস্থিত হয় এবং পেয়ালাটি আন্দোলিত করিতে থাকে। তখন কাতর বান্দা ভুলবশতঃ শয়তানের নিকট পানি চায়। উত্তরে শয়তান বলে, “হে বান্দা! তুমি যদি এই কথা বল যে, এই বিশ্ব-জগতের কোন প্রতিপালক নাই, তবেই তোমাকে আমি এই পানি পান করাইতে পারি।” ইহাতে বান্দা যদি কোন উত্তর প্রদান না করে, তবে শয়তান পুনরায় তাহার পদযুগলের সন্নিকটে বসিয়া পানির পেয়ালা নাড়াচাড়া করিতে থাকে। তখন উক্ত বান্দা বলে, “আমাকে কিছু পানি দাও।” উত্তরে শয়তান বলে, “হে বান্দা! তুমি যদি বলিতে পার যে, রাসূলগণ মিথ্যাকথা প্রচার করিয়া গিয়াছে, তবে তোমাকে পানি পান করাইতে পারি।” এমতাবস্থায় যাহার ভাগ্যে বদবখতি লেখা আছে, সে পিপাসার যাতনা সহ্য করিতে না পারিয়া শয়তানের ইচ্ছা অনুসারে কাজ করিয়া বেঈমান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে এবং ধর্ম-ভীরু ও আল্লাহভক্ত ব্যক্তি ঈমানের শক্তির প্রভাবে শয়তানের প্ররোচনা হইতে নিজেকে মুক্ত রাখিতে সক্ষম হয় ও পবিত্র ঈমানের সহিত তাহার রূহ, অনন্ত রাজ্যে বিলীন হইয়া যায়।
হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে যে, বিখ্যাত সুফী আবু জাকারিয়া (রহঃ) -এর জান কবজের সময় তাহার এক প্রিয়তম বন্ধু তাহাকে কালেমায়ে শাহাদাত তালকীন দিতে (পড়াইতে) শুরু করেন; কিন্তু প্রত্যুত্তরে সুফী আবু জাকারিয়া (রহঃ) কিছুই বলিলেন না এবং মুখমণ্ডল অন্যদিকে ফিরাইয়া লইলেন। দ্বিতীয়বারও তিনি এমনই করিলেন এবং তৃতীয়বার তালকীনের সময় বলিলেন, “আমি ইহা বলিব না ।” ফলে বন্ধুবর অত্যন্ত বিচলিত ও চিন্তিত হইয়া পড়িলেন। এইভাবে কিছুক্ষণ অতিবাহিত হইয়া যাওয়ার পর আবু জাকারিয়া (রহঃ) যাতনার শীতলতা অনুভব করতঃ চক্ষুদ্বয় উন্মিলিত করিয়া বলিলেন, “হে বন্ধু! তুমি কি আমাকে কোন কথা জিজ্ঞাসা করিয়াছিলে?” বন্ধুবর বলিলেন, “হ্যা আমরা আপনাকে তিনবার কালেমায়ে শাহাদাত তালকীন করিয়াছি, কিন্তু দুইবারই আপনি মুখমণ্ডল অন্যদিকে ফিরাইয়া লইয়াছিলেন এবং তৃতীয়বার বলিয়াছিলেন যে, “আমি ইহা বলিব না।” তখন সুফী আবু জাকারিয়া (রহঃ) বলিলেন, “বিতাড়িত ইবলিস শয়তান এক পেয়ালা পানিসহ আমার ডানদিকে দাঁড়াইয়া এবং পানির পাত্রটি নাড়াচাড়া করিয়া আমাকে জিজ্ঞাসা করিল, “হে বান্দা! তুমি কি পানি পান করিবে?” আমি উত্তর করিলাম, “হ্যা পান করিব।” তখন শয়তান বলিল, “যদি তুমি বল যে, হযরত ঈসা (আঃ) আল্লাহ তায়ালার পুত্র ছিলেন, তবে তোমাকে আমি পানি পান করাইব।” এইকথা শ্রবণ করিয়া আমি মুখ ফিরাইয়া লইয়াছি। তারপর শয়তান পায়ের কাছে আসিয়াও সেই কথা বলিল, তখনও আমি মুখ ফিরাইয়া লইয়াছি। তৃতীয়বার শয়তান আমাকে বলিল- “তুমি অন্ততঃ বল, 'লা-ইলাহা অর্থাৎ কোনই উপাস্য নাই।” ইহার প্রত্যুত্তরে আমি বলিলাম, আমি কখনও এই কথা বলিব না। ইহা শ্রবণ করিয়াই শয়তান পানির পাত্রটিকে মাটিতে নিক্ষেপ করিয়া চলিয়া গেল। আমি মরদুদ্ শয়তানের কথার উত্তর দিয়াছি মাত্র। আমি তোমাদের কথার উত্তর দেই নাই। এখন আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, “আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত আর কোনও উপাস্য নাই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিতেছি যে, হযরত মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহ তা'আলার বান্দা এবং রাসূল ছিলেন ।”
দাকায়েকুল আখবার- (১৩) মৃত্যুমুহূর্তে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাতর ফরিয়াদ
তাই বন্ধুগণ, মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করুন, যাহারা নিজ অন্তর প্রদেশে আল্লাহর নামের মোহর অংকিত করিতে সক্ষম হইয়াছেন, নিশ্চয় তাহারা আল্লাহ প্রদত্ত সুকঠিন শাস্তি বিচ্ছিন্নতার কষ্ট ও যাতনা এবং অপদস্থতার তীব্র গ্লানি হইতে নিস্তার লাভ করিবেন। যেমন আল্লাহ্ তা'আলা এরশাদ করেন, -("উলাইকা কাতাবা ফি কুলুবিহিমুল ঈমানা") অর্থাত : "উহারাই, যাহাদের হৃদয় কন্দরে আল্লাহ্ তা'আলা ঈমানের মোহর অংকিত করিয়া দিয়াছেন।" আর আল্লাহ্ তা'আলা আরো ইরশাদ করেন, - ("আফামান্ শারাহাল্লাহু ছাদরাহু লিল্ ইসলামি ফাহুয়া আলানুরিম্-মির রাব্বিহ্") অর্থাত : আল্লাহ্ তা'আলা যাদের অন্তকরণকে পবিত্র ইসলামের জন্য সম্প্রসারিত করিয়াছেন, নিশ্চয় তাহারা আল্লাহ্ তা'আলার প্রদত্ত জ্যাতিতে বিরাজ করিতেছে। অতএব সে কিয়ামতের দিন আযাবের ভয় হইতে পরিত্রাণ লাভে সক্ষম হইবে"।
অন্য এক হাদিসে বর্ণিত আছে যে, যখন কোন বান্দার জান কবজ আরম্ভ হয়, তখন আল্লাহ্ তা'আলার তরফ হইতে কেহ উচ্চৈঃস্বরে ডাকিয়া বলে, "হে মালাকুল মউত! ক্ষান্ত হও কিছু সময় তাহাকে আরাম করিতে দাও।" আর রূহ্ যখন বক্ষস্থল পর্যন্ত আসে তখন পূনরায় ডাকিয়া বলা হয় যে, "হে মৃত্যুদূত ক্ষান্ত হও, ক্ষান্ত হও, আরো কিছু সময় তাহাকে আরাম করিতে দাও।" অনুরূপ ভাবে হাটু ও নাভী পর্যন্ত পৌছিলেও তেমনি বলা হইয়া থাকে। পরিশেষে রূহ্ যখন কন্ঠ পর্যন্ত পৌছিয়া যায় তখন অতি উচ্চৈঃস্বরে বলা হয় হে মালাকুল মউত! ক্ষান্ত হও! ক্ষান্ত হও! তা্হাকে নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হইতে চিরবিদায় গ্রহন করিবার জন্য কিছু সময় প্রদান কর।" তখন চক্ষুদ্বয় রূহ্কে বিদায় দিয়া বলে, হে বন্ধু কিয়ামত পর্যন্ত তোমার উপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হউক।" অনুরুপ ভাবে উভয় হস্ত, উভয় কর্ণ এবং পদদ্বয় রূহ্কে আশীর্বাদ করিয়া চির বিদায় গ্রহন করে।
আমরা আল্লাহ্ তা'আলার দরবারে প্রার্থনা করিতেছি যেন আমাদের রসনা হইতে ঈমানের বাণী এবং অন্তর হইতে মারেফাতের জ্যোতি বিদায় করিতে না হয়। তারপর হস্তদ্বয়, পদদ্বয় নিস্তেজ হইয়া পড়িয়া থাকে এবং চক্ষুদ্বয় জ্যোতিহীন ও কর্ণদ্বয় শ্রবণ শক্তিহীন এবং দেহ কাঠামো আত্মাহীন হইয়া পরিয়া থাকে।
দাকায়েকুল আখবার- (১২) আত্মার কথোপকথনের বিবরণ
বিবাহ (৩৫) কন্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ
বিবাহ (পর্ব – ৩৫) 📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.) কন্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...
-
অহংকার ও আত্মপ্রীতি (পর্ব- ৮) এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) অহংকারের প্রতিকার ও বিনয় অর্জনের উপায় উপরোক্ত আলোচনা থেকে জানা গেল যে,...
-
অহংকার ও আত্মপ্রীতি (পর্ব- ৫) এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) অহংকারের স্বরূপ ও তার লাভ-লোকসান— অহংকার দু'প্রকার। একটি বাহ্যিক, অপ...
-
অহংকার ও আত্মপ্রীতি (পর্ব- ৩) এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) অহংকারের নিন্দা — পবিত্র কোরআনুল কবিমে বহু স্থানে আল্লাহ তা'আলা ...









