মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৫
আত্মদর্শন (২০) আত্মার শ্রেষ্ঠত্বের কারণ
আত্মদর্শন (১৯) মানুষের নিত্য ও অনিত্য গুণ
আত্মদর্শন (১৮) মানব জীবনের উদ্দেশ্য
আত্মদর্শন (১৭) আত্মা দর্পণ সদৃশ
সৃষ্টির প্রারম্ভে আত্মা এমন লৌহের ন্যায় থাকে যদ্দ্বারা স্বচ্ছ দর্পণ নির্মিত হয়। লৌহ-দর্পণে যেমন সকল বস্তুর প্রতিবিম্ব পড়িতে পারে, আত্মার মধ্যেও তদ্রূপ বিশ্বের সকল বস্তুর প্রতিবিম্ব পড়িতে পারে। কিন্তু লৌহ-দর্পণকে অতি সাবধানতার সহিত রক্ষা করিতে না পারিলে উহা মরিচার ধরিয়া নষ্ট হইয়া যায় এবং উহা তখন প্রতিবিম্ব ধারণের অযোগ্য হইয়া পড়ে। আত্মার অবস্থাও ঠিক তদ্রূপড। এই সম্পর্কেই আল্লাহ্ বলেনঃ “ তাহা নহে, বরং নিজ কর্মের দোষে তাহাদের আত্মার উপর মরিচা পড়িয়াছে।”
আত্মদর্শন (১৬) পাপ-পুণ্য
আত্মদর্শন (১৫) প্রবৃত্তি বিশেষের অনুসরণে ভাব বিশেষের উৎপত্তি
আত্মদর্শন (১৪) বুদ্ধির আলোকে ফেরেশতাদের জ্যোতি
খাহেশরূপ শূকর ও ক্রোধরূপ কুকুরকে দমন করিয়া এইরূপ বুদ্ধির অধীনে স্থাপন করিবার জন্য মানুষ আদিষ্ট হইয়াছে যেন উহারা বুদ্ধির আদেশ ব্যতীত চলিতে ফিরিতে না পারে। যে ব্যক্তি খায়েশ ও ক্রোধকে বুদ্ধির অধীন করিবে সে সৌভাগ্যের বীজস্বরূপ সৎস্বভাব লাভ করিতে পারিবে। কিন্তু ইহার বিপরীত করিয়া নিজেই খাহেশ ও ক্রোধের দাস হইয়া পড়িলে তাহার মধ্যে কতগুলি জঘন্য স্বভাব বিকাশ পাইবে। উহাই তাহার দুর্ভাগ্যের বীজস্বরূপ হইয়া থাকিবে। তাহার প্রকৃত অবস্থা স্বপ্নে বা জাগরণে যদি তাহাকে দৃষ্টান্তস্বরূপ দেখানো হয় তবে সে দেখিতে পাইবে যে, একটি শূকর, কুকুর বা শয়তানের সম্মুখে সে ব্যক্তি করজোড় দণ্ডায়মান রহিয়াছে। কোন মুসলমানকে কাফিরের অত্যাচারে নিঃসহায় পরিত্যাগ করিলে কাফির যেমন মুসলমানের দূর্দশার একশেষ করিয়া থাকে । লোকে যদি বিচার ও চিন্তা করিয়া দেখে তবে বুঝিতে পারিবে যে, তাহারা দিবারাত্র নফসানী খাহেশের অনুসরণ করিয়া চলিতেছে । প্রকাশ্য আকৃতিতে তাহাদের মানুষরূপে দেখা গেলেও কিয়ামতের দিন তাহাদের প্রকৃত অবস্থা বাহির হইয়া পড়িবে এবং তাহাদের আকৃতিও তখন তাহাদের প্রকৃতি অনুযায়ী হইবে। যে ব্যক্তি ক্রোধের বশীভূত সে তখন ব্যাঘ্র বা কুকুরের আকার ধারণ করিবে। এই জন্য কথিত আছে, “যে ব্যক্তি স্বপ্নে ব্যাঘ্র দেখিতে পায়, তাহার অর্থ জালিম লোক; কোন ব্যক্তি স্বপ্নে শূকর দেখিলে ইহার অপবিত্র নোংরা লোক ।” নিদ্রা মৃত্যুর নমুনাস্বরূপ। নিদ্রার প্রভাবে মানুষ এই জগত হইতে যত দূরবর্তী হইতে থাকে ততই তাহার আকৃতি ক্রমান্বয়ে প্রকৃতির অনুরূপ হইয়া পড়ে। এইজন্য প্রত্যেক ব্যক্তি বাহ্য আকৃতি তাহার আভ্যন্তরিক প্রকৃতির অনুরূপ দৃষ্টান্ত হইয়া থাকে। এ সকল গভীর রহস্যের কথা। ইহার বিশদ ব্যাখ্যা এই পুস্তকে সমাবেশ হইবে না।
আত্মদর্শন (১৩) মানব প্রকৃতিতে চতুর্বিধ স্বভাব
আত্মদর্শন (১২) শরীর, আত্মা ও তাহার সৈন্যদের তুলনামূলক পরিচয়
আত্মাকে সৃষ্টি করিয়া এই রাজ্য, সৈন্য ও দেহরূপ বাহন এইজন্য প্রদান করা হইয়াছে যে, ইহা জড়জগত হইতে সর্বোচ্চ ইল্লীন পর্যন্ত আরোহণ করিবে। কেহ যদি এই মহাদানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ বন্দেগীর কর্তব্য পালন করিতে ইচ্ছা করে তবে তাহাকে বাদশাহের ন্যায় স্বীয় সিংহাসনে উপবেশন পূর্বক একমাত্র আল্লাহ্কে তাহার লক্ষ্যস্থল ও কিবলা করিয়া লইতে হইবে এবং পরকালকে আপন স্থায়ী বাসস্থান ও দুনিয়াকে পান্থশালা বিবেচনা করিতে হইবে। তৎপর শরীরকে বাহন, হস্ত পদকে খেদমতগার, বুদ্ধিকে উযীর, লোভকে ধন-রক্ষক, ক্রোধকে কোতওয়াল এবং ইন্দ্রিয়গণকে গুপ্তচর বানাইয়া প্রত্যেককে পরজগতের সংবাদ সংগ্রহে নিযুক্ত রাখা কর্তব্য। মস্তিষ্কের সম্মুখ ভাগে যে চিন্তাশক্তি আছে ইহা সংবাদ সংগ্রহকারী চরগণের অধিনায়ক এবং চরগণ প্রত্যেকটি সংবাদ এই অধিনায়কের নিকট উপস্থিত করে তাহার পর মস্তিষ্কের পশ্চাৎভাগে যে স্মরণশক্তি আছে তাহা ঐ সংগৃহীত সংবাদসমূহের রক্ষক এবং সে উহা অধিনায়ক চিন্তাশক্তির নিকট হইতে লইয়া হিফাজতে রাখে ও উপযুক্ত সময়ে বুদ্ধি রূপে উযীরের নিকট পেশ করে। এইরূপ সংগৃহীত সংবাদ অনুসারে উযীর দেহ-রাজ্যের কার্য পরিচালনা করে এবং বাদশাহের পরকাল-সফরের উপায় অবলম্বনে তৎপর থাকে। উযীর যদি দেখিতে পায় যে, ক্রোধ, লোভ ইত্যাদি পরিচালকদের মধ্যে কেহ বাদশাহের বিদ্রোহী হইয়াছে, অধীনতা বর্জন করিয়াছে ও ডাকাতি করিতে ইচ্ছা করিয়াছে, তবে বুদ্ধিরূপ উযীর তাহাদিগকে দমন করিবার চেষ্টা করে এবং তাহাদিগকে অধীন করিয়া লইবার জন্য তাহাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হয়, কিন্তু তাহাদিগকে একেবারে মারিয়া ফেলিবার ইচ্ছা করে না । কারণ, উহাদের অভাবে দেহ-রাজ্যের কার্য কখনও সুচারুরূপে চলে না । এইজন্য নানা উপায়ে উহাদিগকে এমনভাবে বশীভূত করে উহারা যেন আত্মার গন্তব্যপথে রন্ধ ও সাহায্যকারী হয়। শত্রু না হয়ে বরং মিত্রের ন্যায় সঙ্গী থাকে, চুরি ডাকাতি না করে এইরূপ বন্দোবস্ত করিতে পারিলে আত্মা সৌভাগ্যবান হয়, আল্লাহ্ প্রদত্ত অসীম অনুগ্রহের হক আদায় করিবার উপযোগী হইয়া উঠে এবং তাহার বন্দেগী করিয়া তৎপরিবর্তে উপযুক্ত সময়ে আল্লাহর নিকট মহা পুরস্কার পাইয়া থাকে। অপরপক্ষে উক্তরূপ বন্দোবস্ত না করিয়া উহার বিপরীত কাজ করিতে আত্মা বিদ্রোহী, ডাকাত ও শত্রুদলের সহিত মিলিত হইয়া নিমকহারাম ও দুর্ভাগ্যগ্রস্ত হইয়া পড়ে এবং অবশেষে তাহাকে এই গর্হিত কার্যের জন্য কঠিন শাস্তি ভোগ করিতে হয় ।
আত্মদর্শন (১১) দেহরক্ষী সৈন্য আত্মার অধীন
বিবাহ (৩৫) কন্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ
বিবাহ (পর্ব – ৩৫) 📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.) কন্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...
-
অহংকার ও আত্মপ্রীতি (পর্ব- ৮) এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) অহংকারের প্রতিকার ও বিনয় অর্জনের উপায় উপরোক্ত আলোচনা থেকে জানা গেল যে,...
-
অহংকার ও আত্মপ্রীতি (পর্ব- ৫) এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) অহংকারের স্বরূপ ও তার লাভ-লোকসান— অহংকার দু'প্রকার। একটি বাহ্যিক, অপ...
-
অহংকার ও আত্মপ্রীতি (পর্ব- ৩) এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) অহংকারের নিন্দা — পবিত্র কোরআনুল কবিমে বহু স্থানে আল্লাহ তা'আলা ...









