বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৪

নফল নামায (পর্ব - ১৭) জানাযার নামায



নফল নামায - (পর্ব - ১৭)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

জানাযার নামায
এ নামাযের নিয়ম সুবিদিত। এক সহীহ্ রেওয়ায়েতে আওফ ইবনে মালেক (রাঃ) বর্ণিত দোয়াটি এ নামাযে অধিক ব্যাপক। তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-কে এক জানাযার নামায পড়তে দেখেছি এবং তাতে তিনি যে দোয়া করেন তা দোয়া মুখস্থ করে নিয়েছি। তিনি বলছিলেন-
“হে আল্লাহ, তাঁর মাগফেরাত করুন, তাঁর প্রতি রহম করুন, তাঁর প্রবেশ পথ (কবর) বিস্তৃত করুন, তাঁকে বরফ ও শিলার পানি দিয়ে গোসল দিন, তাঁকে গোনাহ থেকে পবিত্র করুন, যেমন আপনি সাদা বস্ত্রকে ময়লা থেকে পবিত্র করেছেন, তাঁকে তাঁর গৃহের বদলে উত্তম গৃহ দিন, তাঁর পরিবারের বদলে উত্তম পরিবার দিন, তাঁর স্ত্রীর বদলে উত্তম স্ত্রী দিন, তাঁকে জান্নাতে দাখিল করুন এবং কবর ও জাহান্নামের আযাব থেকে আশ্রয় দিন৷ 
”হযরত আওফ বলেনএ দোয়া শুনে আমার বাসনা হল, হায়, মৃত ব্যক্তি যদি আমি হতাম এবং রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর এ দোয়া যদি আমার জন্যে হত ! 
যেব্যক্তি দ্বিতীয় তকবীরে শরীক হয়, সে ইমামের সাথে অবশিষ্ট তকবীরগুলো বলবে এবং সালামের পর ছুটে যাওয়া তকবীরটি আদায় করে নেবে, যেমন মসবুক ব্যক্তি সালামের পর ছুটে যাওয়া রাকআত আদায় করে। তকবীরসমূহই জানাযার নামাযের বাহ্যিক আরকান। সেমতে অন্যান্য নামাযের রাকআতসমূহের স্থলাভিষিক্ত এ নামাযের তকবীরগুলো হওয়া উচিত। এটা আমার মতে অধিক যুক্তিসঙ্গত, যদিও আরও সম্ভাবনা আছে। জানাযার নামাযের সওয়াব এবং এর সাথে গমনের ফযীলত সম্পর্কে অনেক মশহুর হাদীস বর্ণিত আছে। সেগুলো উল্লেখ করে আমরা বিষয়বস্তু দীর্ঘ করতে চাই না। এর সওয়াব অনেক বেশী। কেননা, এটা ফরযে কেফায়া। নফল তার জন্যেই, যার উপর অন্য ব্যক্তির উপস্থিতির কারণে নির্দিষ্ট হয়ে যায় না। নির্দিষ্ট না হলেও সে ফরযে কেফায়ারই সওয়াব পায়। জানাযার নামাযে অধিক লোকের উপস্থিতি মোস্তাহাব। বেশী লোক হলে দোয়া বেশী হবে এবং তাদের মধ্যে কেউ হয়তো এমনও থাকবে, যার দোয়া কবুল হয়।
কুরায়ব বর্ণনা করেন, হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) -এর এক ছেলের ইন্তেকাল হয়ে গেলে তিনি আমাকে বললেন তার জানাযায় কত লোক উপস্থিত হয়েছে দেখ। আমি দেখার পর বললামঃ অনেক লোক হয়েছে। তিনি বললেন চল্লিশ জন হয়েছে? আমি বললাম হাঁ। তিনি বললেন : এখন জানাযা বের কর। আমি রসূলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি- "যদি কোন মুসলমান মারা যায় এবং তার জানাযায় এমন চল্লিশ ব্যক্তি দন্ডায়মান হয়, যারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করে না, আল্লাহ্ তাআলা তাদের সুপারিশ মৃত ব্যক্তির জন্য কবুল করেন। লোকজন যখন জানাযার সাথে কবরস্থানে পৌছে অথবা এমনিতেও কবরস্থানে যায়, তখন এই দোয়া করবে "গৃহবাসী মুমিন ও মুসলমানদের প্রতি সালাম। আমাদের অগ্রবর্তী ও পরবর্তীদের প্রতি আল্লাহ রহম করুন। আমরাও ইনশাআল্লাহ্ তোমাদের সাথে মিলিত হব।" 
দাফন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে প্রস্থান না করা উত্তম। দাফন সম্পন্ন হয়ে গেলে কবরের কাছে দাঁড়িয়ে (দোয়া করবে) বলবে- ইলাহী, আপনার বান্দা আপনার কাছে সমর্পিত হয়েছে। আপনি তার প্রতি রহম করুন। ইলাহী, তার উভয় পার্শ্ব থেকে মাটি সরিয়ে দিন। তার আত্মার জন্যে আকাশের দরজা খুলে দিন, তার আমল কবুল করুন। ইলাহী, সে সৎ হলে সওয়াব দ্বিগুণ করুন এবং গোনাহগার হলে তার গোনাহ্ ক্ষমা করুন। 

পরবর্তী পর্ব

নফল নামায (পর্ব - ১৬) বৃষ্টির নামায



নফল নামায - (পর্ব - ১৬)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

বৃষ্টির নামায
যখন নদীর পানি শুকিয়ে যায় এবং বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যায়, তখন মানুষকে তিন দিন রোযা রাখতে বলা ইমামের জন্য মোস্তাহাব। এ সময় ইমাম সকলকে সাধ্যানুয়ায়ী খয়রাত করা, কারও পাওনা থাকলে তা আদায় করা এবং গোনাহ থেকে তওবা করারও উপদেশ দেবে।
এর পর চতুর্থ দিন আবাল বৃদ্ধবনিতাসহ গোসল করে বের হবে। অনুনয় বিনয় প্রকাশ পায় এমন ছেঁড়া বস্ত্র পরিধান করবে এবং বিনয়ের ভঙ্গিমায় গমন করবে। কেউ কেউ বলেন : চতুষ্পদ জীব-জন্তুসমূহ সাথে নিয়ে যাওয়া মোস্তাহাব। হাদীসে বলা হয়েছে- “যদি দুগ্ধপোষ্য শিশু, এবাদতে লিপ্ত মাশায়েখ ও চারণকারী চতুষ্পদ জন্তু না থাকত, তবে তোমাদের উপর আযাব নাযিল করা হত”। 
বিস্তীর্ণ মাঠে একত্রিত হওয়ার পর ইমাম তাদেরকে ঈদের নামাযের ন্যায় দু'রাকআত নামায পড়াবেন ; কিন্তু তাতে অতিরিক্ত তকবীর থাকবে না। 
এর পর দুটি খোতবা পাঠ করবেন। উভয় খোতবার অধিকাংশ বিষয়বস্তু এস্তেগফার অর্থাৎ কৃত গোনাহখাতা থেকে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
দ্বিতীয় খোতবার মাঝখানে ইমাম মুসল্লীদের প্রতি পিঠ ফিরিয়ে কেবলামুখী হয়ে যাবে এবং নিজের চাদর এমনভাবে ওলটপালট করবে , যেন নীচের অংশ উপরে এবং ডানের অংশ বামে চলে যায়। মুসল্লীরাও তাদের চাদরের দিক এমনিভাবে পাল্টে নেবে। তখন আস্তে আস্তে দোয়া করবে। চাদর পাল্টানোর মধ্যে এই শুভ ইঙ্গিত রয়েছে, দুর্ভিক্ষ ও অনাবৃষ্টির স্থিতি এমনিভাবে পাল্টে যাক। রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) তাই করেছেন। এর পর ইমাম মুসল্লীদের দিকে মুখ করে খোতবা শেষ করবে এবং চাদর পাল্টানো অবস্থায়ই থাকতে দেবে। 
দোয়া এভাবে করবে ; "ইলাহী, আপনি আমাদেরকে দোয়া করার আদেশ এবং তা কবুল করার ওয়াদা দিয়েছেন। অতএব আমরা আপনার আদেশ অনুযায়ী দোয়া করছি। এখন আপনার ওয়াদা অনুযায়ী তা কবুল করুন। ইলাহী, আমরা যেসব গোনাহ্ করেছি, সেগুলো মার্জনা করে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন। আমাদের রিযিক বৃদ্ধি ও বৃষ্টির জন্যে আমাদের দোয়া কবুল করুন।"

পরবর্তী পর্ব

নফল নামায (পর্ব - ১৫) গ্রহণের নামায



নফল নামায - (পর্ব - ১৫)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

গ্রহণের নামায 
রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন- “নিশ্চয় সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহ তাআলার দু'টি নিদর্শন। কারও মৃত্যু ও জন্মের কারণে এগুলোর গ্রহণ হয় না। যখন এই গ্রহণ দেখ, তখন দ্রুত যিকির ও নামাযের দিকে ধাবিত হও।” 
তিনি একথা তখন বলেছিলেন, যখন তাঁর পুত্র ইবরাহীম (আঃ) এর ইন্তেকাল হয়েছিল এবং সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। এতে লোকেরা বলাবলি করছিল, ইবরাহীমের মৃত্যুর কারণে সূর্যগ্রহণ হয়েছে।
এ নামায পড়ার নিয়ম এই- যখন সূর্যগ্রহণ হয় তখন মাকরূহ সময়ে হলেও মানুষকে নামাযের জন্যে 'নামাজের জন্য একত্রিত হও) বলে আহ্বান করবে। এর পর ইমাম তাদেরকে নিয়ে মসজিদে দু'রাকআত নামায পড়বে। 
প্রত্যেক রাকআতে দু'টি রুকু করবে। প্রথম রুকু বড় হবে এবং দ্বিতীয় রুকু ছোট। কেরাআত সরবে পড়বে না। প্রথম রাকআতে আলহামদু ও সূরা বাকারা পাঠ করবে। প্রথম রুকুর পরে দ্বিতীয় কেয়ামে আলহামুদ ও আলে এমরান পাঠ করবে। দ্বিতীয় রাকআতে কেয়ামে আলহামদু ও সূরা নেসা এবং প্রথম রুকুর পর দ্বিতীয় কেয়ামে আলহামদু ও সূরা মায়েদা পড়বে, 
আথবা কোরআনের যেখান থেকে ইচ্ছা পড়বে। যদি প্রত্যেক কেয়ামে কেবল আলহামদুই পাঠ করে তবুও যথেষ্ট হবে। ছোট ছোট সূরা পড়লেও কোন দোষ নেই। নামায দীর্ঘ করার উদ্দেশ্য গ্রহণ শেষ হয়ে যাওয়া। প্রথম রুকুতে একশ ' আয়াত পরিমাণে, দ্বিতীয় রুকুতে আশি আয়াত পরিমাণে, তৃতীয় রুকুতে সত্তর আয়াত পরিমাণে এবং চতুর্থ রুকুতে পঞ্চাশ আয়াত পরিমাণে তসবীহ্ পাঠ করবে। সেজদা ও রুকুর অনুরূপ হওয়া উচিত। এর পর নামায শেষে দু'টি খোতবা পাঠ করবে। মাঝখানে বসবে। উভয় খোতবার মানুষকে সদকা দেয়ার ও তওবা করার আদেশ দেবে। 
চন্দ্রগ্রহণেও তাই করবে। কিন্তু তাতে কোরআন সরবে পাঠ করবে না। কেননা , এ নামায রাতের বেলায় হবে। যতক্ষণ সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ অব্যাহত থাকে ততক্ষণ এই নামায পড়ার সময় নামাযের মধ্যেই গ্রহণ শেষ হয়ে গেলে নামায সংক্ষিপ্ত আকারে পূর্ণ করে নেবে। 

পরবর্তী পর্ব-


নফল নামায (পর্ব - ১৪) শাবানের নামাজ তথা সবেবরাতের নামাজ



নফল নামায - (পর্ব - ১৪)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

শাবানের নামাজ
শাবানের ১৫ তারিখ (১৪ দিবাগত রাত) রাতে দু’দু'রাকআত করে একশ ' রাকআত পড়বে। প্রতি রাকআতে আলহামদুর পরে এগার বার সূরা এখলাস পড়বে। এক'শ রাকআত সম্ভবপর না হলে দশ রাকআত এবং প্রত্যেক রাকআতে আলহামদুর পরে এক'শ বার সূরা এখলাস পড়বে।
পূর্ববর্তী বুযুর্গগণ এ নামায পড়তেন এবং একে ‘সালাতে খায়র’ বলতেন। মাঝে মাঝে তারা এ নামায জামাআতেও পড়তেন। 
হযরত হাসান বসরী (রহঃ) বলেন : ত্রিশ জন সাহাবী আমার কাছে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, যেব্যক্তি রাতে এ নামায পড়বে, আল্লাহ তাআলা তার দিকে সত্তর বার রহমতের দৃষ্টি দেবেন এবং প্রত্যেক বারের দৃষ্টিতে তার সত্তরটি প্রয়োজন মেটাবেন। তার মধ্যে সর্বনিম্ন প্রয়োজন হচ্ছে মাগফেরাত। 

পরবর্তী পর্ব-

নফল নামায (পর্ব - ১৩) রজবের নামাজ



নফল নামায - (পর্ব - ১৩)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

রজবের নামাজ
রসূলে করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন : যেব্যক্তি রজব মাসের প্রথম বৃহস্পতিবারে রোযা রাখে, অতঃপর মাগরিব ও এশার মাঝখানে দু'দু'রাকআত করে বারো রাকআত নামায পড়ে, প্রত্যেক রাকআতে আলহামদু একবার, সূরা কদর তিন বার, সূরা এখলাস বারো (১২) বার এবং 
নামাযান্তে এই দরূদ পড়ে 
(- اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ وَعَلَى آلِهِ )
>“আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন্-নাবিয়্যিল উম্মী ওয়া ‘আলা আলিহি” (৭৫ বার)

প্রথম সেজদায়- (سُبُوحَ قَدُوسٌ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ-)
>“সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুল মালাইকাতিহ ওয়ার- রূহ” (৭০ বার)

অতঃপর মাথা তুলে (رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَتَجَاوِرُ عَمَّا تَعْلَمُ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَلِيُّ الْأَعْظَمُ)
>"রব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়াতাযাওরান আম্মা তা'লামু ইন্নাকা আন্তা আলিয়্যুল আযীম" (৭০ বার)

দ্বিতীয় সেজদায়ও - (سُبُوحَ قَدُوسٌ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ-)
>“সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুল মালাইকাতিহ ওয়ার- রূহ” (৭০ বার)

এর পর সেজদার মধ্যেই নিজের প্রয়োজন প্রার্থনা করে, তার সকল প্রয়োজন পূর্ণ করা হবে। তার সব গোনাহ্ মার্জনা করা হবে যদিও তা সমুদ্রের ফেনা, বালুকার সংখ্যা, পাহাড়ের ওজন এবং বৃক্ষের পত্রসম হয়। কেয়ামতের দিন সে তার পরিবারের সাত'শ মানুষের শাফায়াত করবে, যারা দোযখের যোগ্য হবে। 

পরবর্তী পর্ব
শাবানের নামায তথা সবেবরাতের নামাজ

নফল নামায (পর্ব - ১২) তারাবীহ্ নামাজ





নফল নামায - (পর্ব - ১২)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

তারাবীহ্ নামাজ
তারাবীহ বিশ রাকআত। এটা সুন্নতে মোআক্কাদা। তবে দুই ঈদের নামাযের তুলনায় এর উপর জোর কম। তারাবীহ জামাআতে পড়া উত্তম, না একা পড়া- এ বিষয়ে আলেমগণের মতভেদ আছে। রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এ নামায দুই অথবা তিন রাতে জামাআত সহকারে পড়েছিলেন। এর পর জামাআতে পড়েননি এবং বলেন আমার আশংকা হয়, এটা তোমাদের উপর ওয়াজিব না হয়ে যায়। হযরত ওমর (রাঃ) মুসলমানদেরকে তারাবীহের জামাআতে একত্রিত করে দেন। কেননা, ওহী বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তা ওয়াজিব হয়ে যাওয়ার আশংকা ছিল না। সুতরাং কতক আলেম হযরত ওমর (রাঃ)-এর এ কাজের কারণে বলেন, তারাবীহ জামাআতে পড়া উত্তম। এ ছাড়া সকলের সমবেত হওয়ার মধ্যে বরকত আছে। একাকিত্বে মাঝে মাঝে আলস্যও স্পর্শ করে। সমাবেশ দেখলে মন প্রফুল্ল হয়। কেউ কেউ বলেন তারাবীহ একা পড়া উত্তম। রাসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেন : আমার এ মসজিদে এক নামায অন্য মসজিদে এক'শ নামাযের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এসব নামাযের চেয়ে উত্তম সেই ব্যক্তির নামায, যে তার গৃহের কোণে দু'রাকআত পড়ে এবং তার খবর আল্লাহ ব্যতীত কেউ রাখে না। এর কারণ, রিয়া ও বানোয়াট অধিকতর সমাবেশের মধ্যেই হয়ে থাকে। একান্তে মানুষ এগুলো থেকে নিরাপদ থাকে। কিন্তু পছন্দনীয় উক্তি ইচ্ছে, তারাবীহ জামাআতে পড়াই ভাল। কেননা, কতক নফল নামায জামাআত সিদ্ধ। তারাবীহর প্রকাশও কর্তব্য।

পরবর্রতী পর্ব

নফল নামায (পর্ব - ১১) দু’ঈদের নামায



নফল নামায - (পর্ব - ১১)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

বাৎসরিক নফল নামাজ
চার প্রকার নফল নামায প্রতিবছর একবার করে আদায় করতে হয়— 
(১) দু'ঈদের নামায, 
(২) তারাবীহ, 
(৩) রজবের নামায ও 
(৪) শা'বানের নামায। 

দু’ঈদের নামায 
এই নামায সুন্নতে মোআক্কাদা তথা ওয়াজিব। এটি ধর্মের একটি নিদর্শন। এতে সাতটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত। 

(১) তিন বার তকবীর অর্থাৎ নিম্নোক্ত বাক্যাবলী বলা : 

‎الله اكبر الله اكبرُ اللهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا الْحَمْدُ للهِ كَثِيرًا وَسُبْحَنَ اللهِ بُكْرَةً وَأَصِيلًا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شرِيكَ لَهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ - وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ .

"আল্লাহু আকবার ,আল্লাহু আকবার। আল্লাহু আকবার কবীরা, আলহামদুলিল্লাহি কাতীরা, ওয়া ছোবহানাল্লাহি বোখরাতাওঁ ওয়া-অসিলা। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু মোখলিছিনা লাহুদ্বীনা ; ওয়ালাউ কারিয়্যাল কাফেরুন।"

অর্থাৎ, "আল্লাহ মহান, আল্লাহর জন্যে অনেক প্রশংসা। সকাল সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করি। আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। তিনি এক , তাঁর কোন শরীক নেই। তাঁর জন্যে এবাদতকে খাঁটি কর ; যদিও কাফেররা অপছন্দ করে।" 

ঈদুল ফেতরের রাত্রি থেকে ঈদের নামায পর্যন্ত এ তকবীরের সময়। ঈদুল আযহায় এ তকবীর ৯ তারিখের ফজর থেকে শুরু করবে এবং ১৩ তারিখের আসর পর্যন্ত চলবে। এতে মতভেদও আছে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ উক্তি এটাই। নামাযসমূহের পরে এ তকবীর বলতে হবে ; কিন্তু ফরয নামাযের পরে পড়ার উপর জোর বেশী। 

(২) ঈদের দিনের সকালে গোসল করবে, সাজগোজ করবে এবং সুগন্ধি ব্যবহার করবে। পুরুষদের জন্যে চাদর ও পাগড়ী উত্তম। 

(৩) এক পথে ঈদগাহে যাবে এবং অন্য পথে ফিরে আসবে। রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) তাই করেছেন। তিনি যুবতী নারী ও পর্দানশীনদেরকেও ঈদে যেতে অনুমতি দিতেন। 
(হানাফি মাযহাবে তা নিশেধাজ্ঞা আছে। কারণ পরবর্তীতে হযরত ওমর (রঃ) মহিলাদের মসজিদে গমনে নিষেধাজ্ঞা করেছিলেন)।

(৪) ঈদের নামাযের জন্যে শহরের বাইরে যাওয়া মোস্তাহাব। কিন্তু মক্কা মোয়াযযমা ও বায়তুল মোকাদ্দাসে মসজিদে নামায পড়া উচিত। বৃষ্টি বর্ষিত হলে মসজিদে ঈদের নামায পড়াতে দোষ নেই। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন না হলে ইমাম দুর্বল ও অক্ষম ব্যক্তিদেরকে মসজিদে নামায পড়িয়ে দেয়ার অনুমতি কোন ব্যক্তিকে দেবেন এবং নিজে সমর্থ লোকদেরকে নিয়ে বাইরে যাবেন। সকলেই তকবীর বলতে বলতে ঈদগাহে যাবে। 

(৫) সময়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। ঈদের নামাযের সময় সূর্যোদয়ের পর থেকে সূর্য ঢলে পড়া পর্যন্ত। কোরবানী করার সময় ১০ তারিখে সূর্যোদয়ের এতটুকু পরে শুরু হয়, যতটুকু সময়ের মধ্যে দু'রাকআত নামায ও দু’খোতবা হয়ে যায়। এর পর এই সময় ১৩ তারিখের শেষ পর্যন্ত থাকে। ঈদুল আযহার নামায সকালে পড়া মোস্তাহাব৷ কেননা, নামাযের পরে কোরবানী করতে হয়। ঈদুল ফেতরের নামায দেরীতে পড়া মোস্তাহাব। কেননা, এ নামাযের আগে সদকায়ে ফেতর বন্টন করতে হয়। এটা রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর তরীকা। 

(৬) ঈদের নামাযের ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে, যাতে মানুষ তকবীর বলতে বলতে ঈদগাহে যায়। ইমাম সেখানে পৌঁছে বসবে না এবং নফল পড়বে না। অন্যেরা নফল পড়তে পারে। এর পর একজন ঘোষক  'নামায শুরু হচ্ছে' বলে উচ্চ স্বরে ঘোষণা করবে। 
অতঃপর ইমাম দু'রাকআত পড়বে। প্রথম রাকআতে তকবীরে তাহরীমা ও রুকুর তকবীর ছাড়া তিন বার আল্লাহু আকবার বলবে।
এর পর 'আলহামদুর পরে সূরা ক্বাফ পাঠ করবে এবং দ্বিতীয় রাকআতে 'সুরা কামার' পড়বে। 
দ্বিতীয় রাকআতে কেরাআত শেষে অতিরিক্ত তিন তকবীর বলবে।
এর পর দুটি খোতবা পাঠ করবে এবং মাঝখানে বসবে। 
(৭) ভেড়া কোরবানী করবে। রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) স্বহস্তে একটি ভেড়া যবেহ করেন এবং বলেন : "শুরু আল্লাহর নামে। আল্লাহ মহান। এটা আমার পক্ষ থেকে এবং আমার উম্মতের সেই ব্যক্তির পক্ষ থেকে, যে কোরবানী করেনি" 
এক হাদীসে এরশাদ হয়েছে- "যেব্যক্তি যিলহজ্জের চাঁদ দেখে এবং তার কোরবানী করার ইচ্ছা থাকে , সে যেন চুল ও নখ না কাটে"। হযরত আবু আইউব আনসারী (রাঃ) বলেন রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর আমলে একজন তার গোটা পরিবারের পক্ষ থেকে একটি ছাগল কোরবানী করত এবং তারা সকলেই খেত ও খাওয়াত। তিন দিন অথবা আরও বেশী দিন কোরবানীর গোশত খাওয়া জায়েয। প্রথমে এটা নিষিদ্ধ ছিল। পরে অনুমতি দেয়া হয়েছে।
সুফিয়ান সওরী (রঃ) বলেনঃ ঈদুল ফেতরের পর বার রাকআত ও ঈদুল আযহার পর ছয় রাকআত নামায পড়া মোস্তাহাব। এটা মসনূন আমল। 

পরবর্তী পর্ব

মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল, ২০২৪

নফল নামায (পর্ব - ৬) শনিবার রাত্রি ও দিনের নফল নামাজ



নফল নামায - (পর্ব - ৬)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
শনিবার রাত্রি ও দিনের নফল নামাজ

শনিবার রাত্রির নফল নামাজ (শুক্রবার বিনগত রাত)
হযরত আনাস (রঃ)-এর বর্ণনায় রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন : যে শনিবার রাতে মাগরিব ও এশার মাঝখানে বার (১২) রাকআত নামায পড়ে, তার জন্যে জান্নাতে একটি প্রাসাদ তৈরী করা হবে। সে যেন প্রত্যেক মুমিন পুরুষ ও নারীকে খয়রাত বন্টন করল। তাকে ক্ষমা করা আল্লাহ নিজের জন্যে জরুরী করে নেন। 

শনিবার দিনের নফল নামাজ
হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ)-এর রেওয়ায়েতে রসূলে করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: যেব্যক্তি শনিবার দিন চার রাকআত নামায পড়ে, প্রত্যেক রাকআতে আলহামদু একবার ও সূরা কাফিরূন তিন বার এবং নামাযান্তে আয়াতুল কুরসী পাঠ করে, আল্লাহ তাআলা তার জন্যে প্রত্যেক অক্ষরের বদলে এক হজ্জ ও এক ওমরার সওয়াব লেখেন, এক বছরের দিনের রোযা ও রাতের এবাদতের সওয়াব দান করেন, এক শহীদের সওয়াব দেন এবং কেয়ামতে পয়গম্বর ও শহীদগণের সাথে আরশের ছায়াতলে স্থান দেবেন।

পরবর্তী পর্ব

নফল নামায (পর্ব - ৫) শুক্রবার রাত্রি ও দিনের নফল নামাজ



নফল নামায - (পর্ব - ৫)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
শুক্রবার রাত্রি ও দিনের নফল নামাজ

শুক্রবার রাত্রি ও দিনের নফল নামাজ
শুক্রবার রাত্রির নামাজ-
(১) হযরত জাবের (রঃ)-এর রেওয়ায়েতে রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন : যে শুক্রবার রাতে মাগরিব ও এশার মাঝখানে বার (১২) রাকআত নামায আদায় করে- প্রত্যেক রাকআতে 
> আলহামদু একবার এবং 
> এখলাস এগার বার পাঠ করে, 
সে যেন আল্লাহ তাআলার এবাদত বার বছর পর্যন্ত এভাবে করল, দিনের বেলায় রোযা রাখল এবং রাতে নফল নামায পড়ল। 

(২) হযরত আনাস (রঃ) এর বর্ণনায় রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন যে শুক্রবার রাতে জামাআতের সাথে এশার নামায পড়ে, উভয় সুন্নত পড়ে এবং ফরয ও সুন্নতের পর দশ রাকআত নামায পড়ে, প্রত্যেক রাকআতে আলহামদু, এখলাস, ফালাক ও নাস এক এক বার পাঠ করতঃ বেতেরের তিন রাকআত পড়ে এবং ডান পার্শ্বে কেবলামুখী হয়ে শুয়ে থাকে, সে যেন সমগ্র রাত্রি নফল নামায পড়ল।

(৩) রসূলে করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ উজ্জ্বল দিনে আমার প্রতি অধিক দরূদ পাঠ কর অর্থাৎ শুক্রবার রাত্রি ও দিনে। 

শুক্রবার দিনের নফল নামাজ-
(১) হযরত আলী (রাঃ)-এর রেওয়ায়েতে নবী করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন : জুমআর দিন একটি নামায আছে। যে মুমিন বান্দা সূর্য পূর্ণরূপে উদিত হওয়ার পর পূর্ণরূপে ওযু করে ঈমান ও সওয়াবের আশায় চাশতের 
>দু'রাকআত নামায পড়ে, তার জন্যে আল্লাহ তাআলা দুশ' নেকী লিখেন এবং দুশ' গোনাহ মার্জনা করেন।
>যে চার রাকআত পড়ে আল্লাহ তাআলা জান্নাতে তার চারশ' মর্তবা উঁচু করে দেন। 
>যে আট রাকআত পড়ে, তার আটশ' মর্তবা উঁচু করেন এবং সকল গোনাহ মাফ করে দেন। আর 
>যে বার রাকআত পড়ে, তার জন্যে বারশ' নেকী লিপিবদ্ধ করেন, বারশ' কুকর্ম তার আমলনামা থেকে দূর করে দেন এবং জান্নাতে বারশ’ মর্তবা উঁচু করেন৷ 

(২) হযরত ইবনে ওমর (রাঃ)-এর রেওয়ায়েতে রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন  : যেব্যক্তি জুমআর দিন জামে মসজিদে প্রবেশ করে এবং জুমআর পূর্বে চার রাকআত নামাযে প্রত্যেক রাকআতে আলহামদু একবার, সূরা এখলাস পঞ্চাশ বার পাঠ করে, সে মৃত্যুর সময় জান্নাতে তার ঠিকানা দেখে নেবে অথবা তাকে দেখিয়ে দেয়া হবে।

পরবর্তী পর্ব

নফল নামায (পর্ব - ৪) বৃহস্পতিবার রাত্রি ও দিনের নফল নামাজ



নফল নামায - (পর্ব - ৪)
📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)

বৃহস্পতিবার রাত্রি ও দিনের নফল নামাজ
বৃহস্পতিবার রাত্রি ও দিনের নামাজ
বৃহস্পতিবার রাত্রির নামাজ- 
হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ)-এর রেওয়ায়েতে রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন : যে ব্যাক্তি বৃহস্পতিবার রাতে মাগরিব ও এশার মাঝখানে দু'রাকআত নামায পড়ে- প্রত্যেক রাকআতে- 
> আলহামদু পাঁচ বার, 
> আয়াতুল কুরসী পাঁচ বার, 
> সুরা এখলাস পাঁচ বার,
> সুরা ফালাক পাঁচ বার,
> সুরা নাস পাঁচ বার,

> এবং নামাযান্তে পনর বার এস্তেগফার পাঠ করে, 
> সওয়াব পিতামাতাকে বখশে দেয়, 

পিতামাতার হক তার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যায়, যদিও সে পিতামাতার অবাধ্যতা করে। আল্লাহ তাআলা তাকে এমন বস্তু দেবেন, যা সিদ্দীক ও শহীদগণকে দেবেন।

বৃহস্পতিবার দিনের নামাজ:
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর রেওয়ায়েতে রসূলে করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন : যেব্যক্তি বৃহস্পতিবার দিন যোহর ও আসরের মধ্যে দু'রাকআত নামায পড়ে, 
>প্রথম রাকআতে আলহামদু একবার, আয়াতুল কুরসী একশ' বার এবং 
>দ্বিতীয় রাকআতে আলহামদু একবার, সূরা এখলাস একশ' বার এবং দরূদ একশ’ বার পাঠ করে।
 
তাকে আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তির সওয়াব দান করবেন, যে রজব, শাবান ও রমযানের রোযা রাখে। তাকে হজ্জের সমান সওয়াব দান করা হবে। আল্লাহ তাআলা তার জন্যে মুমিন ও তাওয়াক্কুলকারীদের সংখ্যা পরিমাণে সওয়াব লেখবেন। 

পরবর্তী পর্ব


বিবাহ (৩৫) কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ

বিবাহ  (পর্ব – ৩৫)  📚এহইয়াউ উলুমিদ্দিন ✍🏻ইমাম গাজ্জালী (রহ.)  কন‍্যার বিয়েতে আদব সংক্রান্ত উপদেশ — পিতামাতার উপর কন্যা সন্তানের হক তাদেরক...